বাংলা ফন্ট

সুরমার ভাঙনের ঝুঁকিতে ছাতক দোয়ারাবাজার সড়ক

24-10-2017
নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম

 সুরমার ভাঙনের ঝুঁকিতে ছাতক দোয়ারাবাজার সড়ক
সুনামগঞ্জ: সুরমা নদীর ভাঙনের ঝুঁকিতে আছে ছাতক-দোয়ারাবাজার সড়ক। অব্যাহত ভাঙনে সড়কটির প্রায় এক কিলোমিটার অংশ হুমকির মুখে পড়েছে। অব্যাহতভাবে নদী ভাঙনের ফলে যেকোনো মুহূর্তে ছাতকের সাথে দোয়ারাবাজারের সড়ক যোগাযোগ বিছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। সুরমার উত্তর পারে বসবাসরত ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষ উদ্বিগ্নতায় দিন কাটাচ্ছে। স্থানীয় লোকজন জানান, ১৯৯১-৯২ অর্থ বছরে ছাতকের নোয়ারাই থেকে দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদ পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার সড়ক পাকাকরণ সমাপ্ত হলে ছাতক-দোয়ারাবাজার উপজেলার মানুষের মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে সৃষ্টি হয় এক নতুন মাইলফলক। ছাতক-দোয়ারাবাজার উপজেলা নিয়ে (সুনামগঞ্জ-৫) সংসদীয় আসন হওয়ায় দু’উপজেলার মানুষের মধ্যে রাজনৈতিক-সামাজিকসহ সর্বক্ষেত্রে রয়েছে একটি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। কিন্তু সুরমার কূল ঘেঁষা সড়কটি বারবার নদী ভাঙনের মুখে পড়েছে। পাকা সড়ক সুরমা নদীর ভাঙনে দু’বার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। সাথে দোকান-পাট ও বহু ফসলি জমিও চলে গেছে সুরমার গর্ভে । সড়ক ও জনপথ বিভাগের এ সড়কটির লক্ষীবাউর এলাকার প্রায় এক কিলোমিটার পাকা সড়ক আবারো পড়েছে মারাত্মক ভাঙনের মুখে। লক্ষীবাউর বাজার জামে মসজিদ ও বাজারের বেশ কয়েকটি দোকান বহু আগেই ভাঙনের মুখে পড়ে বিলীন হয়ে গেছে। সড়কের পাশাপাশি লক্ষীবাউর বাজারটি আবারো নদী ভাঙনের হুমকির মুখে পড়েছে।

লক্ষীবাউর গ্রামের সাইদ আলী ও আব্দুল বারী জানান, সুরমার ভাঙনে ফসলি জমি, দোকান কোঠা হারিয়ে তাদের মতো অনেকেই এখন প্রায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। নদী ভাঙন রোধ করা না গেলে এলাকার ফসলি জমি এক সময় সুরমায় গ্রাস করে ফেলবে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মনির উদ্দিন জানান, সুরমার অব্যাহত ভাঙন এ অঞ্চলের মানুষকে নিঃস্ব করে ফেলছে।  দু’দফা পাকা সড়কসহ ফসলি জমি সুরমা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করে তৃতীয়বারের মতো নির্মিত সড়কটিও মারাত্মক ভাঙনের মুখে পড়েছে। লক্ষীবাউর বাজারের মসজিদটি ইতোমধ্যেই নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। নতুনভাবে নির্মিত মসজিদটিও বর্তমানে হুমকির মুখে রয়েছে। নদী ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে মসজিদসহ লক্ষীবাউর বাজার এবং ছাতক-দোয়ারা সড়কের একটি অংশ নদী ভাঙনের কবল থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে না।

ছাতক সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সজীব আহমদ জানান, বর্ষা মৌসুমে নদী ভাঙনের সচিত্র প্রতিবেদন ও সুপারিশসহ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে। সড়কের ৪টি ঝুঁকিপূর্ণ ব্রীজের (আরসিসি) টেন্ডার দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে একটি ব্রীজের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ব্রীজ ও সড়কের কাজ কিছুদিনের মধ্যেই শুরু হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম/এইএমএল


 




সর্বশেষ সংবাদ