বাংলা ফন্ট

‘শত কোটি টাকা পাবেন মুন সিনেমা হলের মালিক’

08-10-2018
নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম

 ‘শত কোটি টাকা পাবেন মুন সিনেমা হলের মালিক’
ঢাকা: মুন সিনেমা হলের মালিকানা নিয়ে পঞ্চম সংশোধনী বাতিলের রায় এসেছিল আট বছর আগে। সেই রায়ের আলোকে সংবিধানও সংশোধন করা হয়েছে সাত বছর আগে। তবে সর্বোচ্চ আদালত থেকে চূড়ান্ত রায়ের পর এখনও সেই সিনেমা হলের মালিক মূল্য বুঝে পাননি।
 
এ অবস্থায় মালিককে অর্থ ফেরত দেয়া সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আপিল বিভাগে জানিয়েছেন, মুন সিনেমা হলের মালিক ইতালিয়ান মার্বেল ওয়ার্কস লিমিটেডকে প্রায় শত কোটি টাকা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
 
প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগকে আজ সোমবার এ তথ্য জানান অ্যাটর্নি জেনারেল। তিনি বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয় কে চিঠিতে জানিয়েছে- মুন সিনেমা হল ও এর সম্পত্তির মূল্য বাবদ ৯৯ কোটি ২১ লাখ ৭৩ হাজার টাকা পরিশোধের জন্য মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের অনুকূলে চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 
এই তথ্য জানিয়ে অর্থ প্রদান প্রক্রিয়ার জন্য তিন মাস সময় চান অ্যাটর্নি জেনারেল। পরে আদালত আগামী ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করেন।
 
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একরামুল হক। আর মুন সিনেমা হলের মালিকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আজমালুল হোসেন কিউসি ও সাইফুল্লাহ মামুন।
 
আজমালুল হোসেন কিউসি জানিয়েছেন, সরকারকে ওই অর্থ আগামী ৯ ডিসেম্বরের মধ্যে পরিশোধ করতে বলেছেন আদালত।
 
পুরান ঢাকার ওয়াইজঘাটে অবস্থিত মুন সিনেমা হলটি মুক্তিযুদ্ধের সময় ওই সম্পত্তি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। পরে জিয়াউর রহমানের সময়ে সামরিক ফরমানের মাধ্যমে ওই সম্পত্তি মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের অধীনে ন্যস্ত করা হয়। অন্য সামরিক ফরমানগুলোর মতো এটিও সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে বৈধতা দেয়া হয়।
 
ওই সম্পত্তির মালিকানা দাবি করে ইতালিয়ান মার্বেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাকসুদুল আলম ২০০০ সালে হাইকোর্টে ওই ফরমানসহ সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী চ্যালেঞ্জ করেন। ২০০৫ সালের ২৯ আগস্ট হাইকোর্ট এক রাযে পঞ্চম সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করেন। একইসঙ্গে সম্পত্তির মালিকানা ইতালিয়ান মার্বেলকে ফিরিয়ে দিতে বলেন।
 
২০১০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ। পাশাপাশি ৯০ দিনের মধ্যে ইতালিয়ান মার্বেলকে মুন সিনেমা হল ফেরত দিতে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
 
সেই রায়ের আলোকে ২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী পাশ করা হয়। অথচ মুন সিনেমা হলের মালিককে নির্ধারিত সময়ে ওই সম্পত্তি বুঝিয়ে দেয়া হয়নি। পরে সম্পত্তি ফিরে পেতে ২০১২ সালের ১০ জানুয়ারি ইতালিয়ান মার্বেল ওয়ার্কস মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন করেন।
 
এর ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সালের ১৫ জানুয়ারি আপিল বিভাগ ওই সম্পত্তি অভিজ্ঞ ও নিরপেক্ষ এক প্রকৌশলীকে দিয়ে জমি ও স্থাপনার মূল্য নির্ধারণ করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেন। সেই মামলার শুনানিকালেই আদালত আজ আদালত ৯ ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পত্তির মূল্য মুন সিনেমা হলের মালিককে পরিশোধের নির্দেশ দিলেন।

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম/এইএমএল



সর্বশেষ সংবাদ