বাংলা ফন্ট

আত্মহত্যার ভিডিও সরাসরি সম্প্রচার করলো ছাত্র

17-03-2018
নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম

  আত্মহত্যার ভিডিও সরাসরি সম্প্রচার করলো ছাত্র
ঢাকা: দক্ষিণ ভারতের শহর হায়দ্রাবাদ সংলগ্ন অঞ্চলের বাসিন্দা এক ছাত্র তার আত্মহত্যার ভিডিও সরাসরি সম্প্রচার করেছেন।

নিজের বান্ধবীকে হোয়াটস্অ্যাপে ভিডিও কল করার সময়েই আজমীর সাগার নামের ২০-বছর বয়সী ঐ তরুণ গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলে পড়ে। তার আত্মীয়রা কয়েক ঘণ্টা পরে ঘর থেকে তার দেহ উদ্ধার করে।

হায়দ্রাবাদ সংলগ্ন সাইবারাবাদ পুলিশ কমিশনারেট এলাকার নেরেদমেট অঞ্চলে এই ঘটনাটি ঘটে বুধবার সকালে।

আত্মহত্যার ওই ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেছে।

ছবিতে প্রথমে সাগারের মুখ দেখা যাচ্ছে। তারপরে সেই উইন্ডোটি ছোট হয়ে গিয়ে এক তরুণীর ছবি দেখা যাচ্ছে। কয়েক সেকেন্ড পরে তারপাশে বসা আরেক তরুণীকে দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে ছোট উইন্ডোতে দেখা যাচ্ছে ঘরের কোনায় ছাদ থেকে ঝোলা একটি দড়ি নিজের গলায় পড়ে নিচ্ছে ঐ তরুণ।

ততক্ষণ পর্যন্ত ওই দুই তরুণী মজাই করছিল - তাদের হাসাহাসির শব্দও শোনা যাচ্ছে স্পষ্ট। তারা সম্ভবত ভাবছিল যে সাগার মজা করছেন।

কিন্তু সে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলে পড়তেই এক তরুণী চিৎকার করে ওঠে।

নেরেদমেট থানার ইন্সপেক্টর ইনচার্জ এম জগদীশ চন্দর বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, "সাগার নামের ওই ছেলেটির সঙ্গে ১৯ বছর বয়সীর একটি মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু তাদের দুজনের বাড়িতেই সম্পর্ক মেনে নেয় নি। বুধবার সকালে সাগার তার বান্ধবীকে হোয়াটস্অ্যাপে ভিডিও কল করে। তার মধ্যেই সে আত্মহত্যা করে।"

পুলিশ আরও বলছে, আজমীর সাগার তার দিদি-জামাইবাবুর বাড়িতে থেকে একটি কারিগরীবিদ্যার কোর্স করছিল।

বুধবার ঘটনার সময়ে তার বাড়িতে অন্য কেউ ছিল না।

তাকে ফোন করে কোনও সাড়া না পেয়ে দিদি বাড়িতে ছুটে আসেন। ততক্ষণে সাগরের মৃত্যু হয়েছে।

জগদীশ চন্দর বলছিলেন, "যে মেয়েটির সঙ্গে সাগারের সম্পর্ক ছিল বলে আমরা জানতে পেরেছি, সে আমাদের থানা এলাকার বাসিন্দা নয়। তাই তার সঙ্গে এখনও কথা বলে উঠতে পারি নি। একটা অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করেছি।"

তবে ভারতে আত্মহত্যার এরকম লাইভ সম্প্রচার এই প্রথম নয়।

অন্ধ্রপ্রদেশেই ফেব্রুয়ারি মাসে এক ছাত্রী তার ছেলেবন্ধুর সঙ্গে ভিডিও চ্যাট করতে করতে হঠাৎই গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করে। সেই বন্ধুটিই ছাত্রীটির হস্টেলে দৌড়ে গিয়ে দরজা ভেঙ্গে তাকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করে। তবে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরে মেয়েটির মৃত্যু হয়।

গতমাসেই দিল্লির এক যুবকও একই ভাবে আত্মহত্যার লাইভ সম্প্রচার করছিল ফেসবুকে। কিন্তু সেই ফেসবুক লাইভ ভিডিও দেখতে পেয়ে এক বন্ধু ওই যুবকের এক আত্মীয়কে খবর দেয়। এক প্রতিবেশীর সাহায্যে দরজা ভেঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থাতেই উদ্ধার করা হয় ঐ যুবককে। উদ্ধার করার সামান্য কিছুক্ষণ আগেই সে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলে পড়েছিল। জীবিত অবস্থাতেই উদ্ধার করার কারণে বেঁচে গেছে ওই যুবক।

কলকাতার মনোবিজ্ঞানী ইন্দ্রনীল সাহার কাছে জানতে চেয়েছিলাম কোন্ পরিপ্রেক্ষিতে মানুষ নিজের মৃত্যুর ছবি অন্যদের কাছে পৌঁছিয়ে দিতে চায়?

"এরকম ঘটনা বেশ কয়েকটা হল। আমি বলব, নিজেকে জাহির করার যে মানসিকতা থেকে মানুষ সেলফিম্যানিয়াক হয়ে যায়, সেই একই মানসিকতারই একটা চূড়ান্ত এক্সটেনশান এটা। পরিবার বা সমাজের কাছে 'লাইক' অথবা স্বীকৃতি পেতে মানুষ যেভাবে সেলফি তোলে, সেই একই ভাবে নিজেদের মৃত্যুর সময়েও সে পরিচিতি পেতে চায়।" "ব্লু হোয়েল গেমেও কিন্তু এরকমই একটা চূড়ান্ত পর্যায় আছে, যেখানে আত্মহত্যার লাইভ ভিডিও দেখাতে হবে," বলছিলেন ড. ইন্দ্রনীল সাহা।

ড. সাহা আরও জানাচ্ছিলেন, অনেকে আবার প্রিয়জনকে চাপে ফেলতে গিয়ে হয়তো আত্মহত্যার ভয় দেখাতে চায়। আর তখনই সেই প্রচেষ্টার সরাসরি সম্প্রচার করে, কিন্তু আত্মহত্যার চেষ্টা করে চাপে ফেলতে গিয়ে দুর্ঘটনায় মৃত্যু হচ্ছে তার।

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম/এইএমএল




সর্বশেষ সংবাদ