বাংলা ফন্ট

হাওরজুড়ে ধান কাটার মহোৎসব

16-04-2018
নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম

 হাওরজুড়ে ধান কাটার মহোৎসব  
সিলেট: সিলেটের বিভিন্ন হাওরজুড়ে শুরু হয়েছে বোরো ধান কাটা-মাড়াই মহোত্সব। আনন্দে মেতে উঠেছেন কৃষাণ-কৃষাণিরা। স্বপ্নের বোরো ধান এখন কৃষকের হাতের মুঠোয়। গত বোরো মৌসুমে ঢলের পানিতে ফসল তলিয়ে যাওয়ার বেদনা ভুলে কৃষকের মুখে এখন হাসি ফুটেছে। কাঠফাটা রোদে হাওরজুড়ে পাকা ধান ঝিলিক দিচ্ছে। কৃষকদের কেউ পাকা ধান কাটছেন। আর কেউ খলা বা বাড়ির উঠানে ধান শুকাচ্ছেন। বৈশাখের প্রথম দিনে অনেক স্থানে কৃষকরা ধান কাটা উত্সব পালন করে সারা বছরের খোরাকি স্বপ্নের বোরো ধান কেটে ঘরে তুলেছেন। ধান কাটা উপলক্ষে কৃষকরা দোয়ার আয়োজন ছাড়াও শিরনি বিতরণ করেছেন।

এ দিকে হাওরাঞ্চলে অবস্থাপন্ন গৃহস্থরা ধান কাটার কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন লাগিয়েছেন। কিন্তু বেশিরভাগ এলাকায় ধান কাটার শ্রমিক নিয়ে চিন্তিত কৃষক। জগন্নাথপুরের নলুয়ার হাওরের কৃষক আরস আলী শ্রমিক সংকটের কথা উল্লেখ করে জানান, হাওরে এবার ধান কাটার শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। অন্য বছর দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শ্রমিক আসত, এবার তাদের সংখ্যা কম।  জগন্নাথপুরে এবার দেশীয় জাতের ব্রি-২৮ ধান আগাম চাষাবাদ করায় কৃষকরা ইতোমধ্যে কাটা শেষ করে অন্য জাতের ধান কাটা শুরু করেছেন।

হাওর ঘুরে দেখা গেছে, জমির মালিক ও বর্গাচাষিরা বৃহত্ নলুয়া, মইয়া ও পিংলার হাওরের উঁচু স্থানে অস্থায়ীভাবে খরের ঘর তৈরি করে দিনরাত ধান তোলার কাজ তদারকি করছেন। নলুয়ার হাওরে নাটোর থেকে ২২ জন শ্রমিক নিয়ে ধান কাটতে এসেছেন সর্দার ফারুক মিয়া। তিনি জানালেন, গত ৭ দিন ধরে ধান কাটছেন। আরো ১৫ দিন কাটবেন। এবার নিশ্চিন্তে ধান কাটতে পেরে তারা আনন্দিত। পারিশ্রমিকেও তারা খুশি। জগন্নাথপুরের চিলাউড়া নোয়াপাড়ার গৃহস্থ শামছুজ্জামান গতকাল জানান, তিনি ২৪ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছেন, উত্পাদন ভালো হয়েছে। প্রতি বিঘায় ১৫-২০ মণ ধান পাবেন। কাটাও শেষ হওয়ার পথে।   

এ দিকে গত বছরের অকাল বন্যার পর এবার হাওরের ফসল রক্ষায় সরকার ব্যাপক উদ্যোগ নেয়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে উপজেলার সবকটি হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের শতভাগ নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। এতে কৃষকরা মহাখুশি।  তারা জানান, এবার পাহাড়ি ঢল এলেও ফসল ঘরে তোলার সময় পাবেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জগন্নাথপুর উপজেলার উপ-সহকারী প্রকৌশলী নাসির উদ্দিন জানান, উপজেলায় হাওরের ফসল রক্ষায় ১৪ কোটি ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দে ৯২টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির মাধ্যমে ভেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ জানান, ব্রি-২৮ জাতের ধান কেটে শেষ করার সাথে সাথেই শুরু হয়েছে হাওড়জুড়ে অন্যান্য জাতের ধান কাটার ধুম। আগামী ১০-১২ দিনের মধ্যেই তার এলাকায় ধান কাটা শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোহাম্মদ শওকত ওসমান মজুমদার জানান, চলতি বোরো মৌসুমে জগন্নাথপুর উপজেলার ৯টি হাওরে ১৪ হাজার ৪শ ৭৫ হেক্টর এবং হাওর বহির্ভূত ৫ হাজার ৮শ ৫৮ হেক্টরসহ মোট ২০ হাজার ৩শ ৩৩ হেক্টর  জমিতে চাষাবাদ করা হয়েছে। এ সব জমিতে ব্রি-২৮, ব্রি-২৯, ব্রি-৫০, ব্রি-৫৮, ব্রি-৫৫, বিআর-২৬সহ হাইব্রিড জাতের ধান চাষাবাদ করা হয়েছে।

এ দিকে সিলেটের বালাগঞ্জ ও ওসমানীনগর উপজেলায় বোরো ধান কাটা শুরু করেছেন কৃষকরা। অনেকটা শঙ্কা নিয়েই কাঁচি হাতে ক্ষেতে নামছেন তারা। জানা গেছে, এই দুই উপজেলায় চলতি মৌসুমে প্রায় ১৬ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এবার বাম্পার ফলনের আশা প্রকাশ করছেন উপজেলা কৃষি অফিস ও স্থানীয় কৃষকরা।

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম/এইএমএল



সর্বশেষ সংবাদ