বাংলা ফন্ট

শামুক কুড়িয়ে সংসার চলে ওদের

22-03-2017
নিজস্ব প্রতিনিধি ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম

শামুক কুড়িয়ে সংসার চলে ওদের

নওগাঁ: নিজস্ব জমি-জমা নেই এদের প্রায় কারোরই। কারো কারো আছে ভিটে মাটি টুকু। বছরের ধান ও গম মৌসুমে পরের জমিতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন তারা। তবে বর্ষা আর শীতের শুরু পর্যন্ত এদের হাতে থাকেনা তেমন কোনো কাজ। বেচেঁ থাকার মতো বিকল্প কোনো উপায় না থাকায় এসব লোকজন বিভিন্ন বিল-ঝিল আর খাল থেকে শামুক কুড়িয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। এসব শামুক প্রকৃতি ও কৃষির জন্য উপকারী হলেও সে সম্পর্কে জানেন না তারা। বেচেঁ থাকার জন্যই শামুক কুড়িয়ে সংসার চলে এসব পরিবারের।

শামুক কুড়ানী এসব মানুষদের বাস সাপাহার উপজেলার বিন্যাকুড়ী আদিবাসী পাড়া সহ উপজেলার বেশ কয়েকটি আদিবাসী পাড়াই। উপজেলার কালিন্দা বিলে শামুক কুড়ানী মানুষের দেখা মিললেও এদের অধিকাংশের বসবাস উপজেলা বিন্যাকুড়ী আদিবাসী পাড়া। এসব গ্রামের বিল ও ঝিল সংলগ্ন নিচু জমিতে বর্ষাকালে বিল বিশাল আকার ধারন করে। তখন পানিতে সয়লাভ হয়ে যায় বিস্তীর্ণ এলাকা। ফলে এসব এলাকার আদিবাসীরা শামুক কুড়িয়ে বছরের নির্দিষ্ট একটা সময় সংসারের খরচা চালায়। এসব বিল-ঝিল ও খালে বর্ষার পানি নামতে শুরু করলেই দেখা মেলে প্রচুর শামুকের। শীতের শুরু পর্যন্ত শামুকের প্রাচুর্য থাকে।

শামুক কুড়ানীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, নিজেদের জমি-জমা না থাকায় প্রায় সারা বছরই তারা পরের জমিতে কাজ করে সংসার চালান। কিন্তু বর্ষাকাল থেকে শীতের শুরু পর্যন্ত তেমন কৃষিকাজ না থাকায় সংসার চালাতে হিমসিম খান তারা। তাই বর্ষার শেষ থেকে শীতের শুরু পর্যন্ত আশপাশের খাল-বিল থেকে শামুক সংগ্রহ করেন তারা। এ কাজে তাদের পরিবারের নারী ও শিশুরা অংশ নেয়।

তারা জানান, উপজেলার বিভিন্ন হিন্দু পল্লীতে শামুকের বেশ চাহিদা। বিল থেকে শামুক সংগ্রহ করা হলে এসব শামুক বস্তাবন্দী করে বিভিন্ন গ্রামে তারা বিক্রি করেন। তবে এজন্য তাদের তেমন কষ্ট করতে হয়না। শামুক কুড়িয়ে বস্তাভর্তি করা পর্যন্ত তাদের কাজ। এরপর পরিবারের অন্য সদস্যরা বিভিন্ন হিন্দু পল্লীতে নিয়ে গেলেই নির্দিষ্ট ক্রেতারা তা কিনে নেয়।

জানা যায়, হিন্দু পল্লীতে শামুকের বেশ চাহিদা থাকায় হতদরিদ্র এসব আদিবাসী নারী-পুরুষ বিলে গিয়ে শামুক সংগ্রহ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করে। প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা কাজ করে একজন আদিবাসী এক বস্তার মতো শামুক কুড়াতে পারেন। নারী ও শিশুদের ক্ষেত্রে তা কম হয়। তবে আবহাওয়া ভালো ও প্রাচুর্য্য থাকলে দুই বস্তা পর্যন্ত শামুক পাওয়া যায়। বস্তাপ্রতি শামুক ১৫০-২৫০ টাকায় বিক্রি হয়।

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম/এইচএমএল

সর্বশেষ সংবাদ