বাংলা ফন্ট

পাথরখেকো চক্র ধ্বংস করছে শাহ আরেফিন টিলা

24-09-2017
নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম

পাথরখেকো চক্র ধ্বংস করছে শাহ আরেফিন টিলা

নিউজ ডেস্ক: পাথরখেকো চক্রের আগ্রাসনে নিশ্চিহ্ন হতে চলেছে কোম্পানীগঞ্জের শাহ আরেফিন টিলা। ছাতক ও কোম্পানীগঞ্জ দুই উপজেলার সীমান্তবর্তী এ টিলা কেটে দীর্ঘদিন ধরে দিন-দুপুরে চলছে পাথর লুট। আগ্রাসনের মাত্রা এতই বৃদ্ধি পেয়েছে যে এক সময়ে শাহ আরেফিন টিলার অস্তিত্ব আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। অবৈধভাবে টিলা কেটে পাথর উত্তোলন ও পরিবেশ ধ্বংসের অভিযোগে মাঝে মধ্যে প্রশাসনের লোক দেখানো অভিযান চললেও পাথরখেকো চক্রটি থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

সরকারি খাস খতিয়ানের ১৩৭ দশমিক ৫০ একর জায়গায় শাহ আরেফিন টিলা বিস্তৃত। লালচে আঠালো মাটির এ টিলার মধ্যে রয়েছে পাথর রাজ্য। সিন্ডিকেটের হয়ে মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে এখানে শ্রমিকদের পাথর উত্তোলন করতে দেখা গেছে। বিভিন্ন সময়ে টিলা ধসে একাধিক শ্রমিকের মৃত্যুও ঘটেছে। টিলা ধসে প্রাণহানির ঘটনায় থানায় মামলা হলেও আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এলাকাবাসীর মতে, এ ব্যাপারে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি থাকলে এখানে শ্রমিকের প্রাণহানি, টিলাকাটা ও পরিবেশ বিনষ্ট হতো না।

ছাতকের ইসলামপুর ইউনিয়নের ছনবাড়ি গ্রামের কৃষকরা জানান, টিলা কাটা মাটির কারণে উত্পাদিত ফসল দু’বার নষ্ট হয়ে গেছে। টিলার মাটির কারণে অনেক আবাদি জমি অনাবাদি জমিতে পরিণত হবে। পাথর ব্যবসায়ী চক্রটি প্রভাবশালী হওয়ায় গ্রামের সাধারণ মানুষ তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে সাহস পাচ্ছে না। এভাবে ধ্বংস হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী শাহ আরেফিন টিলা ও শাহ আরেফিনের মোকাম। খাল দিয়ে পানি নিষ্কাশন বন্ধ হওয়ায় ছাতক উপজেলার রতনপুর, বাহাদুরপুর, কোম্পানীগঞ্জের চিকাডহর ও নোয়াগাঁও মৌজার প্রায় দেড় হাজার একর ফসলি জমি রয়েছে হুমকির মুখে।

জানা গেছে, অপরাধীচক্রটি প্রতিদিনই শত-শত দিনমজুর লাগিয়ে টিলা কেটে পাথর উত্তোলন করে ছাতক ও কোম্পানীগঞ্জের বিভিন্ন নৌ-পথে নিয়ে পাথর বিক্রি করছে। টিলা কেটে পাথর উত্তোলন করে লাখ-লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এসব প্রভাবশালী পাথরখেকো চক্র। আর এ টাকার ভাগ পাচ্ছেন জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিবিদসহ প্রশাসনের লোকজন।  ছাতকের বাহাদুরপুর গ্রামের লিলু মিয়া, কোম্পানীগঞ্জের পাড়ুয়া লামাপাড়া গ্রামের বিলাল আহমদ, এনাম হোসেন, পুরান জালিয়ারপাড় গ্রামের সমশের আলী কালা, ছমাদ মিয়া, চিকাডহর গ্রামের আইয়ূব আলী, কুদ্দুছ মিয়া, শাহ আরেফিন-টিলা জালিয়ার পাড় গ্রামের বশর মিয়া, মাসুক মিয়া, পাড়ুয়া নোয়াগাঁও গ্রামের আতাউর রহমান, নতুন জালিয়ার পাড় গ্রামের ছয়ফুল ইসলামসহ শতাধিক লোক পাথরখেকো সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে রয়েছেন বলে বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আবুল লেইছ বলেন, অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধেও রয়েছে একাধিক মামলা।

ছাতক উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ নাছির উল্লাহ খান এ ব্যাপারে জানান, টিলা সংলগ্ন শাহআরেফিন বাজারটি ছাতক উপজেলায় থাকলেও টিলাটি রয়েছে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার আওতাধীন।

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম/এইচএমএল


সর্বশেষ সংবাদ