বাংলা ফন্ট

পোকামাকড়ের রোবট তৈরী করছে জার্মান

23-04-2018
নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম

  পোকামাকড়ের রোবট তৈরী করছে জার্মান

ঢাকা: জার্মানির রোবটিক্স কোম্পানি ফেস্টো রোবট তৈরী করে থাকে। তবে এই কাজে একই জাতীয় অন্য কোম্পানিগুলো থেকে ফেস্টোর তফাত্ হলো তারা কেবল বিভিন্ন প্রাণী ও পোকামাকড়ের রোবট তৈরী করে। মজার ব্যাপার হলো এগুলো দেখতে যেমন চতুষ্পদী প্রাণী কিংবা বহুপদী পোকামাকড়ের মতো হয়, এদের আচরণও ঠিক সেসব প্রাণীর মতো। এদের চলার কিংবা ওড়ার ঢং একদম আসল প্রাণিটির কাছাকাছি।

সম্প্রতি ফেস্টো একটি নতুন মাকড়শা রোবট উন্মুক্ত করেছে। এই মাকড়শা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন। এটি যেমন ডিগবাজি খেতে পারে, তেমনি সামনে কেউ এসে পড়লে তাকে ধাওয়াও করতে পারে। তবে ভয় পাবার কারণ নেই, মাকড়শাটি কারো দিকে ধেয়ে যায় কেবল একটু মজা করার জন্য, কারো গায়ে কামড় বসানোর জন্য নয়। এই মাকড়শাটির মডেল করা হয়েছে মরক্কোর জঙ্গলের বাস করা বিশালদেশী এক ধরনের মাকড়শাকে। এরা মানুষ দেখলে তেড়ে যায়, কিন্তু কামড়ায় না।  আবার পালানোর সময় বলের মতো গোলাকার হয়ে গড়াতে গড়াতে ছুটে যায়। ফেস্টোর বায়োনিক ডিপার্টমেন্টের প্রধান কর্মকর্তা কোবেন বলেছেন, এই প্রজাতির মাকড়শার কিছু অদ্ভুত বৈশিষ্ট্যের জন্য একে মডেল করা হয়েছে। এটি ক্ষেপে গেলে স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ গতিতে দৌঁড়াতে পারে।

এই প্রথম নয়, ফেস্টো আর আগে বিভিন্ন প্রাণীকে মডেল করে রোবট বানিয়েছে। তবে কখনো কখনো বাস্তবের সাথে কল্পনাকেও মিশিয়ে দিয়েছে। যেমন উড়ন্ত ডলফিন, উড়ন্ত শৃগাল, উড়ন্ত সাপ ইত্যাদির ভিডিও দেখে অনেকে এগুলোকে ভিনগ্রহের কোনো প্রাণী বলে মনে করেছিলেন। ফেস্টোর রোবট প্রজাপতি, ফড়িং, বাদুড়, মৌমাছি ইত্যাদি যখন আকাশে ওড়ে তখন কেউই এগুলো আসল না নকল তা বুঝতে পারে না। এদের ওড়ার ভঙ্গি, অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নাড়ানো, দ্রুতগতিতে বাক পরিবর্তন ইত্যাদি আসল প্রাণীদের মতো। ফেস্টোর রোবটগুলো আকারে যত ছোট হোক না কেন, এগুলোর দারুণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তসম্পন্ন। যেমন একটি ভিডিওতে দেখা যায় একটি রুমের মধ্যে অসংখ্য প্রজাপতি ঝাঁকে ঝাঁকে নিজের খেয়ালমতো দ্রুতগতিতে উড়ে বেড়াচ্ছে কিন্তু কেউ কারো সঙ্গে কিংবা ছাদে কিংবা দেয়ালে ধাক্কা খাচ্ছে না। কোম্পানিটি জানিয়েছে, তাদের রোবট তৈরীর উদ্দেশ্য বাণিজ্য করার জন্য নয়। তারা কখনো তাদের তৈরী রোবট বিক্রি করবে না। বিভিন্ন প্রদর্শনীতে দেখিয়ে মানুষকে বিনোদন ও জ্ঞান দেয়াই তাদের গবেষণার আসল লক্ষ্য। -সিএনএন

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম/এইএমএল


সর্বশেষ সংবাদ