বাংলা ফন্ট

দাদিকে বাঁচাতে জঙ্গল অতিক্রম

16-03-2017
ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম

  দাদিকে বাঁচাতে জঙ্গল অতিক্রম

নিউজ ডেস্ক: চারদিকেই কেবলই জঙ্গল। ভয়ঙ্কর সব প্রাণীর আনাগোনা। তাপমাত্রা শূন্যের ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস নীচে। বিশ্বের শীতপ্রবণ এলাকা। কিন্তু ভয়ঙ্কর এবং কঠিন এসব পরিস্থিতির কোনটাই আটকে রাখতে পারেনি চার বছরের মেয়েকে। নির্ভয়ে দাদীর জীবন বাঁচাতে ঘরের বাইরে বেরিয়ে যায় মেয়েটি যার নাম এখন রাশিয়ার সংবাদপত্রে গুরুত্বসহকারে প্রকাশ পাচ্ছে। চারদিকে তার সাহসের সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে।

সাইবেরিয়ার তুভা প্রজাতন্ত্রে ঘটেছে এই ঘটনা। স্থানীয় দৈনিক ‘কমস্কোমলোস্কোয়া প্রাভদা’র এক সাংবাদিক জানিয়েছেন, মঙ্গোলিয়া সীমান্তে সাইবেরিয়ার এক দুর্গম, প্রত্যন্ত এলাকায় ওই শিশুকন্যা সাগলানা সালচাককে তার প্রায় অথর্ব দাদী ও অন্ধ দাদার কাছে রেখে মা তার দ্বিতীয় স্বামীকে নিয়ে থাকেন পাঁচ মাইল দূরের একটি জায়গায়।

একদিন রাত শেষ হওয়ার আগেই হঠাত্ ঘুম ভেঙে যায় ওই চার বছর বয়সের মেয়েটির। ঘুম ভেঙে মেয়েটি দেখে তার দাদী বিছানা থেকে উঠতে পারছেন না। প্রায় অচৈতন্য অবস্থা তার। বাড়িতে টেলিফোন নেই, ইন্টারনেট নেই, আশপাশে পাঁচ কিংবা ছয় মাইলের মধ্যে নেই কোনো ঘরবাড়িও। তাই দাদীর অসুস্থ হয়ে পড়ার খবর কোনও আত্মীয়-পরিজনদের জানানো সম্ভবও ছিল না। তা বুঝে রাতের অন্ধকারেই হাড়জমানো ঠান্ডা উপেক্ষা করে, নেকড়ের ভয় না পেয়ে ঘন জঙ্গল পেরিয়ে ১২ মাইল দূরে আত্মীয়দের খবর দেওয়ার জন্য ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়ে শিশুকন্যা সাগলানা।

এক আত্মীয় ভোরে রাস্তায় বেরিয়ে সাগলানাকে ওই রাস্তা ধরে হেঁটে যেতে দেখে। সাগলানাকেই বাড়িতে আনতেই অসুস্থ হয়ে পড়ে।

হাড়জমানো ঠান্ডায় অতটা দূরত্ব হেঁটে আসার ধকল সইতে পারেনি বলেই অসুস্থ হয়ে পড়েছিল মেয়েটি। পরে আত্মীয়স্বজনরা সাগলানার ঠাকুমার বাড়িতে গিয়ে জানতে পারেন হূদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা গেছেন।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান ও আনন্দবাজার পত্রিকা

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম/এইচএমএল

সর্বশেষ সংবাদ