বাংলা ফন্ট

এইডস রোগীর সংখ্যা নিয়ে শঙ্কা

12-10-2017
নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম

  এইডস রোগীর সংখ্যা নিয়ে শঙ্কা


ঢাকা: মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে এইডস রোগীর সংখ্যা নিয়ে শঙ্কিত কক্সবাজারের স্বাস্থ্য বিভাগ। এখন পর্যন্ত ১৯ জন এইডস রোগী শনাক্ত হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজন মারা গেছেন।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা বলছেন, তাঁদের ধারণা, রোহিঙ্গাদের মধ্যে আরও অনেক এইডস রোগী থাকতে পারে। এইডস নিয়ে ঝুঁকির তালিকায় থাকা দেশগুলোর মধ্যে মিয়ানমারের অবস্থান অনেক ওপরে। দেশটিতে ২ লাখ ৫০ হাজারের বেশি এইডস রোগী রয়েছে। তাঁরা বলেন, এইডস আক্রান্ত ব্যক্তিদের দ্রুত চিহ্নিত করা না গেলে বাংলাদেশে এই রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক শাহীন আবদুর রহমান চৌধুরী বলেন, মিয়ানমারে প্রতি ১ হাজার জনে ৮ জনের এইচআইভি পজেটিভ বলে ধরে নেওয়া হয়। সেই হিসাবে বাংলাদেশে যে সংখ্যায় রোহিঙ্গা এসেছে, তাতে কমপক্ষে ৪ হাজার জনের এইডস থাকার কথা। তাই এ নিয়ে তাঁরা উদ্বিগ্ন। এ কারণে এইচআইভি পজেটিভে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া ও তাঁদের রোগ শনাক্ত করার জন্য টেকনাফ ও উখিয়ায় দুটি ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হয়েছে।

গত ২৫ আগস্ট থেকে রোহিঙ্গা আসার ঢল অব্যাহত আছে। সরকারি হিসাবেই এ সংখ্যাটি ৫ লাখ ২৩ হাজার। এরা সবাই কক্সবাজারের টেকনাফ, উখিয়া ও বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ১২টি ক্যাম্পে অবস্থান করছে। মানবিক কারণে তাঁদের আশ্রয় দেওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসাসেবাসহ সব সহযোগিতা দিচ্ছে সরকার। কক্সবাজারের সিভিল সার্জনের দপ্তর সূত্র বলেছে, এখন পর্যন্ত তারা ১ লাখ ৬৮ হাজার ২৮৯ জনের বেশি মানুষকে চিকিৎসাসেবা দিয়েছে। তাঁরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। এ তালিকায় এইডস রোগীও আছেন।

জানা গেছে, ১৬ সেপ্টেম্বর প্রথম উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্পে আসা ২ জন নারীর এইচআইভি পজেটিভ থাকার খবর পাওয়া যায়। এর পরপর ওই ক্যাম্পের আরও ৪ জন নারীর এইচআইভি পজেটিভ থাকার কথা জানা যায়। এই ৬ জনের মধ্যে ১ জন মারা গেছেন। অন্য ৫ জনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের মধ্যে এইচআইভি আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করতে কাজ করছে বেসরকারি সংস্থা আশার আলো সোসাইটি ও কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক বলেন, এর আগেও মিয়ানমার থেকে বিভিন্ন সময়ে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে এইডস রোগী পাওয়া গেছে। ২০১২ সাল থেকে চলতি বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাঁরা কক্সবাজারে মোট ১৬৭ জন এইডস রোগী পেয়েছিলেন। এদের ৫৪ জনই রোহিঙ্গা। মোট এইডস রোগীর মধ্যে ৪২ জন মারা গেছেন। তাঁদের ১০ জন রোহিঙ্গা।

২৫ আগস্টের পর অর্থাৎ নতুন করে রোহিঙ্গা আসার ঢল শুরুর পর যে ১৯ জন রোহিঙ্গা এইডস রোগী পাওয়া গেছে, তাঁদের মধ্যে ১১ জন নারী ও ৮ জন পুরুষ। সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক বলেন, এই ১৯ জনের মধ্যে ১৭ জন আগে থেকেই এইডস রোগী হিসেবে মিয়ানমারে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। তাঁরা ক্যাম্পের চিকিৎসকদের কাছে এইডস থাকার কথা জানিয়েছিলেন। আর ২ জন নিজেদের রোগ সম্পর্কে আগে থেকে জানতেন না। বাংলাদেশে আসার পর তাঁদের এইডস ধরা পড়ে।

গত কয়েক দিন উখিয়া ও টেকনাফ ক্যাম্পের কয়েকজন রোহিঙ্গা এইডস রোগীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাঁরা এইচআইভি বিষয়ে আগে থেকে কিছু জানতেন না। মিয়ানমারে থাকতে তাঁরা চিকিৎসাসেবাও পেতেন না।

একজন চিকিৎসক বলেন, মিয়ানমারে ইনজেকশন দিতে ব্যবহার করা একই সুই বারবার ব্যবহার করা হয় বলে রোগীরা তাঁদের জানিয়েছেন।

কক্সবাজারের সিভিল সার্জন আবদুস সালাম বলেন, তাঁদের আশঙ্কা, রোহিঙ্গাদের মধ্যে আরও অনেক এইডস রোগী আছেন। তাঁদের দ্রুত শনাক্ত করা দরকার। তাই তাঁরা এসব রোগী শনাক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছেন। উখিয়া ও টেকনাফে পৃথক দল কাজ করছে। এইডস রোগী চিহ্নিত করে তাঁদের চিকিৎসার আওতায় আনা হবে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক এ কিউ এম সিরাজুল ইসলাম বলেন, রোহিঙ্গারা একেবারেই স্বাস্থ্যসচেতন নয়। আগে দরকার তাদের মধ্যে স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়ানো। এদের এক স্থানে রেখেই সেটা করতে হবে। তা না হলে সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। এই পরিস্থিতি টেকনাফ ও উখিয়াসহ পুরো কক্সবাজারের মানুষের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করবে।

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম/এইএমএল



সর্বশেষ সংবাদ