বাংলা ফন্ট

সর্ষে-হীন সর্ষের তেলে শুধুই বিষ

16-05-2017
ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম

সর্ষে-হীন সর্ষের তেলে শুধুই বিষ

ঢাকা: সর্ষের মধ্যেই ভূত নয়, সর্ষেই ভূত! অর্থাৎ নামেই সর্ষের তেল। তাতে সর্ষের নামগন্ধ নেই। ঠিক যেমন গাওয়া ঘি-তে গন্ধ আছে, নেই শুধু ঘি। গন্ধের জন্য তাতে মেশানো হচ্ছে কৃত্রিম গন্ধদ্রব্য। একই ভাবে সর্ষের গন্ধ ও ঝাঁঝ আনার জন্য নিম্ন মানের বা অপরিশোধিত পাম তেল, তুষ তেল বা সয়াবিন তেলে মেশানো হচ্ছে এক ধরনের রাসায়নিক।

ওই রাসায়নিক দ্রব্য অন্ত্র ও যকৃতের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকর বলে জানাচ্ছেন কিড স্ট্রিটের বিজ্ঞানীরা। বস্তুটি ঠিক কী, সেটা বার করার জন্য রাসায়নিক বিশ্লেষণ এখনও হয়নি। তবে বিজ্ঞানীদের বক্তব্য, কৃত্রিম গন্ধ, ঝাঁঝ আনার এই সব রাসায়নিক সাধার‌ণত কার্সিনোজেনিক। অর্থাৎ তা শরীরে ঢুকলে ক্যানসার হতে পারে।

শনিবার রাতে হাওড়ার ডোমজুড়ে ভেজাল সর্ষের তেলের কারখানায় হানা দিয়ে ওই রাসায়নিক পেয়েছে কলকাতা পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স বা এসটিএফ। একাধিক সংস্থা ওই কারখানার তেল কিনে রংচঙে প্যাকেট বা প্লাস্টিকের বোতলে ভরে বিক্রি করে। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে ৩৬ হাজার লিটার ভেজাল তেল এবং ওই তেলকে সর্ষের তেলের চেহারা দিতে ব্যবহৃত ‘ডাই’। রাজস্থান থেকে তেল আসত ওই কারখানায়।

লালবাজারের এক শীর্ষ কর্তা জানান, কিড স্ট্রিটে ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অব ইন্ডিয়ার সেন্ট্রাল ফুড ল্যাবরেটরিতে ওই তেলের নমুনা পাঠানো হবে। ডোমজুড়ে মুম্বই রোডের ধারে ওই কারখানার মালিক ওমপ্রকাশ গুপ্ত পলাতক। ম্যানেজার দীপক পাত্রকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে তাঁকে পাঁচ দিনের জন্য হেফাজতে পেয়েছেন তদন্তকারীরা।

আশির দশকের শেষে বেহালায় ভেজাল তেল খেয়ে পঙ্গু হয়ে যান অনেকে। বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, সেটা ছিল প্রাকৃতিক দূষণ, কেউ কৃত্রিম ভাবে তেলে বিষ মেশায়নি। কিন্তু এই ভেজাল তেলে গন্ধ ও ঝাঁঝ আনতে রাসায়নিক মেশানো হচ্ছে। অর্থাৎ এই দূষণ মানুষেরই তৈরি। এই রাসায়নিক থেকে পক্ষাঘাতের আশঙ্কা না-থাকলেও যকৃৎ ও অন্ত্রের জটিল রোগ হতে পারে। এক বিজ্ঞানীর কথায়, ‘‘অনেক সময়ে খাবার খেয়ে পেটের অসুখ হচ্ছে এই তেলের জন্য। এ ক্ষেত্রে বিষের কাজ করছে ওই রাসায়নিক।’’ ভেজাল সর্ষের তেলে যে-তেল ব্যবহৃত হয়, সেটাও অনেক ক্ষেত্রে অপরিশোধিত বলে জানান বিজ্ঞানীরা। বিপদ সেখানেও।

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম/এইচএমএল

সর্বশেষ সংবাদ