বাংলা ফন্ট

আবারো বন্যায় তলিয়ে গেছে ফসলি জমি ও বাড়িঘর

11-09-2017
নিজস্ব প্রতিনিধি ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম

  আবারো বন্যায় তলিয়ে গেছে ফসলি জমি ও বাড়িঘর


নেত্রকোনা: নেত্রকোনার দুর্গাপুরে বন্যার রেশ না কাটতেই প্রবল বর্ষণ ও আবারো উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে উপজেলার ১টি পৌরসভাসহ ৭টি ইউনিয়নের ফসলি জমি ও বসতভিটাসহ অনেক আবাদি জমি প্লাবিত হয়েছে। রবিবার পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায় উপজেলার গাঁওকান্দিয়া, কুল্লাগড়া ও কাকৈরগড়া ইউনিয়নের প্রায় ২০টি গ্রামের মানুষ গবাদিপশু নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। দেখা দিয়েছে গো-খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির অভাব। কংশ-সোমেশ্বরী নদীর পানির বৃদ্ধিতে চিনাগুরি বিল ও চিতলি বিলের সমস্ত ফসলি জমি বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।

গাঁওকান্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন মোতালেব ও কুল্লাগড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সুব্রত আরেং  বলেন, পর পর বন্যা হওয়ায় এবার আর জমির ফসল রক্ষা করা গেল না। গেল বন্যায় উপজেলার প্রায় তিন হাজার হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। শীত মৌসুমে কৃষকগণ হয়ত তার ফসল গোলায় আর তুলতে পারবেন না।   

এদিকে নালিতাবাড়ী (শেরপুর) সংবাদদাতা জানান, ভারী বর্ষণ আর উজানের গারোপাহাড় থেকে নেমে আসা ঢলে নালিতাবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন এলাকা আবারো প্লাবিত হয়ে পড়ছে। তলিয়ে যাচ্ছে শত শত একর আমন ফসল। ভোগাই নদীর তীরের ভাঙা স্থান দিয়ে শনিবার সকাল থেকে ঢলের পানি প্রবল বেগে প্রবেশ করায় দিশেহারা পড়ছে এলাকার কৃষক।

উপজেলার ভোগাই ও চেল্লাখালি নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে। আগস্টের প্রথম সপ্তাহে ভোগাই নদীর হাতিপাগার, নয়াবিল, শিমুলতলা, পৌরবাসস্ট্যান্ড, নীচপপাড়া, খালভাংগা, নিজপাড়া এলাকায় এবং চেল্লাখালি নদীর গোল্লাপাড় এলাকায় কমপক্ষে ১১ জায়গায় নদীতীর রক্ষা বাঁধ ভেঙে যায়। এতে পৌরসভাসহ ৬টি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। তলিয়ে গেছে আমনের বীজতলা, রোপণকৃত আমনের ক্ষেত, শাকসবজি এবং কয়েকশ পুকুর।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খালভাংগাসহ কয়েকটি গ্রামে বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করেছে। এলাকাবাসী জানান, বর্ষা মৌসুম এলেই ভোগাই এবং চেল্লাখালি নদী অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠে। কিন্তু আগে থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। তাই প্রতিবছর তাদের ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরিফ ইকবাল জানান, ঢলের পানি তীব্র বেগে প্রবেশ করছে। ক্ষতির পরিমাণ এই মুহূর্তে বলা  যাচ্ছে না। আমন ধানের ক্ষেত পানির নিচে কয়েক দিন থাকলেও ধানের ক্ষতি হবে না। তবে খালঙ্গা এলাকার পানি বের হওয়ায় পথ না থাকায় বিষয়টি চিন্তার।

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম/এইচএমএল



সর্বশেষ সংবাদ