বাংলা ফন্ট

খাগড়াছড়িতে ৭২ ঘন্টার হরতাল চলছে

06-05-2018
নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম

 খাগড়াছড়িতে ৭২ ঘন্টার হরতাল চলছে
খাগড়াছড়ি: মাইক্রোবাস চালক মো. সজিবের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও অপহৃত তিন বাঙালিকে উদ্ধারের দাবিতে পার্বত্য অধিকার ফোরাম ও বৃহত্তর পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদের ডাকে খাগড়াছড়িতে ৭২ ঘন্টার হরতাল কর্মসূচি চলছে।

রবিবার সকালে বৃহত্তর পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদ ও পার্বত্য অধিকার ফোরামের ডাকে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় ৭২ ঘণ্টার হরতাল শুরু হয়েছে। সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত মাইক্রোবাস চালক সজীব হাওলাদারের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও অপহৃত তিন বাঙালি ব্যবসায়ীকে উদ্ধারের দাবিতে এ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।

অন্যদিকে, বাঙালি ছাত্র পরিষদ ও পার্বত্য নাগরিক পরিষদ আগামীকাল সোমবার থেকে তিন পার্বত্য জেলায় ৪৮ ঘণ্টার হরতালের ডাক দিয়েছে।

হরতালের কারণে সকাল থেকে জেলার দূরপাল্লা ও আভ্যন্তরীণ সড়কে সকল ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। দোকানপাট খোলেনি। সকালে হরতাল সমর্থকরা সদর উপজেলা পরিষদের সামনে সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রর্দশন করে। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে পিকেটিং করতে দেখা গেছে।

হরতালের শুরুতে পিকেটাররা সদর উপজেলা পরিষদের সামনে রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে হরতালের সমর্থনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এ ছাড়া জেলা শহরের বিভিন্ন স্থানে হরতালকারীদের পিকেটিং করতে দেখা গেছে। হরতালের কারণে জেলার অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। বন্ধ রয়েছে শহরের অধিকাংশ দোকানপাটও। হেঁটে স্কুল-কলেজগামী ছাত্রছাত্রী ও কর্মজীবীদের যাতায়াত করতে দেখা গেছে।

বৃহত্তর বাঙালি ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতি মাঈন উদ্দিন অভিযোগ করেন, প্রশাসন হরতাল নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির পাশাপাশি হরতাল প্রত্যাহারের জন্য বাড়িতে তল্লাশি করে নেতাদের হয়রানি করছে।

খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম এম সালাউদ্দিন জানিয়েছেন, হরতালের কারণে যাতে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, রাঙ্গামাটির জেলার নানিয়ারচরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত শক্তিমান চাকমার শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে গত শুক্রবার সকালে একই উপজেলার বেতছড়ি এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে পাঁচজন নিহত হন। তার মধ্যে মাইক্রোবাস চালক মো. সজীবও ছিলেন। এছাড়া গত ১৬ এপ্রিল খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙা উপজেলার তিন বাসিন্দা কাঠ ব্যবসায়ী মো. সালাউদ্দীন, মহরম আলী ও গাড়ি চালক মো. বাহার মিয়া জেলার মহালছড়ির মাইসছড়ি থেকে নিখোঁজ হন। ১৯ দিন পরও তাদের উদ্ধার করতে পারেনি প্রশাসন।

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম/এইএমএল


সর্বশেষ সংবাদ