বাংলা ফন্ট

ডিবি পরিচয়ে তুলে নেওয়ার পর পাঁচজন নিখোঁজ

16-09-2018
নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম

 ডিবি পরিচয়ে তুলে নেওয়ার পর পাঁচজন নিখোঁজ

ঢাকা: হজ পালন শেষে দেশে ফিরে আসা মাকে আনতে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন দুই ভাই শিক্ষানবিশ আইনজীবী শাফিউল আলম ও বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরিরত মনিরুল আলম। বিমান থেকে নামার পর সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে মায়ের লাগেজ গাড়িতে তোলার সময় হঠাত্ করেই এক দল লোক এসে শাফিউল আলমের নাম পরিচয় জানতে চায়। নিজের নাম পরিচয় দেওয়ার পরই সাফিউল আলম ও তার ভাই মনিরুল আলম এবং তাদের এক বন্ধু আবুল হায়াতসহ ৩ জনকে জাপটে ধরে গাড়িতে তোলেন ডিবি পরিচয় দেয়া ওই ব্যক্তিরা। কিছু বলার আগেই দ্রুত সময়ের মধ্যে গাড়িটি ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এরপর থেকে খোঁজ নেই ওই তিন যুবকের। শুধু ওই ৩ যুবকই নয়, তাদের সঙ্গে নিয়ে ডিবি পরিচয়ে যাত্রাবাড়ীর মিরহাজারীবাগ এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী শফিউল্লাহ ও ডগাইরের একটি মাদ্রাসার নবম শ্রেণির ছাত্র মোশারফ হোসেইন মায়েজ নামে দুই ছাত্রকেও তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনার ৪ দিন পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত তাদের খোঁজ মেলেনি।

ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া ৫ জনের পরিবারের স্বজনরা গতকাল সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে (ক্র্যাব) সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন। তারা বেঁচে আছেন নাকি তাদের গুম করা হয়েছে— এ খবরও জানতে পারছেন না। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন শাফিউল আলম ও মনিরুল আলমের মা রমিছা খানম, নবম শ্রেণির ছাত্র মোশারফ হোসেইন মায়েজের মা, বাবা ও বোন এবং ঢাকা কলেজের ছাত্র শফিউল্লাহর ছোটভাই নাছিরুল্লাহ।

সংবাদ সম্মেলনে রমিছা খানম বলেন, সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে ছেলেরা তার ব্যাগ, ল্যাগেজ গাড়িতে তুলছিলেন। তিনি হজ শেষে ক্লান্ত ও অসুস্থ ছিলেন। গাড়িতে মালপত্র তোলা শেষ হওয়ার মুহূর্তে  কয়েকজন লোক এসে তার ছেলে শাফিউল আলমের কাছে জানতে চান তার বাড়ি টাঙ্গাইলের গোপালপুর থানার বাঁধাই গ্রামে কি-না। জবাবে হ্যাঁ বলার পরই একজন শাফিউলকে জাপটে ধরেন। পরপর পাশে থাকা আরেক ছেলে মনিরুল ইসলাম ও তাদের বন্ধু আবুল হায়াতকে অন্যরা ধরে ফেলেন। তিনি চিত্কার করে জানতে চান কেন তাদের ছেলেদের ধরা হয়েছে। তাদের কী অপরাধ। এ সময় পাশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন ছিল। তারা এগিয়ে আসলে ওই ব্যক্তিরা নিজেদের ডিবির লোক পরিচয় দিয়ে আইডি কার্ড দেখায়। এরপর পুলিশ চলে যায়। এরপরই ৩ জনকে গাড়িতে তুলে দ্রুত নিয়ে চলে যান। পরে তিনি একাই গাড়িতে করে বাড়িতে ফেরেন।

তিনি আরও বলেন, রাতেই তার ছেলে শাফিউল আলমকে সঙ্গে নিয়ে ডিবির লোকজন যাত্রাবাড়ীতে একটি বাসায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী শফিউল্লাহ এবং নবম শ্রেণির ছাত্র মোশারফকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর থেকে ৫ জনের কোনো খোঁজ মিলছে না। তুলে নিয়ে যাওয়ার পরদিন নিখোঁজ দুই সন্তানসহ ৫ জনের খোঁজে তারা ডিবি কার্যালয়, থানা পুলিশের বিভিন্ন কার্যালয়ে গিয়েছেন। কিন্তু ডিবির লোকজন কেউ স্বীকার করছে না।

রমিছা খানম সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তার দুই ছেলে কোনো রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না।  ছেলে  শাফিউল আলম গ্রামের বাড়িতে স্কুলে পড়াশুনা শেষ করে ঢাকায় বেসরকারি বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি বিষয়ে মাস্টার্স শেষ করেছেন। এরপর একটি ল’ কলেজ থেকে আইন বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করে শিক্ষানবিশ আইনজীবী হিসেবে কাজ করছিলেন। তার আরেক ছেলে  মনিরুল আলমও টাঙ্গাইলের স্থানীয় কলেজ থেকে পড়াশুনা শেষ করে উত্তরার আবদুল্লাহপুরের বেসরকারি আইডিবি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা করেছেন। এরপর একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি নেন। যাত্রাবাড়ী এলাকায় একটি মেসে তারা দুই ভাই থাকতেন। তাদের বন্ধু আবুল হায়াতও একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে মায়াজের বাবা সাইদুল ইসলাম বলেন, তার ছেলে মায়াজ ডেমরার ডগাইর ফাজিল মাদ্রাসার নবম শ্রেণির ছাত্র। পরিবারের সাথে ডগাইর পশ্চিমপাড়ার বাসায় থাকেন। ঘটনার দিন সে বাসা থেকে বের হয়ে কী প্রয়োজনে যাত্রাবাড়ীর মিরহাজারীবাগ ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী শফিউল্লাহর রুমে যান। পরে তারা খবর পান ডিবির লোকজন শফিউল্লাহর সাথে তার ছেলেকেও নিয়ে গেছে। এরপর তারা যাত্রাবাড়ী থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে গিয়েছেন। কিন্তু থানা পুলিশ জিডি নিচ্ছে না।

শফিউল্লাহর ভাই নাছিরুল্লাহ জানান, শফিউল্লাহ ঢাকা কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ৪র্থ বর্ষের ছাত্র। নিখোঁজের পর থেকে তার ভাইয়ের রুমটি কে বা কারা তালা মেরে রেখেছে। ভাইয়ের খোঁজে বিভিন্ন জায়গায় গিয়েছেন। কিন্তু তার ভাইকে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে পুলিশ কিছুই বলছে না। সূত্র: ইত্তেফাক

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম/এইএমএল

সর্বশেষ সংবাদ