বাংলা ফন্ট

সাদ্দাম হুসেন নাম বলে...

20-03-2017
ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম

সাদ্দাম হুসেন নাম বলে...


দিল্লি: দাদা ভালবেসে নাতির নাম দিয়েছিলেন সাদ্দাম হুসেন। কিন্তু দাদার দেয়া সেই নামের জেরে নাতির জীবন ওষ্ঠাগত।

ভারতের ঝাড়খণ্ডের জামশেদপুরের বাসিন্দা সাদ্দাম একজন মেরিন ইঞ্জিনিয়ার।

তিনি আক্ষেপের সুরে জানান, স্কুল ও কলেজ জীবন ঠিকই ছিল। নাম নিয়ে কোনো সমস্যার মুখে পড়তেই হয়নি। তামিলনাড়ুর নুরুল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করে বেরোনোর পরে চাকরি জোটাতে গিয়েই যত সমস্যা! আর সেই সমস্যার মূল কারণ তার নাম।

এই নামের চক্করেই এক বার বা দু’বার নয়, ৪০ বার তার চাকরির আবেদন বাতিল হয়ে গেছে।

সাদ্দাম বলেন, ‘প্রথম ছ’মাস বুঝেই উঠতে পারিনি কেন আমার আবেদন পত্র বাতিল করা হচ্ছে। পরবর্তী কালে যে সব সংস্থায় আবেদন বাতিল হয়েছে, সেই সব সংস্থার এইচআর ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে কথা বলে আসল বিষয়টা জানতে পারি। তারা জানায় নামের কারণেই তাকে বাতিল করা হয়েছে!’

সাদ্দাম জানান, একটা সময় নামটাই তার কাছে দুঃস্বপ্নের মতো লাগছিল। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে আইনি সাহায্যে নিজের নাম বদলে সাজিদ করেন সাদ্দাম। ড্রাইভিং লাইসেন্স, ভোটার কার্ড, পাসপোর্ট সব কিছুতেই নাম পরিবর্তন হয়। নাম পরিবর্তন করে সাদ্দাম ভেবেছিলেন সে যাত্রায় সঙ্কট কেটেছে। কিন্তু সমস্যা সেখানেই মিটে যায়নি। আইনি সাহায্যে পরিবর্তন করলেও, নুরুল বিশ্ববিদ্যালয়, যেখান থেকে তিনি ইঞ্জিনিয়ারিং করেছেন, তাদের দেয়া সার্টিফিকেটে নাম পরিবর্তন করতে অস্বীকার করে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যুক্তি দেখায়, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে সার্টিফিকেটে নাম পরিবর্তন না হলে তারা কোনোভাবেই সার্টিফিকেটে নাম পরিবর্তন করবেন না।

হতাশ হয়ে সাদ্দাম ঝাড়খণ্ড আদালতের দ্বারস্থ হয়। আগামী ৫ মে এই মামলার শুনানি।

এদিকে, নাতির এই হয়রানি দেখে দাদা এখন কপাল চাপড়াচ্ছেন। নিজের ‘নির্বুদ্ধিতা’র কারণেই যে নাতির এই দুর্দশা, আক্ষেপের সুরে জানান বৃদ্ধ।

সূত্র: আনন্দবাজার

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম/এইচএমএল

সর্বশেষ সংবাদ