বাংলা ফন্ট

'এমপিওভূক্তির জন্য অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে'

04-07-2018
নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম

 'এমপিওভূক্তির জন্য অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে'
ঢাকা: চলতি অর্থ বছরের বাজেটে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিভূক্তির জন্য অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেছেন, বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যা আপনারা পাবেন। এর বেশী কিছু বলতে চাই না।

মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ কথা বলেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে এ সংক্রান্ত প্রশ্নটি উত্থাপন করেন তরীকত ফেডারেশনের সদস্য নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী।

জবাবে মন্ত্রী আরো বলেন, এমপিভূক্তি একটি খারাপ কার্যক্রম। যা আমরা এখনো চালিয়ে যাচ্ছি। এমপিওভূক্তিতে যথেষ্ট জালিয়াতি ছিলো। যা মন্ত্রী কমানোর চেষ্টা করছেন।

তিনি আরো বলেন, শিক্ষার উন্নয়নে এমপিওভূক্তি কোনো ভূমিকা রাখে না। বরং ছাত্রবৃত্তি, স্কুল ফিডিং কর্মসূচি বিশেষ ভূমিকা রাখে। কিন্তু আপনারা সে বিষয়ে কোনো উদ্যোগ না নিয়ে বারবার এমপিওভূক্তির কথাই বলেন।

আওয়ামী লীগের সদস্য মিজানুর রহমান মিজানের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সরকারের নানামুখি পদক্ষেপের ফলে জনমনে করভীতি দূর হয়েছে। আগে জনমনে ধারণা ছিলো, একবার কর দিলেই নানাভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়। কিন্তু এখন সেই ধারণা বদলেছে।

তিনি আরো বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে দেশে করদাতার সংখ্যা ছিলো সাত লাখ। সরকারের পদক্ষেপে তা ১৫ লাখে উন্নীত হয়। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী দেশের করদাতার সংখ্যা ৩৩ লাখে পৌঁছেছে। যাদের মধ্যে বড় অংশ তরুণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সরকারি দলের মো. মকবুল হোসেনের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, পর্যায়ক্রমে দেশের সকল উপজেলায় কর অফিস স্থাপন করা হবে।
একই দলের গোলাম দস্তগীর গাজীর প্রশ্নের জবাবে আবুল মাল আবদুল মুহিত জানান, ব্যাংক ঋণের সুদ সরকার নির্ধারণ করে না। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের এ সংক্রান্ত আলোচনায় আমরা অংশগ্রহণ করে থাকি। আমরা পরামর্শ দিয়েছিলাম ঋণের সুদ সিঙ্গেল ডিজিটে আনতে। সেটা অনেকটাই বাস্তবায়ন হয়েছে।

আওয়ামী লীগের সদস্য মোহাম্মদ নোমানের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ব্যাংকঋণ ও আমানতের সুদের বৈষম্য কমাতে ইতোমধ্যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দুই সুদের পার্থক্য পাঁচ শতাংশের বেশী নয়।

সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্য হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়ার লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো দুই লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা। এ পর্যন্ত আদায় হয়েছে এক লাখ ৭৯ হাজার ছয়শ ২৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা।

আওয়ামী লীগের সদস্য এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে আবুল মাল আবদুল মুহিত জানান, ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক লাখ ৮৫ হাজার কোটি টাকা এবং উক্ত লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে অর্জিত সাফল্য এক লাখ ৭১ হাজার ছয়শ ৫৬ দশমিক ৪৪ কোটি টাকা।

একই দলের সদস্য মামুনুর রশীদ কিরণের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) আওতায় ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে দুইশ ৩৪ কোটি টাকা আয় হলেও ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে তা বেড়ে দাড়ায় তিনশ ৬৭ কোট টাকা। অর্থাৎ গত অর্থ বছরে  একশ ৩৩ কোটি টাকা বেশী আয় হয়েছে।
 
সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য নূরজাহান বেগমের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, ২০৩০ সালের পর দেশে হতদরিদ্র মানুষ থাকবে না বলে সরকার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। কিন্তু যেভাবে কাজ চলছে তাতে ২০২৪ সালের পর দেশে হতদরিদ্র লোক পাওয়া যাবে না।

সরকারি দলের সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান,  ২০০৮-০৯ অর্থ বছর থেকে ২০১৬-১৭ অর্থ বছর পর্যন্ত দেশের উন্নয়নের কাজে বিভিন্ন দেশ ও দাতা সংস্থার কাছ থেকে প্রাপ্ত বৈদেশিক সাহায্যের পরিমণি ২৪ হাজার একশ ৫৭ দশমিক ৬৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে ঋণের পরিমান ১৮ হাজার পাঁচশ ৫৯ দশমকি ৮৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং অনুদানের পরিমাণ ৫ হাজার ৫৯৭ দশমিক ৮১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
 
একই দলের সদস্য নজরুল ইসলাম বাবুর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে বিগত ৯ বছরে দেশে ৬৪ টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে ১৯ টি প্রকল্প সফলভাবে শেষ হয়েছে। বাকি ৪৫টি প্রকল্প চলমান।

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম/এইএমএল


সর্বশেষ সংবাদ