বাংলা ফন্ট

৯ বছরে এক মহিলা দুই যুবককে বিয়ে করলেন ৫ বার!

04-12-2017
নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম

 ৯ বছরে এক মহিলা দুই যুবককে বিয়ে করলেন ৫ বার!
রাজশাহী: যখন যাকে ভালো লাগে তখনই ফিরে যান তার কাছে! ৯ বছরে এভাবেই দুই যুবকের সঙ্গে পাঁচবার বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন এক মহিলা। এরপরও বনিবনা হয়নি কারও সঙ্গেই। দেনমোহরের টাকা নিয়ে থানা চত্বরে সালিশ বৈঠক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বৈঠক সংশ্লিষ্টরা জানায়, ৯ বছর আগে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার মীরগঞ্জ ভানুকর গ্রামের রঙিলা খাতুন প্রথম বিয়ে করেন চারঘাট উপজেলার আজিজুল হককে। কিন্তু বনিবনা না হওয়ায় তাকে ডিভোর্স দিয়ে ৪০ হাজার টাকা দেনমোহর ধার্য করে তিনি বিয়ে করেন বাঘা উপজেলার দক্ষিণ মিলিক বাঘা গ্রামের সাজদার রহমানকে। সাজদারের সংসারে একটি সন্তান জন্মের তিন বছর পর তিনি আবারও চলে যান আগের স্বামী আজিজুল হকের কর্মস্থল রাজধানী ঢাকায়।

সেখানেও সুখ মেলেনি রঙিলার। সন্তানের জন্য কান্নাকাটি করে ফের তিনি চলে আসেন সাজদারের কাছে। ওই বিয়েতে দেনমোহর ধার্য করা হয় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। কিন্তু বছর পার না হতেই সাজদারকে আবারও ডিভোর্স দিয়ে নির্যাতন ও যৌতুকের অভিযোগে আদালতে মামলা করেন রঙিলা। এ মামলায় দুই মাস হাজতবাসের পর বাড়ি ফিরেন সাজদার।

এবার মামলা মীমাংসার জন্য সাজদার ও তার আত্মীয়দের বাবার বাড়ি ডেকে পাঠান রঙিলা। সেখানে ফের সংসার করার দাবি জানানো হয়। অন্যথায় দেনমোহরের আড়াই লাখ টাকা দাবি করেন তিনি। নিরূপায় সাজদার প্রস্তাব মেনে রঙিলাকে তৃতীয়বার বিয়ে করেন।

প্রতিবেশী টুটুল ও সাজদার রহমান জানান, দুলাভাই শহিদুল ইসলামের কারণে বারবার ঘর ভেঙেছে রঙিলার। রঙিলা ও তার দুলাভাই শহিদুল ইসলাম জানান, সাজদারের সঙ্গে তৃতীয় বিয়েতেও আড়াই লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করা হয়। কিন্তু সেই বিয়ের কাবিননামা তোলা হয়নি।

ব্যতিক্রমী এ ঘটনা নিয়ে বসা সালিশে উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন পৌর কাউন্সিলর হামিদুল ইসলাম, কাউন্সিলর মতিউর রহমান, আওয়ামী লীগ নেতা বাদশা এবং যুবলীগ নেতা শাহিনুর রহমান পিন্টু। তারা জানান, সাজদার আর রঙিলার সঙ্গে ঘর-সংসার করবে না। এ কারণেই মূলত সালিশে বসা। তবে তৃতীয় বিয়ের কাবিন দেখাতে না পারার কারণে শনিবার সালিশ অসমাপ্ত থাকে।

সালিশের সভাপতি বাঘা থানার ওসি (তদন্ত) হীরেন্দ্রনাথ প্রামাণিক এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন।

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম/এইএমএল



সর্বশেষ সংবাদ