বাংলা ফন্ট

মাগুরার সেই মায়ের কোলে বৃদ্ধ শিশুর খবর আন্তর্জাতিক মিডিয়ায়!

02-08-2016

মাগুরার সেই মায়ের কোলে বৃদ্ধ শিশুর খবর আন্তর্জাতিক মিডিয়ায়!

বায়েজিদের বয়স মাত্র চার বছর। কিন্তু দেখতে যেন বৃদ্ধ। মায়ের কোলেই সারল্যমাখা চেহারা। মুখে মায়া জড়ানো হাসি। কিন্তু প্রথম দেখাতে চমকে উঠতে হয়। চেহারা প্রায় বৃদ্ধ মানুষের মতো। দাঁত পড়ে গেছে, চোখ, মুখসহ শরীরের চামড়া ঝুলে পড়েছে।

তবে শারীরিকভাবে অস্বাভাবিক হলেও মানসিকভাবে খুবই প্রাণবন্ত বায়েজিত। সবার সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কর্থাবার্তা বলেন এবং সব কিছুতেই সচেতন। এমন কি নিজের বয়স সম্পর্কেও।

বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেলা মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার খালিয়া পশ্চিমপাড়া গ্রামে এই ব্যতিক্রমী শিশুর বাস। লাভলু শিকদার ও তৃপ্তি খাতুন দম্পতির প্রথম সন্তান বায়েজিদ।

মা তৃপ্তি বলেন, বায়েজিদ অন্য দশটি শিশুর মত স্বাভাবিক নয়। প্রথমবার মা হয়ে সন্তানের এমন বেদনা সইতে পারছি না।

চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, বায়েজিদ বিরল ‘প্রোজেরিয়া’ রোগে আক্রান্ত। এ ধরনের মানুষের গড় আয়ু সর্বোচ্চ ১৩ বছর।তারা মারাত্মক হার্ট অ্যাটাক এবং উচ্চ রক্তচাপ ঝুঁকিতে থাকেন

চিকিৎসকদের মতে, দেশে এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার এটি দ্বিতীয় ঘটনা। এক কোটি শিশুর মধ্যে একজনের এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

সম্পর্কে খালাতো ভাইবোন লাভলু ও তৃপ্তির বিয়ে হয় প্রায় ছয় বছর আগে। বিয়ের প্রথম বছরের মাথায় জন্ম হয় বায়েজিদের। জন্মের সময়ই নবজাতকের চেহারা ছিল কিছুটা অন্য রকম। ভয়ে কাছে ভিড়তে চাইত না কেউ। কিন্তু নাড়িছেঁড়া ধনকে পরম মমতায় লালনপালন করতে লাগলেন মা তৃপ্তি খাতুন। বয়স বাড়তে থাকার সঙ্গে সঙ্গে শিশুটির চেহারায় বার্ধক্যের ছাপ স্পষ্ট হতে থাকে।

মা তৃপ্তি খাতুন বলেন, ‘আট মাস পর্যন্ত হামাগুড়ি দিতে পারত না। অথচ তিন মাসে সব দাঁত ওঠে। হাঁটা শিখতে ওর অনেক সময় লাগে; সাড়ে তিন বছর। স্বাভাবিক চলাফেরা, খাওয়া-দাওয়া, বায়না সবই করে।’

মাগুরা সদর হাসপাতালের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু বলেন, বিরল এ রোগে আক্রান্ত শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি হয় না। এর প্রতিষেধক বা চিকিৎসা নেই। এ পর্যন্ত দেশে বায়েজিদসহ দুজন এ রোগে আক্রান্ত বলে তিনি জানেন।

হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, রোগটি জেনেটিক অসংগতি থেকে হয়। এক কোটি শিশুর মধ্যে একজনের এতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিশ্বে ১০০টির মতো এমন রোগীর কথা জানা যায়। শারীরিক বৃদ্ধি স্বাভাবিক থাকলেও আক্রান্ত শিশুর চামড়া বুড়ো মানুষের মতো কুঁচকানো হয়। মাথায় চুল কম থাকে বা থাকেই না।

বাবা লাভলু শিকদার বলেন, ২০১২ সালের ১৪ মে বায়েজিদের জন্ম। অনেক চিকিৎসক দেখিয়েছেন। চিকিৎসার পেছনে তিন-চার লাখ টাকা খরচ করেছেন। ক্ষুদ্র ব্যবসা আর চাষাবাদ করে কুলিয়ে উঠতে না পারায় আর চিকিৎসা করাতে পারছেন না।

মা তৃপ্তি খাতুন আরো বলেন, আমার সন্তান স্বাভাবিক কোনো শিশু নয়। এটা পিতামাতার জন্য এক ধরনের ট্রাজেডি যে, যখন তারা জানতে পারে তাদের সন্তান বেশি দিন বাঁচবে না।

সর্বশেষ সংবাদ