বাংলা ফন্ট

হাওরে ফসলহানি: ত্রাণ সচিবসহ ১৪০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

03-08-2017
নিজস্ব প্রতিনিধি ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম

হাওরে ফসলহানি: ত্রাণ সচিবসহ ১৪০ জনের বিরুদ্ধে মামলা
সুনামগঞ্জ: সুনামগঞ্জে হাওরের হাজার কোটি টাকার ফসলহানির ঘটনায় একটি মামলা করেছে জেলা আইনজীবী সমিতি। এর আগে এ ঘটনায় দুর্নীতির অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

আজ বৃহস্পতিবার সুনামগঞ্জের জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতে জেলা আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে এই মামলাটি দায়ের করেন সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল হক। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শাহ কামাল, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ১৫ কর্মকর্তা, ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণকাজের ৪৬ জন ঠিকাদার এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) ৭৮ জনসহ মোট ১৪০ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়েছে।

আদালতের বিচারক সুনামগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ মো. মুজিবুর রহমান মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য দুদকে প্রেরণের আদেশ দিয়েছেন। মামলায় সচিব ছাড়া অন্যদের বিরুদ্ধে হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম-দুর্নীতি ও সরকারি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। সচিবের বিরুদ্ধে আনা হয়েছে দন্ড-বিধির ৫০৫ (এ) ধারার অভিযোগ। এই ধারায় উল্লেখ আছে, ‘কথা ইত্যাদি কর্তৃক অনিষ্টকর কার্য।’

মামলার বাদী মো. আবদুল হক বলেন, আইনজীবী সমিতির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জেলার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের স্বার্থে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।

এর আগে গত ২ জুলাই হাওরে ফসলহানির ঘটনায় সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় পাউবোর ১৫ কর্মকর্তা ও ৪৬ জন ঠিকাদারকে আসামি করে দুর্নীতির অভিযোগে একটি মামলা করেন দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. ফারুক আহমদ। ওই মামলায় পাউবোর সুনামগঞ্জ কার্যালয়ের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আফছার উদ্দিন ও বাঁধের কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইব্রাহিম ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. বাচ্চু মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা এখন কারাগারে আছেন।

দুদকের মামলায় পাউবো কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি, ঠিকাদারদের সঙ্গে অবৈধ যোগসাজশের অভিযোগ আনা হয়। ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে আনা হয়েছে ঠিক সময়ে ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ শেষ না করে কৃষকদের ক্ষতি সাধনের অভিযোগ। আইনজীবীদের দায়ের করা মামলায় দুদকের দায়ের করা মামলার ৬১ আসামির সঙ্গে ত্রাণ সচিব এবং পিআইসির ৭৮ জনকে আসামি হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে।

দায়ের করা মামলার আসামির তালিকায় ১৪০ নম্বরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শাহ কামালের নাম রয়েছে।

বাদী মামলায় উল্লেখ করেন, ত্রাণ সচিব ফসলহানির ঘটনার সময় ১৯ এপ্রিল সুনামগঞ্জে আসেন। জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক সভায় তিনি বলেন, ‘দেশে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নামে একটা আইন আছে। এই আইনের ২২ ধারায় বলা আছে, কোনো এলাকার অর্ধেকের ওপরে জনসংখ্যা মারা গেলে ওই এলাকাকে দুর্গত এলাকা ঘোষণা করতে হয়। না জেনে যারা এমন সস্তা দাবি জানায় তাদের কোনো প্রকার জ্ঞানই নেই।’ ত্রাণ সচিব অবজ্ঞার সুরে আরও বলেন, ‘কিসের দুর্গত এলাকা, একটি ছাগলও তো মারা যায়নি’-বাদী অভিযোগে এই মন্তব্যও উল্লেখ করেন।

বাদীর পক্ষে আদালতে মামলাটি দায়ের করেন আইনজীবী মো. শহীদুজ্জামান চৌধুরী। এ সময় আদালতে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সৈয়দ শায়েখ আহমদসহ সমিতির শতাধিক আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন।

হাওরে ফসলহানির পর গত ১১ এপ্রিল জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যরা দায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নেন। এ জন্য সমিতির পক্ষ থেকে একটি কমিটিও করা হয়। দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন করেন তাঁরা। পরে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

আইনজীবীদের মামলায় পাউবোর বরখাস্ত হওয়া অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (উত্তর-পূর্বাঞ্চল) মো. আবদুল হাই, সিলেট অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম সরকার ও সুনামগঞ্জ কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আফছার উদ্দিনসহ ১৫ জন কর্মকর্তা আসামি আছেন।

সুনামগঞ্জে সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) খায়রুল কবির রুমেন বলেছেন, আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য দুদককে নির্দেশ দিয়েছেন।

সুনামগঞ্জে গত এপ্রিল মাসের পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টিতে ফসলরক্ষা বাঁধ ভেঙে ১৫৪টি হাওরের বোরো ফসল তলিয়ে যায়। ২৭ মার্চ থেকে ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত সুনামগঞ্জে এই ফসলহানি ঘটে। এতে ৩ লাখ ২৫ হাজার ৯৯০ জন কৃষক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হন। হাওরে ফসলহানির পর ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে।

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম/এইচএমএল



সর্বশেষ সংবাদ