বাংলা ফন্ট

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে রচিত হচ্ছে জীবননাশী গল্পও!

30-10-2017
নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম

 রোহিঙ্গা ক্যাম্পে রচিত হচ্ছে জীবননাশী গল্পও!

কক্সবাজার: রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শুধুই অমানবিকতার গল্প রচিত হচ্ছে- দূর থেকে যারা শুধুই এরকম ধারণা পোষণ করেছিলেন তাদের ধারণা এখন ভুল প্রমাণিত হচ্ছে। সেখানে তৈরি হচ্ছে জীবননাশী গল্পও।

উখিয়ার উদ্বাস্তু ক্যাম্পে দিনে দিনে বাড়ছে জমজমাট ইয়াবা ব্যবসা। এরপর তা ছড়িয়ে পড়ছে সারা দেশে। রাত গভীর হলেই নাফ নদী পাড় হয়ে রোহিঙ্গাদের ঢল নামে বাংলাদেশের সীমানার ভেতর।  তখন নৌকা কেবল রোহিঙ্গাদের বহন করে নিয়ে আসে তা নয়, সাথে নিয়ে আসে জীবননাশক মাদক ইয়াবাও। আসে বড় বড় চালান।

ইয়াবার বস্তা কাঁধে নৌকায় আসা এক যুবককে বিজিবি তাড়া করলে সে মিশে যায় রোহিঙ্গা স্রোতে। শুধু ইয়াবার চালান নয়, সাথে করে নিয়ে আসছে সিগারেটের চালানও। চোরাচালান ঠেকাতে শাহপুরের দ্বীপে রাতভর তৎপর বিজিবির সদস্যরা। যেখানে নির্যাতিত এতো সংখ্যক মানুষের পারাপারের সময় কিভাবে তল্লাশি সফল হয়?

রোহিঙ্গাদের মধ্যে থাকা একজন ইয়াবা ব্যবসায়ী আনোয়ার। মিয়ানমারে থাকা অবস্থায় আনোয়ার এবং তার ছোট ভাই একসাথে ইয়াবা ব্যবসা করতো। ৭ বছর জেলও খেটেছেন আনোয়ার। এখন ছদ্মনামে ইয়াবার লেনদেন করে বাংলাদেশে।

অনুসন্ধানে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, অনুসন্ধানকারী দলের সদস্যরা ছদ্মবেশে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে  ইয়াবা কেনার জন্য যায়। কিন্তু তাদেরকে ৬ ঘণ্টা অপেক্ষা করিয়ে টিনশেডের একটি ঘরে নিয়ে যায় হামিদ নামের এক ইয়াবার ব্যবসায়ী। পরে তাদেরকে ১০ হাজার পিসের একটি ইয়াবার কার্টন দেখানো হয়। টাকা লেনদেনের অজুহাতে ঘর থেকে বের হয়ে আসে তারা। এরপর ইয়াবার বড় ডিলার হামিদ ফোন দেয় এবং তাদেরকে কয়েক লাখ পিস ইয়াবা সরবরাহ করার আশ্বাস দেয়।

এভাবে মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের মাধ্যমে ইয়াবা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মাদক ব্যবসায়ীদের হাতে। চোরাচালানে জড়িত রোহিঙ্গারা বলছেন, উদ্বাস্তু স্রোতের সাথে সীমান্তে বেড়েছে ইয়াবা পাচার। সেই সঙ্গে আরও সহজ হয়েছে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ইয়াবার পাচার সুবিধা।

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম/এইএমএল



সর্বশেষ সংবাদ