বাংলা ফন্ট

কারাগারে রাজকীয় হালে তুফান বাহিনী: পায় ফেনসিডিল

19-08-2017
নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম

 কারাগারে রাজকীয় হালে তুফান বাহিনী: পায় ফেনসিডিল
বগুড়া: বগুড়ায় ছাত্রী ধর্ষণ ও মা-মেয়েকে ন্যাড়া করার আলোচিত নারী নির্যাতন মামলায় বহিষ্কৃত শ্রমিক লীগ নেতা তুফান সরকার ও অন্য আসামিরা টাকার বিনিময়ে বগুড়া জেলে রাজকীয় জীবন-যাপন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি মাদকাসক্ত তুফান জেলে বসেই ফেনসিডিল পাচ্ছে বলেও জানা গেছে।

অভিযোগ উঠেছে, দর্শনার্থী কক্ষে ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে কথা বলছেন তুফান ও তার পরিবারের সদস্যরা। তারা জেলের মেডিক্যালে থাকছেন, বাড়ি থেকে দেওয়া খাবার খাচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, জেল সুপারের কক্ষে ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রীর সঙ্গে তুফানকে কথা বলার সুযোগ করে দিয়েছে জেল কর্তৃপক্ষ।

বগুড়ার জেল সুপার ওই ছাত্রীর সঙ্গে তুফানের কথা বলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করলেও তুফানের কাছে ফেনসিডিল পৌঁছে যাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। জেল সুপার মোকাম্মেল হক বলেন, ‘দর্শনার্থী কক্ষে পাইপ দিয়ে তুফানকে ফেনসিডিল খাওয়ানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। এছাড়া প্রাচীরের বাইরে থেকে ফেনসিডিল ভেতরে নিক্ষেপ করা হলেও সেটা কার কাছে যাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’

সম্প্রতি বগুড়া জেল থেকে জামিনে ছাড়া পাওয়া কয়েকজন হাজতি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, জেলে আসার পর থেকেই তুফান, রুমকিসহ অন্য আসামিদের বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। তাদের জন্য কয়েকজন কারারক্ষী নিয়োগ করা হয়। প্রথম ২-৪ দিন তারা জেলের খাবার খেলেও পরবর্তীতে বাড়ি থেকে পাঠানো খাবার খান। জেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহযোগিতায় তুফান সরকার ও অন্যরা দর্শনার্থী কক্ষে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলার সুযোগ পান। ওই সুযোগে দর্শনার্থী কক্ষে স্যালাইনের পাইপের মাধ্যমে তুফানকে ফেনসিডিল খাওয়ানো হয়। এ সময় সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত রক্ষীরা পাহারা দেন।

জানা যায়, গত ১২ আগস্ট দর্শনার্থী কক্ষে তুফানকে ফেনসিডিল খাওয়ানোর সময় রওশন আরা নামে এক নারী কারারক্ষী বিষয়টি হাতেনাতে ধরে ফেলেন। পরে জেল সুপারকে তিনি বিষয়টি জানান। এরপর থেকেই প্রাচীরের ওপার থেকে ফেনসিডিলের বোতল নিক্ষেপ শুরু হয়। কারারক্ষীদের সহায়তায় পছন্দের লোকজন বোতলটি তুফানের কাছে পৌঁছে দিতে থাকেন। সর্বশেষ ১৬ আগস্ট বুধবার বিকালের দিকে দক্ষিণ পাশ থেকে এক বোতল ফেনসিডিল জেলের মধ্যে নিক্ষেপ করা হয়। এ সময় বাবুল নামে এক হাজতি সেটা তুফানের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সময় এক কারারক্ষী তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। এ অপরাধে শহরের ঠনঠনিয়া এলাকার মাদক মামলার হাজতি বাবুলকে সেলে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেল সুপার।

ছাড়া পাওয়া কয়েদিরা আরও অভিযোগ করেন, গত ৭ আগস্ট নির্যাতিত ছাত্রী ও তার মাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। সেদিনই রাত ৯টার মধ্যে তুফানকে লকআপ থেকে এনে সুপারের কক্ষে ছাত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করানো হয়েছে। তুফান নিজেই সাক্ষাতের বিষয়টি জেলের কয়েকজন রক্ষীর কাছে স্বীকার করেছে। তুফান তাদের বলেন, ছাত্রী মামলা তুলে নেবে এবং বিনিময়ে সে তাকে বিয়ে করবে।

এ বিষয়ে সদর থানার ওসি (তদন্ত) আসলাম আলী জানান, তিনি রাত সাড়ে ১০টার দিকে ছাত্রী ও তার মাকে কারাগার থেকে থেকে বুঝে নিয়েছিলেন। সেদিন রাতে ডিবি অফিসে রাখার পরদিন সকালে তাদের রাজশাহীতে নিয়ে যান। তবে হাসপাতাল থেকে কেন তাদের কারাগারে নিয়ে যাওয়া হলো, সে বিষয়ে তিনি কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি।

এ বিষয়ে জেল সুপার বলেন, ‘রাতে লকআপ থেকে কোনও হাজতি ও কয়েকদিকে বের করার সুযোগ নেই। তাই আমার কক্ষে ভিকটিমের সঙ্গে তুফান সরকারের সাক্ষাৎ করানোর অভিযোগটি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। ওই মামলার আসামিদের মধ্যেও কেউ মেডিক্যালে নেই। তারা সাধারণ বন্দির মত রয়েছেন।’

তবে হাজতি ও নির্ভরযোগ্য সূত্র বলেছে, জেলের নারী ওয়ার্ডে রুমকি, বোন আশা ও মা রুমি রয়েছেন। আর তুফানকে কারা মেডিক্যালে রাখা হয়েছে। তবে তুফানের মেডিক্যালে থাকার বিষয়টি কারা কর্তৃপক্ষ অস্বীকার করছেন।

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম/এইচএমএল


সর্বশেষ সংবাদ