বাংলা ফন্ট

যোগব্যায়াম: ধারণার চেয়েও বেশি ক্ষতিকর

04-07-2017
নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম

 যোগব্যায়াম: ধারণার চেয়েও বেশি ক্ষতিকর

নিউজ ডেস্ক: যোগব্যায়াম স্বাস্থ্যের জন্য যতটা ক্ষতিকর বলে আগে ধারণা করা হতো এটি তার চেয়েও বেশি ক্ষতিকর। এক সমীক্ষার ফলাফলে একথা জানা গেছে।

৫০০০ বছরের পুরনো এই ভারতীয় অনুশীলন শারীরিক ও মানসিক কল্যাণ নিশ্চিত করে বলে বিশ্বাস করা হয়। বিশ্বের অনেক নামীদামি তারকা যোগব্যায়ামের চর্চা করেন। এদের মধ্যে রয়েছেন সঙ্গীত তারকা বিয়ন্স, লেডি গাগা, ব্রাজিলের সুপার মডেল জিসেলে বান্ডচেন। এছাড়াও আছেন ডেভিড ও ভিক্টোরিয়া বেকহ্যাম দম্পতি। বিশ্বব্যাপী যোগব্যায়াম এখনও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এবং লাখ লাখ মানুষ নিয়মিত এর চর্চা করে থাকে।

কিন্তু সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে যোগব্যায়ামের কারণে প্রতি ১০ জনের মধ্যে একজনের বেশি সংখ্যক চর্চাকারীর মাংসপেশী ও হাড়ের জোড়ায় বিশেষ করে বাহুতে ব্যথার সৃষ্টি হয়। গবেষণায় জড়িত বিজ্ঞানীরা বলছেন, যোগব্যায়াম চর্চাকারীদের দেহে যেসব ব্যথা বিদ্যমান ছিলো সেগুলো পাঁচগুণেরও বেশি বেড়ে যায়। এই গবেষণার ফলাফল বডিওয়ার্ক অ্যান্ড মুভমেন্ট থেরাপি নামের সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষণায় নেতৃত্ব দানকারী সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ইভানজেলোস পাপাস বলেন, “আগে যতটা ধারণা করা হতো যোগব্যায়াম তার চেয়েও বেশি ক্ষতিকর হতে পারে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।”

তিনি বলেন, “আমাদের গবেষণায় দেখা গেছে, শারীরিকভাবে সক্রিয় মানুষদের মধ্যে অন্য যে কোনও ক্রীড়া থেকে যত জখমের ঘটনা ঘটে যোগব্যায়ামের কারণে তার চেয়ে ১০ শতাংশ বেশি ব্যথা-বেদনার সৃষ্টি হয়। অবশ্য লোকেরা এটিকে অত্যন্ত নিরাপদ একটি অনুশীলন বলে মনে করে।”

ড. পাপাস-এর গবেষণা দল নিউইয়র্কের দুটি যোগ চর্চা কেন্দ্রের সাড়ে তিন ’শর বেশি লোকের ওপর যোগব্যায়ামের ফলাফল পরীক্ষা করে দেখেন।

প্রফেসর পাপাস জানান, “যোগব্যায়াম পেশী ও হাড়ের ব্যথা উপসমে উপকারী হলেও এটি বেশ কিছু ক্ষেত্রে ব্যথা সৃষ্টিও করে। আমরা দেখেছি, যোগচর্চার ফলে বিদ্যমান ব্যথার ২১ শতাংশ আরও বেড়ে যায়। বিশেষ করে শরীরের ঊর্ধ্বাংশের বিদ্যমান অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের পেশী ও হাড়ের ব্যথা বৃদ্ধি পায়।”

গবেষণায় বলা হয়, ভয়াবহতার দিক থেকে এটি এমন যে, যোগব্যায়ামের কারণে ব্যথা সৃষ্টি হয়েছে এমন ব্যক্তিদের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশকে যোগচর্চা বর্জন করতে হয়েছে এবং সেই ব্যথা তিন মাসের বেশি সময় ধরে অব্যাহত থাকে।
গবেষণায় দেখা গেছে, “যোগ ব্যায়ামের কারণে যাদের শরীরে নতুন করে ব্যথা সৃষ্টি হয়েছে তাদের ব্যথা সৃষ্টি হয়েছে কাঁধে, কনুইতে, কব্জিতে এবং হাতে। সম্ভবত নিচের দিকে মাথা রেখে শরীরের ভর ঊর্ধ্বাংঙ্গের ওপর চাপানোর কারণে এমনটি ঘটে।”

নিউইয়র্কের মার্সি কলেজের প্রফেসর মার্ক ক্যাম্পো এই গবেষণা পরিচালনা করেন। তিনি যোগব্যায়ামের চর্চাকারীদেরকে অনুশীলন শুরুর আগে একটি ইলেক্ট্রোনিক প্রশ্নপত্রের জবাব দেয়ার এবং যোগচর্চার এক বছর পর আবারও তা সম্পন্ন করার পরামর্শ দিয়েছেন।

সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম/এইচএমএল




সর্বশেষ সংবাদ