বাংলা ফন্ট

বন্যার আগাম সতর্কতা জানাতে বিশেষ যন্ত্রের আবিষ্কার

25-04-2017
ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম

 বন্যার আগাম সতর্কতা জানাতে বিশেষ যন্ত্রের আবিষ্কার

নিউজ ডেস্ক:  প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানুষের করনীয় কিছু থাকেনা। তার পরও যদি আগাম কোন সতর্কবার্তা জানা যায় তাহলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান কম হয়। সে কথা মাথায় রেখে বন্যার আগাম সর্তকতা জানার একটি যন্ত্র আবিষ্কার করেছেন বগুড়ায় এক যন্ত্র প্রকৌশলী। তিনি হলেন মাহমুদুন নবী বিপ্লব। স্বল্প খরচে এই যন্ত্রটি নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় স্থাপন করা হলে, বন্যার সময় দেশের হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ ও প্রাণহানি ঠেকানো সম্ভব। এরই মধ্যে যন্ত্রটি ঢাকার চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত জাতীয় বিজ্ঞান মেলায় অংশ নিয়ে চূড়ান্ত মনোনয়ন অর্জন করেছে। এছাড়া যন্ত্রটির সুফল সম্পর্কে বগুড়া ও লালমনিরহাটে সেমিনার হয়েছে। এখন সরকারি সহযোগিতা পেলে তা সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হবে। উদ্ভাবিত যন্ত্রটি কাজ হচ্ছে নদীতে পানি বাড়ার সাথে সাথেই সংকেত পাঠাবে। সেই সাথে বন্যার পানি বাড়ার অনেক আগে থেকেই অবিরাম সাইরেনের আওয়াজে সতর্ক করবে উপকূলের লোকজনকে নিরাপদ দূরত্বে সরে যাবার জন্য। বন্যার সময় ছাড়াও শুষ্ক মৌসুমে নদীর স্বাভাবিক ও অস্বাভাবিক গতি প্রবাহ দূর থেকে জানা যাবে স্বয়ংক্রিয় এই যন্ত্রটির মাধ্যমে। যন্ত্রটির উদ্ভাবক বিপ্লব বগুড়ার সরকারি পলিটেনিক ইনস্টিটিউটে পাওয়ার বিভাগ থেকে ডিপ্লোমা করেছেন ১৯৯৫ সালে। শহরের মেরপুর রোডে ‘কাঁকন রেফ্রিজারেটর’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে এসি ও ফ্রিজ মেরামতের কাজ করেন। তার উদ্ভাবিত যন্ত্রটি সৌর বিদ্যুৎ দ্বারা পরিচালিত। নদী তীরে সুবিধাজনক স্থানে ২৫ মিটার উঁচু টাওয়ারের উপর বসালে এর সেন্সর ও তিন রংয়ের (লাল, হলুদ, সবুজ) স্বয়ংক্রিয় বাতির মাধ্যমে পানির উচ্চতার তারতম্যের সংকেত চর এলাকার মানুষ জানতে পারবে। এতে করে তারা বন্যার পানি আসার আগেই নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাবার সুযোগ পাবে। এই সিস্টেমে একটি স্বয়ংক্রিয় সেন্সর থাকবে যা পানির উচ্চতার তারতম্যের ফলে টাওয়ারে সংকেত প্রেরণ করবে। স্বয়ংক্রিয় বন্যা সতর্কতা যন্ত্রটি তৈরিতে খরচ পড়বে মাত্র ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা। সরকারের সহায়তা চেয়েছেন বিপ্লব। সরকার অথবা কোন সংস্থার সহায়তা পেলে তার এই আবিষ্কার দেশের কল্যানে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়।

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম/এইচএমএল




সর্বশেষ সংবাদ