বাংলা ফন্ট

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে

09-04-2017
নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে


ঢাকা: মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের মৃত্যুর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। প্রতিদিনই গড়ে ১০ জনের মরদেহ দেশে আসছে। চলতি বছরের গত চার মাসে দেশটিতে ১৯০ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে, সড়ক দুর্ঘটনা ও নির্মাণকাজ করতে গিয়ে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে গত ৫ এপ্রিল পর্যন্ত ১৯০ জন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। তবে এদের কারো পরিবারই মৃত্যুজনিত ক্ষতিপূরণ পায়নি। মৃতদের মধ্যে যাদের বৈধতা ছিলো, তারাই ক্ষতিপূরণ পাবেন। ক্ষতিপূরণ আদায়ে দূতাবাস সর্বাত্মক সহযোগিতা করে থাকে বলে কর্মকর্তারা জানান।

শুধু মালয়েশিয়ায় নয়, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নানা কারণে বাংলাদেশিদের মৃত্যু হচ্ছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত ১০ বছরে বিভিন্ন দেশে মারা গেছেন ২৪ হাজার ৩৮১ জন বাংলাদেশি। তবে সমুদ্রপথে পাড়ি দিতে গিয়ে বা অবৈধভাবে বিদেশ পাড়ি জমাতে গিয়ে কতজন মারা গেছেন তার সরকারি হিসাবে বলা হয়নি।

পরিসংখ্যানে জানা যায়, প্রতি মাসে প্রায় দুই শতাধিক প্রবাসীর মরদেহ দেশে আসছে। তবে গত চার মাসের হিসাব আরো উদ্বেগজনক। এ সময়ে প্রতিদিন গড়ে ১০ জনের মরদেহ দেশে আসছে বলে জানা গেছে। এই হিসাবের বাইরে যাদের বিদেশে দাফন করা হচ্ছে তাদের সংখ্যা জানা যায়নি।

বাংলাদেশের প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন ওয়েজ আনার্স কল্যাণ বোর্ডের পরিসংখ্যানে জানা গেছে, স্বাভাবিক মৃত্যুর বাইরে সড়ক দুর্ঘটনা, কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনা, অগ্নিকাণ্ড, আত্মহত্যা এমনকি প্রবাসে বাংলাদেশিরা খুনের ঘটনারও শিকার হচ্ছেন। এছাড়া বিভিন্ন অপরাধে ৪৭টি দেশে ৭৮ জন বাংলাদেশিকে ওইসব দেশের আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। মানবিক কারণে ২৯ জনের মৃত্যুদণ্ড রহিত করে তাদের অন্য দণ্ড দিতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলেও জানা গেছে।

পরিসংখ্যানে আরও জানা যায়, প্রবাসে বাংলাদেশি মৃত্যুর তালিকায় শীর্ষে রয়েছে সৌদি আরব। এরপরে মালয়েশিয়া। গত কয়েক বছরে বিদেশ থেকে যত মরদেহ এসেছে তার প্রায় ৬৫ ভাগ এসেছে সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, আরব আমিরাত, ওমান ও কুয়েত থেকে।

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ওয়েজ আনার্স কল্যাণ বোর্ড প্রবাসী শ্রমিকদের মরদেহ দেশে পাঠানোর খরচ বহন করে থাকে। এছাড়া ৯ হাজার ৭৫৪ জন শ্রমিকের পরিবার ক্ষতিপূরণ বাবদ ওই বোর্ডের তহবিল থেকে অনুদান পেয়েছে।

তবে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, প্রশাসনিক ধীরগতি, হয়রানিসহ নানা কারণে বেশিরভাগ শ্রমিকের পরিবার ক্ষতিপূরণ পায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম/এইচএমএল

সর্বশেষ সংবাদ