বাংলা ফন্ট

এবার বালুর বদলে মাটি মিশিয়ে সড়ক সংস্কার!

10-06-2018
নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম

 এবার বালুর বদলে মাটি মিশিয়ে সড়ক সংস্কার!

সিলেট: সিলেটে চন্দরপুর সড়কের বিয়ানীবাজার উপজেলা অংশের শেষ চার কিলোমিটার সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অল্প শ্রমিক দিয়ে কাজ করা, সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগে ফেলে কাজ বন্ধ রাখা এবং সংস্কার কাজে বালুর স্থলে মাটি ব্যবহার করার গুরুতর অভিযোগে চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে এলাকাবাসী বিক্ষোভ করেছেন। বুধবার স্থানীয় তিলপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান স্থানীয় জনতাকে নিয়ে সড়কের কাজে অনিয়মের প্রতিবাদ করেন। এ সময় সড়কের সংস্কার কাজ বন্ধ করে দেন এলাকাবাসী।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের তিলপাড়া পশ্চিম অংশে ইটের সাথে বালু না দিয়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মাটি দিয়ে সংস্কার কাজ করছে। দুই থেকে তিন জন শ্রমিক কাজ করছেন। সংস্কার কাজ তদারকি করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কোনো কর্মকর্তাকে দেখা যায়নি।

স্থানীয় যুবক কামরুল ইসলাম বলেন, মঙ্গলবার থেকে ইটের সাথে কাদা মাটি মিশিয়ে সড়ক সংস্কার কাজ করছেন শ্রমিকরা। বালুর বদলে মাটি কেন- জানতে চাইলে শ্রমিকরা বলেন, ঠিকাদার মাটি দিয়ে সংস্কার কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। বিষয়টি জানতে ঠিকাদার মুহিবুর রহমানের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি তা রিসিভ করেননি। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী আরিফুর রহমান বলেন, এ সড়ক সংস্কার কাজ আগামী ৩০ জুন শেষ হবে। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অনিয়ম হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে উপজেলার লাউতা ইউনিয়নের দক্ষিণ পাড়িয়াবহর গ্রামের অভ্যন্তরীণ রাস্তা পাকাকরণের কাজেও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সড়ক নির্মাণে বালুর পরিবর্তে পাশের নদীর পাড় ও কৃষি জমি থেকে পলি মাটি তুলে সড়কে ব্যবহার করছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। উপজেলা প্রকৌশল অফিসের দায়িত্বশীলদের ‘ম্যানেজ’ করে সড়ক নির্মাণ হচ্ছে বলে ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর অভিযোগ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদের বিশেষ বরাদ্দের ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে বিয়ানীবাজার উপজেলার লাউতা ইউনিয়নের অনগ্রসর দক্ষিণ পাড়িয়াবহর-নাওয়ালা সড়কের ২ কিলোমিটার পাকা রাস্তার নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। রাস্তা নির্মাণ কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বালুর বদলে নদীর পাড় থেকে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে মাটি খনন করে সেই মাটি দিয়ে রাস্তা ভরাট করা হচ্ছে। এছাড়া নিম্নমানের ইট ভেঙে মিশ্রণ করে নতুন রাস্তায় বিছানো হয়েছে।

স্থানীয় গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা রুহুল আমিন বলেন, ‘আমরা নিরাশ্রয় মানুষ। সরকার আমাদের এখানে ঠাঁই দিয়েছে। এখন ঘরের পাশ থেকে মেশিন দিয়ে মাঠি তুলে নেওয়া হচ্ছে, দুইদিন পরেই আমাদের বসত ঘর নদীতে চলে যাবে।’

উপজেলা প্রকৌশলী রামেন্দ্র হোম চৌধুরী বলেন, এলাকাবাসীর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। আমরা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে পুরো রাস্তার মাটি তুলে বালু দিয়ে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছি।

এ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীর একান্ত সহকারী সচিব দেওয়ান মাকসুদুল ইসলাম আউয়াল বলেন, সকল অনিয়মের বিরুদ্ধে আমি সোচ্চার রয়েছি। যেখানে অভিযোগ পাওয়া যাবে সেখানে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে। আমরা প্রকৌশল অফিসের কর্মকর্তাদের নজরে রেখেছি। প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর হব।

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম/এইএমএল


সর্বশেষ সংবাদ