বাংলা ফন্ট

পশ্চিমের ৬ জেলায় ধানের দর পতন

06-06-2018
নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম

 পশ্চিমের ৬ জেলায় ধানের দর পতন


ঢাকা: চলতি বোরো মৌসুমে বি আর-৫৮ জাতের ধান উত্পাদনে সাড়া ফেলেছে। মাঝারি সরু উচ্চফলনশীল এ জাতের ধান চাষ করে হেক্টর প্রতি ৯ টনের বেশি ফলন পেয়েছেন চাষিরা। যা হাই ব্রিড ধানের মত ফলন। এ ধানের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে ঝাড় বাতাসে হেলে পড়ে না। শীষ থেকে ধান ঝরে না। পোকা মাকড়ের আক্রমণ হয়নি। আগামীতে বিআর-৫৮ জাপশা ধান আবাদে চাষি ঝুঁকবে বলে আশা করছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

এদিকে পশ্চিমের জেলাগুলোতে ধানের দর পতনে চাষি খুশি নন।। ঝড় বৃষ্টিতে কাদাপানিতে লেপটে পড়ে যাওয়া ধান মণ প্রতি ভালো ধানের চেয়ে দেড় দুশো টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর আঞ্চলিক অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বোরো মৌসুমে পশ্চিমের কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, মাগুরা, ঝিনাইদহ ও যশোর জেলায় ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৯৯৮ হেক্টরে বোরো ধানের চাষ হয়। এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪৪ হাজার ২৮৮ হেক্টর অতিরিক্ত জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। প্রথম দিকে আবহাওয়া অনুকূল থাকায় ধানের অবস্থা খুবই ভাল ছিল। কাটা শুরু পর্যন্ত ফলন দেখে সবাই খুব খুশি ছিল। মার্চের ৩১ তারিখে ঝড় শিলাবৃষ্টিতে ৬ হাজার হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর মাঝে মাঝে ঝড় বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টি হতে থাকে। এপ্রিল-মে মাস জুড়েই বৃষ্টি হয়। ঝড়ে ধান মাটিতে লেপটে যায়। বৃষ্টির পানি জমে ধান ভাসতে থাকে। শীষ থেকে ধান ঝরে পড়ে। কাদা পানির ভিতর পড়ে থেকে অনেক ধানে চারা গজায়। কাদা লেগে যাওয়ায় বিবর্ণ হয়ে যায়। এমন অবস্থা কত হেক্টরে হয়েছে, তার তথ্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানাতে পারেনি। কাদা পানিতে ভেজা ধান প্রতি মণ সাড়ে ৫শ টাকা থেকে ৬শ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মোটা ভাল ধান প্রতি মণ সাড়ে ৭শ থেকে ৭শ ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি সরু ধান বিআর- ২৮ প্রতি মণ সাড়ে ৮শ টাকা থেকে ৮শ ৮০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে মিনিকেট ৯শ টাকা ও বাসমতি ১১শ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে।

গতকাল সোমবার ঝিনাইদহ তেঁতুলতলা বাজারে চাষি আবুল হোসেন বলেন, উত্পাদন ভাল হলেও চাষিরা দামে খুশি নয়। মোটা ধান গত বছরের চেয়ে আড়াই / তিনশ টাকা কম দামে বিক্রি হচ্ছে। মেহেরপুর সদর উপজেলার তেরঘরিয়া গ্রামের চাষি জিয়াউর রহমান জানান, তাদের এলাকায় হাইব্রিড ধান প্রতি মণ ৭শ টাকা ও বিআর- ২৮ ধান বিক্রি হচ্ছে ৮শ টাকা থেকে ৮৩০ টাকা দরে। কাদাপানিতে ভিজে শেকর গজানো ধানের ক্রেতা পাওয়া কষ্টকর বলে তিনি জানান। শৈলকুপার হাবিবপুরের চাতাল ব্যবসায়ী আকালে শেখ বলেন, মঙ্গলবার শৈলকুপা হাটে মোটা ধান হীরা প্রতি মণ ৬শ টাকা থেকে সাড়ে ৬শ টাকা দরে বিক্রি হয়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক চন্ডি দাস কুন্ডু বলেন, পশ্চিমের ৬ জেলায় ধানের উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি হয়েছে। উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৪ লাখ টন। উত্পাদন হয়েছে ১৬ লাখ টন। উত্পাদন বেশি হওয়ার কারণে দর কমে গেছে বলে স্বীকার করেন তিনি।

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম/এইএমএল






সর্বশেষ সংবাদ