বাংলা ফন্ট

সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

03-10-2018
নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম

 সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন
ঢাকা: সরকারি বেতন স্কেলের নবম থেকে ১৩তম গ্রেড পর্যন্ত (প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণি) পদে নিয়োগে সব ধরনের কোটা তুলে দেয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।

বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠেয় বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, কমিটির রিপোর্ট মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হয়। তিনটি সুপারিশ ছিল। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ, কোটা বাতিল এবং কোটা বাতিলের ফলে বিদ্যমান জনগোষ্ঠীর বিষয়ে যথোপযুক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ।

তিনি বলেন, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরির ক্ষেত্রে সরাসরি মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো কোটা থাকছে না। তবে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির চাকরিতে কোটা থাকবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

শফিউল আলম বলেন, যদি কখনও অনগ্রসর সম্প্রদায়ের জন্য কোটার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়, তবে সরকার তা করতে পারবে।

তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণিতে কোটা বহাল আছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আজকালের মধ্যে আমরা মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেব। এর পর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করবে। আশা করছি দুই-তিন দিনের মধ্যে (প্রজ্ঞাপন) হয়ে যাবে।

এর আগে কোটা পর্যালোচনা কমিটি সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কোটা সংস্কারসংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। তিনি শুধু মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।

পর্যালোচনা কমিটির সুপারিশের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, প্রজাতন্ত্রের চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে ৯ম গ্রেডের (প্রথম শ্রেণি) ও ১০ম-১৩তম গ্রেড (দ্বিতীয় শ্রেণি) পদে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ প্রদান করা যেতে পারে।

এসব গ্রেডে নিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি বাতিল করা যেতে পারে। কোটা বাতিলের ফলে বিদ্যমান কোটা ব্যবস্থায় সুবিধাভোগী জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক অবস্থার ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে প্রতিফলিতব্য প্রভাব নির্দিষ্ট সময় অন্তর পর্যালোচনা করে প্রাপ্ত পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে যথোপযুক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যেতে পারে।

কোটা পর্যালোচনা কমিটি সূত্র জানায়, তারা ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকা ও ভুটানের সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি সংগ্রহ এবং পর্যালোচনা করে দেখেছে। তবে ভারত, পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি মিলছে না।

কারণ ওই দেশ দুটিতে বিভিন্ন প্রদেশ রয়েছে। একেক প্রদেশে একেক ধরনের পদ্ধতি বিদ্যমান। তাদেরও কিছু কোটা আছে সংখ্যালঘু শ্রেণির জন্য, তবে তা খুবই নগণ্য।

বাংলাদেশে ওই ধরনের কোনো মাইনরিটি শ্রেণি বা প্রদেশ নেই। দেশে ক্ষুদ্র কিছু নৃগোষ্ঠী থাকলেও তা ওইসব দেশের মতো নয়।

এ ছাড়া শ্রীলংকা ও ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যসহ বেশ কিছু প্রদেশে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৪০ বছর।

এসব তথ্য-উপাত্তের পাশাপাশি দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে এযাবৎ প্রশাসন সংস্কারে যেসব কমিশন ও কমিটি গঠন করা হয়েছিল তা সব প্রতিবেদন পর্যালোচনা করেছে সচিব কমিটি।

প্রতিটি কমিশন ও কমিটিই কোটা থেকে সরে এসে পর্যায়ক্রমে মেধাকে প্রাধান্য দিয়ে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের সুপারিশ করেছিল।

সূত্র আরও জানায়, সচিব কমিটির সিদ্ধান্ত অনুসারে প্রশাসন সংস্কারে মোজাফফর আহমদ চৌধুরী কমিশন, ১৯৭৭ সালে সাবেক সচিব আবদুর রশিদের নেতৃত্বে গঠিত কমিশন, ১৯৯৪ সালে চার সচিবের নেতৃত্বে গঠিত প্রশাসন পর্যালোচনা কমিটির রিপোর্ট, ১৯৯৬ সালে জনপ্রশাসন সংস্কারে গঠিত কমিশনের রিপোর্ট এবং সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. আকবর আলি খানের নেতৃত্বাধীন কমিশনের রিপোর্টের সুপারিশ আমলে নেয়া হয়েছে।

এ ছাড়া সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি) প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভিন্ন সময় নিয়োগে কিভাবে কোটা সংরক্ষণ করেছে, তাও বিবেচনা করেছে সংস্কার কমিটি। দেশে বিভিন্ন সময় কোটা নিয়ে প্রকাশিত সংবাদপত্রের কপিও সংগ্রহ করা হয়েছে।

রাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেলের মতামতও নেয়া হয়েছে। এসব বিষয় বিশ্লেষণ করে কোটা তুলে দেয়ার সুপারিশ করেছে পর্যালোচনা কমিটি।

বর্তমানে সরকারি চাকরিতে সংরক্ষিত কোটা ৫৬ শতাংশ। বাকি ৪৪ শতাংশ নেয়া হয় মেধা যাচাইয়ের মাধ্যমে। বিসিএসে নিয়োগের ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ৩০, জেলা কোটায় ১০, নারী কোটায় ১০ ও উপজাতি কোটায় ৫ শতাংশ চাকরি সংরক্ষণ করা আছে।

এই ৫৫ শতাংশ কোটায় পূরণযোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে সেক্ষেত্রে ১ শতাংশ পদে প্রতিবন্ধীদের নিয়োগের বিধান রয়েছে।

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম/এইএমএল


সর্বশেষ সংবাদ