বাংলা ফন্ট

ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রী থাকা সত্ত্বেও চাকরি পাইনি কেবল হিজড়া বলে: ময়ূরী

04-03-2017
ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম

ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রী থাকা সত্ত্বেও চাকরি পাইনি কেবল হিজড়া বলে: ময়ূরী
ঢাকা: আরিফা ইয়াসমিন ময়ূরী। সিঁড়ি সমাজকল্যাণ সংস্থার সভাপতি। বাংলাদেশে প্রথম হিজড়া হিসেবে তিনি এই বছর পেলেন “জয়িতা” পুরস্কার। সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখার জন্য তাকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়। ঢাকা বিভাগের শ্রেষ্ঠ পাঁচজন জয়িতার মধ্যে তিনি একজন। ময়মনসিংহ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে তড়িৎকৌশলে ডিপ্লোমা পাস করেছেন ২০১০ সালে। শুধু হিজড়া পরিচয়ের জন্য তাকে চাকরি দেওয়া হয়নি। এমনকি মেলেনি জাতীয় পরিচয়পত্রও। ‘জয়িতা’ পুরস্কার পাওয়ার অনুভূতি এবং নিজের জীবনের নানা সংগ্রামের গল্প বললেন ‍এক ছোট্ট সাক্ষাৎকারে।
আপু, কেমন লাগছে “জয়িতা” পুরস্কার পেয়ে?
আসলে যেকোনো জিনিষ পাওয়াটাই সম্মান। ভালোই লাগছে। আনন্দিত লাগছে।
আপনার সংগঠন যার জন্য জয়িতা পেলেন, সেই বিষয়ে জানতে চাচ্ছি?
আমি হিজড়া কমিউনিটির সঙ্গে যুক্ত ২০০৭ সাল থেকে। ২০১৩ সালে আমি সমাজকল্যাণ মন্ত্রনালয় থেকে  “সিঁড়ি সমাজকল্যাণ সংস্থা” এর রেজিস্ট্রেশন করাই। এই সংস্থার মাধ্যমে আমি কিন্তু শুধু হিজড়া কমিউনিটির সঙ্গেই কাজ করি নি। বন্যা দুর্গতদের ত্রাণ দিয়েছি, শীতবস্ত্র দিয়েছি, অনেকের সমস্যা সমাধানে আর্থিক সহগায়তা করেছি, বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে কাজ করেছি।
এই যে এত সংগ্রামের পর আজ এই স্বীকৃতি পেলেন! যদি পিছনে ফিরে সংগ্রামের কথাগুলো মনে করতে বলি?
দেখেন আমাদের সমাজে হিজড়াদের কিট পতঙ্গের চাইতেও তুচ্ছ ভাবা হয়। আমি যে পর্যন্ত পড়াশুনা করেছি অনেক হিজড়াই সে পর্যন্ত পড়াশুনা করতে পারে না। তারাও যে মানুষ, এই সমাজ সে জায়গাটাই তাদের দেয় না। আমি মনে করি, আমার কাজে অনুপ্রাণিত হয়ে অন্য হিজড়াও যদি নিজেদের জীবনকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করে, তারাও ভবিষ্যতে এই স্বীকৃতি পাবে।
আপনি তড়িৎ প্রকৌশলে ডিপ্লোমা! ইঞ্জিনিয়ারিং জীবনে কেন গেলেন না?
প্রথমেই বলি,  আমাদের সমাজের লোকদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে হবে। আমার যে যোগ্যতা তাতে ভালো চাকরি হতো। শুধু মাত্র আমি হিজড়া বলে, আমার চাকরি হয় নি।
জাতীয় পরিচয়পত্র করতে দেওয়া হয়নি আপনাকে! এই বিষয়টা নিয়ে যদি বলতেন?
আমি যেটা বলব, আমাদের সকলের প্রিয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের স্বীকৃতি দিয়েছেন। অন্য কোন সরকারের আমলে এটা ঘটেনি। এই সরকার হিজড়াকে স্বীকৃতি দিয়েছে। শুধু এইটুকু যথেষ্ট নয়। জাতীয় পরিচয় পত্র করতে গেলে ছেলে অথবা মেয়ের পরিচয় দিতে হয়। কিন্তু আমি তো এর কোনটাই নই। তাই আমাদের জন্য আলাদা কোঠা দরকার। চাকরির ক্ষেত্রেও যদি আমাদের আলাদা কোঠা থাকে আমরা চাকরিতে সুযোগ পাব। স্বীকৃতির পাশাপাশি আমরা হিজড়াদের জন্য আলাদা কোঠা চাই যাতে আমরা কাজ করতে পারি।
আপনার সংগঠন নিয়ে আপনার ভবিষ্যত ইচ্ছা?
ভবিষ্যৎ ইচ্ছা হলো আমাদের সংস্থা থেকে হিজড়াদের কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া। জীবনের মান উন্নয়নের জন্য আমি চাই হিজড়াদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে।
ময়ূরী আপু আপনাকে অনেক ধন্যবাদ
আপনাকেও ধন্যবাদ।

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম/এইচএমএল

সর্বশেষ সংবাদ