বাংলা ফন্ট

সিলেটে ১০ বছরে এসএসসি পরীক্ষার্থী বেড়েছে ৮০ হাজার

25-01-2018
নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম

 সিলেটে ১০ বছরে এসএসসি পরীক্ষার্থী বেড়েছে ৮০ হাজার
সিলেট: ২০০৮ সালে সিলেটে মাধ্যমিক সদন পরীক্ষা (এসএসসি) পরীক্ষার্থী ছিল ৩১ হাজার ৮১৭। চলতি বছরে যা ১ লাখ ৯ হাজার ছাড়িয়েছে। গত দশ বছরে সিলেট শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থী বৃদ্ধির সংখ্যা প্রায় ৮০ হাজারেরও বেশি।

পাসের হারের দিক থেকেও এগিয়ে গেছে এ অঞ্চল। তবে, মাঝামাঝি সময়ে পাসের হার কিছুটা কিছুটা কমেছে। জিপিএ ৫ পাওয়ার সংখ্যাও ওঠানামা করেছে।

দশ বছরের মধ্যে ২০১২ সালে সর্বোচ্চ ৯১ দশমিক ৭৮ শতাংশ পাস করে। পরবর্তীতে আর পাসের হার নব্বই স্পর্শ করতে পারেনি। ২০১৪ সালে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৩৪১ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে।

২০০৮ সালে সিলেট শিক্ষাবোর্ডে এসএসসি পাসের হার ছিল ৫৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ। পাস করেছে ১৭ হাজার ১শ’ শিক্ষার্থী। ওই বছর জিপিএ ৫ পেয়েছিল ৬২৩জন শিক্ষার্থী।

২০০৯ সালে পরীক্ষার্থী ছিল ৩৭ হাজার ৫৮৪। উত্তীর্ণ হয়েছে ২৯ হাজার ৪৪৩জন। পাসের হার ছিল ৭৮ দশমিক ৭১। বোর্ডে তখনই প্রথম হাজার সংখ্যার বেশি জিপিএ ৫ এসেছিল সিলেট বোর্ডে। সে বছর ১৮শ‘ ৯৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ ৫ পায়।

২০০৯ সাল থেকে ক্রমান্বয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। ২০১০ সালে প্রায় ৪ হাজার পরীক্ষার্থী বাড়ে। ৪১ হাজার ৩শ’ ৬ শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করে ৩২ হাজার ৩৩৬ জন। পাসের হার আগের বছরের তুলনায় কিছুটা নমিত হয়। ৭৮ দশমিক ৪২ শতাংশ পাস করলেও তখন জিপিএ ৫ বেড়ে হয় ১৯শ’ ৭৮।

২০১১ সালে আরো ৭ হাজার যোগ হয়ে সিলেট বোর্ডে পরীক্ষার্থী হয় ৪৮ হাজার ৫৭৫জন। এর মধ্যে ৩৯ হাজার ৩৭৮জন উত্তীর্ণ হয়। পাসের হার ছিল ৮১ দশমিক ২৩। জিপিএ ৫ এর সংখ্যা ২ হাজার ছাড়িয়ে যায়। ২ হাজার ১৪৮ শিক্ষার্থী জিপিএ ৫ প্রাপ্ত হয়।

পরের বছর অর্থাৎ, ২০১২ সালে এসএসসি পরীক্ষায় সিলেটের ফলাফল ছিল আকাশচুম্বি। ৯১ দশমিক ৭৮ শতাংশ পাস করে দেশ সেরা হয় সিলেট বোর্ডে। সে বছর ৫৮ হাজার ৫৩৭ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৫৩ হাজার ৫৭৯ জন উত্তীর্ণ হয়। জিপিএ ৫ পায় ২ হাজার ৬১১জন।

পরের বছর পরীক্ষার্থী সংখ্যা না বাড়লেও জিপিএ ৫ প্রাপ্তির সংখ্যা বাড়ে। সে বছর ২হাজার ৭৮৯ জন জিপিএ ৫ পায়। তবে, পাসের হারের দিক থেকে কিছুটা অবনতি লক্ষ্য করা যায়। ২০১৩ সালে ৫৮ হাজার ৬শ’ ৭২ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫২ হাজার ৪৫ জন উত্তীর্ণ হয়। পাসের হার ছিল ৮৮ দশমিক ৯৬।

২০১৪ সালে আগের বছরের তুলনায় ১০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী এসএসসিতে অংশ নেয়। মোট ৬৮ হাজার ২৪৯ জনের মধ্যে পাস করে ৬০ হাজার ৭৫০জন। পাসের হার ছিল ৮৯ দশমিক ২৩। শিক্ষার্থী বৃদ্ধি আর পাসের হারের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে জিপিএ ৫ প্রাপ্তি। এ বছর জিপিএ ৫ এর সংখ্যা ৩ হাজারের কোটায় পৌঁছায়। ৩ হাজার ৩৪১ জন জিপিএ ৫ পাপ্ত হয়।

পরের বছর থেকে পাসের হার, জিপিএ ৫ পাওয়ার সংখ্যাটা কিছু কমতে থাকে। যদিও পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারি শিক্ষার্থীর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়তে থাকে।

২০১৫ সালে ৭২ হাজার ১৮৮ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। ৮৯ থেকে এক লাফে পাসের হার নেমে আসে ৮১ দশমিক ৮২ শতাংশে। ৫৮ হাজার ৯৩২ পাস করে। জিপিএ ৫ পায় ২ হাজার ৪৫২জন।

২০১৬ সালে পরীক্ষার্থী বাড়ে প্রায় ১২ হাজার। ৮৪ হাজার ৬৩৩জন অংশ নিয়ে পাস করে ৭১ হাজার ৫৮৬ জন। পাসের হার কিছুটা বেড়ে হয় ৮৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ। তবে জিপিএ ৫ আরো কমে হয় ২ হাজার ২৬৬।
সর্বশেষ ২০১৭ সালে আরো দশ হাজার যোগ হয়ে পরীক্ষার্থী সংখ্যা ৯৪ হাজার ১৪১ জন হলেও পাসের হারের দিক থেকে আরো অবনতি হয়। ৮০ দশমিক ২৬ শতাংশ শিক্ষার্থী অর্থাৎ, ৭৫ হাজার ৩৭৪জন উত্তীর্ণ হয়। জিপিএ ৫ কিছুটা বেড়ে হয় ২ হাজার ৬৬৩।

আগামী ফেব্রুয়ারিতে সিলেট বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিতব্য এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য রেজিস্ট্রেশনের সংখ্যা ইতিমধ্যে লাখ ছাড়িয়েছে। শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. কবির আহমদ জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৯ হাজার ছেলেমেয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে। এ সংখ্যা কিছুটা বাড়তে পারে।
বোর্ডের মধ্যে জেলা ভিত্তিক সিলেটে ৩৮ হাজার ৬২৪, হবিগঞ্জে ২২ হাজার ৩৮২, মৌলভীবাজারে ২৪ হাজার ৫০৫ ও সুনামগঞ্জে ২৩ হাজার ৪৯৩জন পরীক্ষার্থী রয়েছে।

কবির আহমদ বলেন, এসএসসি পরীক্ষা গ্রহণের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। পরীক্ষাগুলোতে এবার কঠোর নিরাপত্তা জোরদার থাকবে। নকলমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ পরীক্ষা গ্রহণে আমরা সবধরণের করণীয় নির্ধারণ করব।

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম/এইএমএল





সর্বশেষ সংবাদ