বাংলা ফন্ট

২৩ হাজার কর্মচারীর বেতন দ্বিগুণের প্রস্তাব

01-11-2018
নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম

 ২৩ হাজার কর্মচারীর বেতন দ্বিগুণের প্রস্তাব

ঢাকা: মূল্যস্ফীতিসহ সামগ্রিক ব্যয় বৃদ্ধির বিবেচনায় ডাক বিভাগের ২৩ হাজার কর্মীর (ই.ডি) সম্মানী ভাতা একশ’ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে ডাক টেলিযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়।

সম্প্রতি প্রস্তাবটি পাঠানো হয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ে। বেতন বাড়ানোর প্রস্তাবটি বিবেচনার জন্য অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত অর্থ সচিবকে নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, প্রস্তাব অনুযায়ী এসপিএম পদের নতুন সম্মানী ভাতার পরিমাণ ৬ হাজার ৬০০ টাকা, বিভাগীয় অপারেটরের ভাতা ৫ হাজার ৪০ টাকা, পোস্টম্যানের ৪ হাজার ৯০০ টাকা এবং রানারের ৪ হাজার ৭২০ টাকা নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে। বর্তমানে একজন এসপিএম সম্মানী ভাতা পান ৩ হাজার ৩০০ টাকা, বিভাগীয় অপারেটর পান ২ হাজার ৫২০ টাকা, পোস্টম্যান ২ হাজার ৪৫০ টাকা এবং রানার পাচ্ছেন ২ হাজার ৩৬০ টাকা।

এ প্রসঙ্গে অর্থপ্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, সম্মানী বাড়ানোর বিষয়টি যৌক্তিকতা আছে কিনা তা পর্যালোচনা করা হবে। অবশ্য মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ও চিন্তা করা হবে। ভাতা বাড়ানোর যৌক্তিকতা পাওয়া গেলে সরকার অবশ্যই বিবেচনা করবে।

বর্তমানে ডাক বিভাগে বহির্ভূত কর্মী হিসেবে ২৩ হাজার ১০০ জন কাজ করছেন। এরমধ্যে এসপিএম (সাব-পোস্ট মাস্টার) ৩২২ জন, ব্রাঞ্চ পোস্ট মাস্টার ৮১৩৮ জন, ডিএ (চিঠি বিলিকারী) ৭২৩৫ জন, এমসি (ডাক বহনকারী) ৫৯৬১ জন, অন্যান্য কর্মচারী (চৌকিদার, ঝাড়–দার) ১৩৭৪ জন। পাশাপাশি ডাক বিভাগের নিজস্ব কর্মী রয়েছেন।

জানা গেছে, অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেলে সব ধরনের সুবিধা পাচ্ছে ডাক বিভাগের নিজস্ব কর্মীরা। একই পদে ডাক বিভাগবহির্ভূত (ইডি) কর্মীরা বেতন পাচ্ছেন ১০ গুণের কম। প্রস্তাবে তুলনা করে বলা হয়, ডাক বিভাগের নিজস্ব এসপিএম পদের কর্মচারী বেতন পাচ্ছেন ১০ হাজার ২০০ টাকার স্কেলে। একই পদে কাজ করে ইডি এসপিএম বেতন না পেয়ে ভাতা পাচ্ছেন মাত্র ৩ হাজার ৩০০ টাকা। একই ভাবে ডাক বিভাগের নিজস্ব কর্মচারী অপারেটর পদে বেতন পাচ্ছেন ৯ হাজার ৭০০ টাকা স্কেলে। একই পদে ইডি অপারেট ভাতা পাচ্ছেন ২ হাজার ৫২০ টাকা। অন্যান্য পদের মধ্যে ডাক বিভাগের নিজস্ব পোস্টম্যান বেতন পাচ্ছেন ৯ হাজার টাকার স্কেলে এবং ইডি পোস্টম্যান পাচ্ছেন ২ হাজার ৪৫০ টাকা। সর্বশেষ পদে ডাক বিভাগের নিজস্ব রানার পদের বেতন হচ্ছে ৮ হাজার ২৫০ টাকার স্কেলে এবং একই পদে ইডি কর্মচারী ভাতা পাচ্ছেন ২ হাজার ৩৬০ টাকা।

ডাক-টেলিযোগা ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবে আরও বলা হয়, একই ধরনের সরকারি দায়িত্ব পালন করে বিভাগ বহির্ভূত অস্থায়ী কর্মচারীর চেয়ে ১০ গুণ বেশি বেতন পাচ্ছেন ডাক বিভাগের নিজস্ব চাকরিজীবীরা। সরকারি চাকরির নিয়ম অনুযায়ী প্রতি বছর বেতন বাড়লেও ইডি কর্মচারীদের সর্বশেষ ২০১৬ সালে একবার বৃদ্ধি পায়।

এরপর আর বাড়েনি। ফলে ডাক বিভাগের মধ্যে এ ধরনের বৈষম্য বিষয়টি অনুধাবন করা যেতে পারে। সেখানে আরও বলা হয় মুদ্রাস্ফীতি ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে ইডি কর্মচারীরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

প্রস্তাবে আরও বলা হয়, ডাক বিভাগের গ্রামীণ সাড়ে ৮ হাজার শাখা ডাকঘর ই-সেন্টারে রূপান্তরিত হয়েছে এবং এর মাধ্যমে ইডি কর্মচারীরা ডাকসেবায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন। এতে গ্রামের মানুষ যেমন সুফল পাচ্ছেন- তেমনি সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়ছে। এসব দিক বিবেচনা করে ইডি কর্মচারীদের ভাতা একশ’ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হল।

বাংলাদেশ পোস্টাল ইডি কর্মচারী ইউনিয়নের এক নেতা বলেন, গ্রামে বসবাসরত ৮০ শতাংশ মানুষের সেবা করেন ইডি কর্মচারীরা। অথচ তাদের সম্মানী ভাতা অত্যন্ত কম।

তিনি আরও বলেন, দুঃখের বিষয় ডাক বিভাগের উল্লিখিত ইডি কর্মচারীদের সম্মানী ভাতা ইতিপূর্বে যা বৃদ্ধি করা হয়েছে, তা অসম্মানজনক এবং সরকারের জন্যও লজ্জাজনক। বর্তমানে একজন গ্রামীণ পোস্ট মাস্টারের সম্মানী ভাতা মাত্র ২৫২০/- টাকা। বিশ্বের কোথাও এমন নজির নেই।

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম/এইএমএল


সর্বশেষ সংবাদ