বাংলা ফন্ট

সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ বাংলাদেশিসহ নিহত ৯

06-01-2018
নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম

 সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ বাংলাদেশিসহ নিহত ৯
সৌদি: সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জিজান শহরে সড়ক দুর্ঘটনায় ৯ বাংলাদেশি শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন কমপক্ষে আরও ১৮ জন। বাংলাদেশ সময় শনিবার সকালে সৌদির জিজান প্রদেশের শামত্তা নামক এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সময় শনিবার সকালে জিজান থেকে ৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে শামত্তা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতদের মধ্যে ৬ জনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন- নরসিংদী সদরের করিমপুর ইউনিয়নের বাউশালি গ্রামের আমীর হুসাইন, সিরাজগঞ্জের দুলাল, টাঙ্গাইলের সাইফুর ইসলাম, নারায়ণগঞ্জের মতিউর রহমান, নরসিংদীর ইদন এবং কিশোরগঞ্জের জসিম।

জানা গেছে, গাড়িতে কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন ওই বাংলাদেশিরা। জিজান থেকে ৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে শামত্তা এলাকায় পেছন থেকে ওপর একটি গাড়ি ধাক্কা দেয়। এতে গাড়িটি উল্টে ঘটনাস্থলেই আটজনের মৃত্যু হয়।

হাসপাতালে নেয়ার পর মারা যান আরও একজন। আর আহত বাকি সাতজনের বিভিন্ন অঙ্গহানি হয়েছে। হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন তারা।

আহত দু’তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।

স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, সৌদি সেনাবাহিনীর একটি গাড়ি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে জিজানের আল-ফাহাদ কোম্পানির পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের বহনকারী একটি গাড়িকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে ওই গাড়ি উল্টে গিয়ে ঘটনাস্থলেই ৮ জনের মৃত্যু হয়। আহত হন অন্তত ৯ জন।

আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার পথে আরও একজনের মৃত্যু হয়। হতাহতরা জিজান থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে সামস্তা শহরে কাজ করতে যাচ্ছিলেন।

শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে দূতাবাস বন্ধ থাকায় নিহতদের বিস্তারিত পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তবে সৌদিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, নিহতদের সবাই বাংলাদেশি। তাদের মরদেহ জিজানের একটি মর্গে রাখা হয়েছে।

এর আগে গত বছর অক্টোবর মাসে সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছিলেন। ২৪ অক্টোবর দুপুর ১২টায় সৌদির খামিজ মোশায়েত থেকে তাসলিছ আসার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- কুমিল্লা সদর উপজেলার ৫নং পাঁচথুবী ইউনিয়নের মিরপুর গ্রামের সর্দার বাড়ির ইদ্রিস মিয়ার ছেলে লিটন মিয়া (৫০) এবং সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার মানিকপুর ইউনিয়নের মনসুরপুর গ্রামের রেকল আহমদ (৪৫)।

প্রত্যক্ষদর্শী মোহম্মদ ফারুক হোসেন জানান, লিটন মূলত গাড়ির ড্রাইভার এবং রেকল আহমদ ভগ্নিপতি মোতালেবের মালিকাধীন হোটেল জারিফের ম্যানেজার হিসেবে চাকরি করতেন। খামিস মোশায়েত থেকে আসার সময় হাপায়ার নামক স্থানে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক বাতির স্টিলের খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা খায়। এতে ঘটনাস্থলে দু’জনই প্রাণ হারান।

নিহতদের মরদেহ তাসলিছ থানার জেনারেল হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে।

মৃত্যুর খবরে লিটন ও রেকলের বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহত রেকলের স্ত্রী ও এক ছেলে রয়েছে। ১৫ বছর ধরে তিনি প্রবাসে ছিলেন। তার লাশ সৌদি আরবেই দাফন করা হবে বলে নিশ্চিত করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান।

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম/এইএমএল


সর্বশেষ সংবাদ