বাংলা ফন্ট

'আন্দোলন-হুমকি দিয়ে লাভ নেই'

01-07-2018
নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম

 'আন্দোলন-হুমকি দিয়ে লাভ নেই'

ঢাকা: এমপিওভুক্তির দাবিতে শিক্ষকদের আমরণ অনশন ও দাবি প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, ‘আন্দোলন-হুমকি দিয়ে লাভ নেই। সঠিক পথে নিয়মানুযায়ী এমপিও (মান্থলি পে-অর্ডার) দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে কমিটি কার্যক্রম শুরু করেছে। নীতিমালা অনুযায়ী জুলাই থেকেই যোগ্য নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমপিও দেওয়া হবে।’

রবিবার জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে (এনসিটিবি) একাদশ শ্রেণির বই বাজারজাতকরণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রীর বলেন, , আমরা এমপিও সংক্রান্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। এককভাবে এ কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। এর সঙ্গে পাঁচটি মন্ত্রণালয়ের সম্পৃক্ততা রয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। নীতিমালা অনুযায়ী যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে যাচাই-বাছাই চলছে। যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোকেই এমপিও দেওয়া হবে। তবে এমপিও সুবিধা পেতে আরও কিছু সময় লাগবে।

অনুষ্ঠানে একাদশ শ্রেণির ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের বাংলা সাহিত্য, বাংলা সহপাঠ ও ইংলিশ ফর টুডে বই বাজারজাতকরণ উদ্বোধন করা হয়। পরে রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মাঝে বই তুলে দেন শিক্ষামন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে আরও ছিলেন জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের চেয়ারম্যান নারায়ণ চন্দ্র সাহা, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক মাহাবুবুর রহমান, ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান মু. জিয়াউল হক প্রমুখ।

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ লক্ষ্যে দুটি কমিটি গঠন করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ। এগুলো হলো শর্ত পূরণ করা প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রস্তুতের জন্য ‘অনলাইন অ্যাপলিকেশন গ্রহণ ও ব্যবস্থাপনা’ কমিটি এবং ‘এমপিওভুক্তির জন্য বাছাই’ কমিটি। প্রথম পর্যায়ে এক হাজার বা তার কিছু বেশি প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করবে সরকার।

এদিকে, রোববার সপ্তম দিনেও প্রেসক্লাবের সামনে আমরণ অনশন পালন করছেন শিক্ষকরা। এতে অসুস্থ হয়ে গেলে ৫ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ফেডারেশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, এ পর্যন্ত দেড় শতাধিক শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের মধ্যে বর্তমানে ৩৫ জনকে স্যালাইন দিয়ে শুইয়ে রাখা হয়েছে। ৫ জনকে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সংগঠনের সাধারন সম্পাদক অধ্যক্ষ বিণয় ভূষণ রায়, মো. গোলাম মোস্তাফা, মো. ফেরদ্দৌস আলম, আলী প্রামাণিক, আব্দুল কুদ্দুস। এ ছাড়াও গত কয়েকদিনে ৯ জন শিক্ষক চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে ফিরে আবারো আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন। নন-এমপিও শিক্ষকদের মধ্য থেকে ৩ জন পল্লী চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসার কাজ করছেন।

সংগঠনের সভাপতি অধ্যক্ষ গোলাম মাহমুদুন্নবী ডলার বলেন, আমরা হঠাৎ করে রাস্তায় বসে আন্দোলন শুরু করিনি। পর্যায়ক্রমে ২৭ দফায় আন্দোলন করেও আমাদের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে, তারপরও বাস্তবায়ন করা হয়নি। সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রী আমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, সেটি বাস্তবায়নে আমরা আন্দোলনে যুক্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের যৌক্তিক ও ন্যায্য দাবি আদায়ে দ্রুত এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া হবে। এ কারণে ১০ জুন থেকে আন্দোলন করে যাচ্ছি। গত সাতদিন ধরে আমরণ আনশন পালিত হচ্ছে। যদি এ আন্দোলনে কোনো শিক্ষকের প্রাণ যায় তবে এর দায়ভার শিক্ষামন্ত্রীকে নিতে হবে।

উল্লেখ্য, গত ২৫ জুন থেকে ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এমপিওভুক্তির দাবিতে আমরণ অনশন করছে নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশন। অনশনকারীরা জানান, বর্তমানে নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে পাঁচ হাজার ২৪২টি। এছাড়া সরকার নতুনভাবে ১৩১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে স্বীকৃতি দিয়েছে। তাদের দাবি, ‘সারা দেশে পাঁচ হাজারের বেশি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে ২০ লাখের বেশি শিক্ষার্থীদের বিনা বেতনে পাঠদান করে অত্যন্ত কষ্টকর ও মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অনেকের চাকরির মেয়াদ আছে ৫ থেকে ১০ বছর। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা উন্নয়নবঞ্চিত অবস্থায় রয়েছেন।’

এমপিওভুক্তির দাবিতে নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীরা গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে লাগাতার কর্মসূচি শুরু করেন। নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের ডাকে ওই অবস্থান ও অনশনের একপর্যায়ে এ বছরের ৫ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে তার একান্ত সচিব সাজ্জাদুল হাসান সেখানে গিয়ে দাবি পূরণের আশ্বাস দেন।

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম/এইএমএল

সর্বশেষ সংবাদ