বাংলা ফন্ট

স্ত্রীর মর্যাদার দাবিতে শিক্ষকের বাড়িতের ছাত্রীর অনশন

04-05-2017
নিজস্ব প্রতিনিধি ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম

 স্ত্রীর মর্যাদার দাবিতে শিক্ষকের বাড়িতের ছাত্রীর অনশন
নওগাঁ: নওগাঁর আত্রাই উপজেলার জয়পুর সরদার পাড়া গ্রামে স্বামীর বাড়িতে স্ত্রীর মর্যাদার দাবিতে তিন দিন ধরে অনশন করছেন মাহফুজা মিলি (২২) নামে এক তরুণী।

মাহফুজা মিলি রাজশাহী জেলার পুটিয়া উপজেলার ছাতার পাড়া গ্রামের বোরহান উদ্দিনের মেয়ে।

স্ত্রীর অধিকার পেতে স্বামী রিপন সরদারের বাড়িতে অবস্থান নেয়ায় স্বামীর আত্মীয়স্বজন তাকে শারীরিক নির্যাতন করে তাড়িতে দিয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

মঙ্গলবার বিকেল থেকে প্রতিবেশী আব্দুর রাজ্জাকের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন ওই তরুণী। ঘটনার পর থেকে রিপন বাড়িতে নেই।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুই বছর আগে রিপন সরদারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে প্রথমে বন্ধুত্ব হয়। এ সম্পর্ক থেকে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। গত তিন মাস আগে পরিবারের অসম্মতিতে আব্দুল হামিদের ছেলে রিপন সরদারকে বিয়ে করে।

এরপর নওগাঁ শহরের একটি ভাড়া বাসায় কিছুদিন বসবাস করে মিলি তার বাবার বাড়িতে চলে যায়। মিলি বর্তমানে নাটোরের নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা কলেজের বাংলা দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। রিপন নওগাঁর আত্রাই উপজেলার বান্দাইখাড়া টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের শিক্ষক।

গত এক মাস আগে মিলি তার স্বামী রিপনের গ্রামের বাড়িতে গেলে স্বামীর পরিবারের লোকজন অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়।

সর্বশেষ গত ৩০ এপ্রিল স্ত্রীর অধিকারের দাবিতে আবারো রিপনের গ্রামের বাড়িতে গেলে ছোট বোন সীমা, চাচা বারিক ও তার স্ত্রী শারীরিক নির্যাতন করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়।

গত তিন দিন থেকে মিলিকে শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে বলেও জানা যায়। অবশেষে মিলি প্রতিবেশী আব্দুর রাজ্জাকের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। তবে রিপন অন্য জায়গায় বিয়ে করার কথা থাকায় মিলিকে স্ত্রী বলে স্বীকার করা হচ্ছে না।

স্থানীয় শাহিদা, শাহনাজ ও ওয়াজেদ আলীসহ কয়েকজন বলেন, প্রেমের সম্পর্ক করে তাদের বিয়ে হয়। গত তিন দিন আগে রিপনের বাড়ির দরজায় এসে বসে থাকায় তাকে মারপিট করা হয়।

এছাড়া বাহির থেকে কয়েকজন মহিলাকে নিয়ে এসে মারপিট করে। তখন গ্রামের সবাই একত্রিত হয়ে আব্দুর রাজ্জাকের বাড়িতে রাখে মেয়েটিকে। আমরা প্রতিবেশীরা চাই মেয়েটিকে স্ত্রীর অধিকার ফিরিয়ে দেয়া হোক।

মাহফুজা মিলি বলেন, বিয়ের পর ৫ লাখ টাকা দাবি করা হয়। এতো টাকা দেয়ার মতো সামর্থ্য আমার পরিবারের নেই। এছাড়া সংসার করবে না এবং আমার প্রতি তার কোনো আগ্রহ নেই বলেও জানানো হয়। তার সঙ্গে ফোনেও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। এখন অন্য জায়গায় তার বিয়ের জন্য মেয়ে দেখা হচ্ছে বলেও শুনছি। আমি আমার অধিকার ফিরে পেতে চাই।

স্থানীয় ইউপি চেয়াম্যান বেলাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আমরা বিষয়টি নিয়ে বসেছিলাম। দুই পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছে মেয়েটিকে স্ত্রীর অধিকার দেয়ার জন্য।

মহাদেবপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ছেলের বাবা আব্দুল হামিদ একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বলেছেন, অপরিচিত এক মেয়ে স্ত্রীর অধিকারের দাবিতে তার বাড়িতে অবস্থান নিয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হলে বিয়ের কাগজপত্র দেখে প্রমাণিত হয় মেয়েটি তার ছেলের স্ত্রী।

তবে দুই পক্ষ থেকে আদালতে মামলাও চলমান আছে। মেয়েকে যে নির্যাতন করা হয়েছে এ ব্যাপারে অভিযোগ দিলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম/এইচএমএল


সর্বশেষ সংবাদ