বাংলা ফন্ট

বিয়ের ৩ মাসেই লাশ, যুক্তরাষ্ট্র যাওয়া হলো না লিজার

04-11-2017
নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম

 বিয়ের ৩ মাসেই লাশ, যুক্তরাষ্ট্র যাওয়া হলো না লিজার
সিলেট: লিজার বিয়ে হয়েছিল মাত্র তিন মাস আগে। বিয়ের পর যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান স্বামী। স্ত্রী অপেক্ষায় ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র যাওয়ার। এর মধ্যেই শুক্রবার সকালে ফ্ল্যাটবাড়ির বারান্দা থেকে উদ্ধার হলো লিজার লাশ।

শুক্রবার সকালে সিলেট নগরের সুবিদবাজার এলাকার ‘কর্ণারভিউ’ নামের ফ্ল্যাটবাড়ির সপ্তম তলার কক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মাহতাব উদ্দিনের স্ত্রী লিজা বেগমের (২৪)। মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

স্বামী মাহতাব উদ্দিনের পরিবার দাবি করেছে লিজাকে যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে যেতে কিছু প্রতিবন্ধকতা দেখা দেওয়ায় ক্ষোভ হতাশায় লিজা আত্মহত্যা করেছেন। তবে লিজার স্বজনেরা বলছেন, লিজাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

সুরতহাল প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে পুলিশ বলছে, বারান্দায় লাশটি ঝুলন্ত থাকলেও পা মেঝেতে ছিল। আত্মহত্যার মরদেহ এভাবে দেখা যায় না। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।

নিহত লিজার পরিবার সূত্র জানায়, সিলেটের বিয়ানীবাজারের কুড়ারবাজার ইউনিয়নের আঙ্গুরা মোহাম্মদপুর গ্রামের জালাল উদ্দিনের মেয়ে লিজা বেগমের সঙ্গে গত ৪ আগস্ট পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়েছিল মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার হাটবন গ্রামের মাহতাব উদ্দিনের।

বিয়ের পর থেকে সিলেট নগরের ফ্ল্যাটবাড়িতে নিজের পরিবারের সঙ্গে স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন মাহতাব উদ্দিন। সম্প্রতি তিনি যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। লিজার মামা ইকবাল আহমদ চৌধুরী বলেন, মাহতাব উদ্দিন প্রথম বিয়ে গোপন রেখে লিজাকে বিয়ে করেছিলেন। বিয়ের পর প্রথম বিয়ের বিষয়টি জানাজানি হলে এ নিয়ে লিজার সঙ্গে তার সম্পর্ক তিক্ততায় গড়ায়।

সম্প্রতি মাহতাব যুক্তরাষ্ট্র যাওয়ার পর থেকে তার পরিবারের সদস্যরা লিজাকে নানাভাবে নির্যাতন করতেন বলে তারা শুনেছেন।

এদিকে ওই বাড়িতে মাহতাবের পরিবারের কারা থাকতেন, এ বিষয়ে পুলিশও নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছে না।

কর্ণারভিউয়ে গিয়েও মাহতাবের পরিবারের কারো সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে সপ্তম তলায় মাহতাবের ফ্ল্যাটের প্রতিবেশী একজন বললেন, মাহতাব দেশে থাকাকালে লিজার সঙ্গে নিয়মিত ঝগড়া হতো।

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম/এইএমএল





সর্বশেষ সংবাদ