বাংলা ফন্ট

আসলেই কী বিএফএফ লিখে কোনো লাভ আছে?

24-03-2018
নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম

 আসলেই কী বিএফএফ লিখে কোনো লাভ আছে?
নিউইয়র্ক: ফেসবুক ব্যবহারকারীদের মধ্যে ব্যক্তিগত গোপন তথ্যগুলো নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এরই মধ্যে ফেসবুক প্ল্যাটফর্মে ‘বিএফএফ’ নামের এক ভুয়া খবর ছড়াতে দেখা গেছে। ফেসবুক ব্যবহারকারীদের বোকা বানাতে ‘বিএফএফ’ প্রতারণার আশ্রয় নিচ্ছেন দুর্বৃত্তরা। ভুয়া পোস্ট দিয়ে কমেন্টে বিএফএফ লিখতে বলা হচ্ছে। বিএফএফ লিখলে সে লেখাটি রঙিন হচ্ছে। ভুয়া খবর ছড়ানো আর তথ্য বেহাত হওয়া নিয়ে বেশ বিপদেই আছে ফেসবুক।

এসব পোস্টে বলা হচ্ছে, বিএফএফ নতুন করে আবিষ্কার করেছেন জাকারবার্গ। আপনার ফেসবুক আইডি কি নিরাপদ? তাহলে মন্তব্যে লিখুন বিএফএফ। যদি আপনার লেখাটি সবুজ হয়, তাহলে আপনার আইডি নিরাপদ। যদি না হয়, তাহলে দ্রুতই পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে নিন। মার্ক জাকারবার্গের ছবি দিয়ে এমন পোস্ট দেওয়া হচ্ছে। অনেকেই না বুঝে এ ধরনের পোস্ট শেয়ার করছেন।

এ বিষয়ে ফেসবুক এক বিবৃতি দিয়েছে। তারা বলছে, এটা ভুয়া পোস্ট। মন্তব্যের ক্ষেত্রে বিএফএফ লিখে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট নিরাপদ করার দাবি বিষয়ক একটি মিম ফেসবুকে ছড়িয়েছে। এটা সত্য নয়। বিএফএফ লিখলে টেক্সট ইফেক্ট অ্যানিমেশন দেখতে পাবেন যাতে দুটি হাত একসঙ্গে আসছে এমন দেখাবে।

ফেসবুকের পক্ষ থেকে বিএফএফ লিখে অ্যাকাউন্ট পরীক্ষা করার কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। প্রকৃতপক্ষে ফেসবুক বিভিন্ন ভাষায় নির্দিষ্ট কিছু শব্দকে গুরুত্ব দেয়। শব্দগুলো ফেসবুকের কোনো পোস্ট বা মন্তব্যে টাইপ করলে একেক শব্দের জন্য একেক ধরনের ‘রং’ ও ‘অ্যানিমেশন’ দেখানো হয়। ইংরেজিতে ‘BFF’ ছাড়াও congratulations বা Congrats কিংবা বাংলায় ‘অভিনন্দন’ মন্তব্যে লেখাটি রঙিন হতে দেখা যায় এবং তাতে ক্লিক করলে প্রদর্শিত হয় বেলুন।

ফেসবুকে ব্যক্তিগত তথ্য যেভাবে নিরাপদ রাখবেন

লন্ডন-ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা যুক্তরাষ্ট্রে ৫ কোটিরও বেশি ফেসবুক ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোটারদের প্রভাবিত করেছে এই অভিযোগ উঠার পর এবিষয়ে অনেকেই প্রশ্ন করতে শুরু করেছেন।

সোশাল নেটওয়ার্কে যেসব তথ্য দেওয়া হচ্ছে সেগুলো কিভাবে অন্যদের সাথে শেয়ার করা হচ্ছে এবং কার সাথে শেয়ার করা হচ্ছে এসব নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। -খবর বিবিসির

সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীর এসব ব্যক্তিগত তথ্য ফেসবুকের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটা অনেকটা জ্বালানীর মতো। এসব তথ্যের উপর ভিত্তি করে বিজ্ঞাপনদাতারা এই মাধ্যমটিতে আসেন তাদের পন্য বা সেবার প্রচার চালাতে।

ব্যক্তিগত তথ্যের উপর বিচার বিশ্লেষণ চালিয়ে তারা ফেসবুক ব্যবহাকারীদের টার্গেট করে বিজ্ঞাপন প্রচার করেন। এর মাধ্যমে বিজ্ঞাপনদাতা ও ফেসবুক উভয়েই অর্থ আয় করে থাকে।

ফেসবুক ব্যবহকারীর লাইক, ডিসলাইক, জীবনধারা এবং রাজনৈতিক মতাদর্শ থেকে ওই ব্যক্তি সম্পর্কে একটি ধারণা পাওয়া যেতে পারেএবং ফেসবুকের যে সেই ক্ষমতা রয়েছে সেটা নিয়ে কারো কোন সন্দেহ নেই।

কিন্তু বড় প্রশ্ন হচ্ছে- ফেসবুক কি ধরনের তথ্য শেয়ার করে থাকে, কাদের সাথে করে এবং ফেসবুক যাতে সেটা করতে না পারে সেজন্যে ফেসবুক ব্যবহারকারীদের নিজেদের কি করার আছে?

আপনি দেখতে হলিউডের কোন তারকার মতো? জানতে চাইলে এখানে ক্লিক করুন।

এধরনের কুইজ লিঙ্ক আমরা প্রায়শই দেখি আমাদের নিউজফিডে। এসব কুইজে আপনার কৌতুহল, ব্যক্তিত্ব কিম্বা সাধারণ জ্ঞান ব্যবহার করা হয়। আপনাকে দেখাতে চেষ্টা করা হয় আপনি যদি বিখ্যাত কোন অভিনেতা বা অভিনেত্রী হতেন তাহলে আপনাকে কেমন দেখাতো।

মনে রাখবেন এধরনের একটি কুইজে ক্লিক করলেই কিন্তু আপনার ব্যক্তিগত তথ্য ওই লিঙ্কের লোকেরা দেখে ফেলতে পারেন।

বলা হচ্ছে, ফেসবুকের এমন একটি কুইজ যার শিরোনাম ছিলো ‘দিস ইজ ইয়্যুর ডিজিটাল লাইফ’ সেখান থেকে ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা লাখ লাখ মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করেছে।

এধরনের অনেক কুইজে আশ্বস্ত করার চেষ্টা চলে যে সেখানে ক্লিক করলেও আপনার ব্যক্তিগত তথ্য নিরাপদ থাকবে।

কিন্তু এধরনের গেইম বা কুইজ তৈরি করা হয় একারণেই যে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীরা এগুলো দেখে উত্যক্ত হন।

ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষায় কাজ করে এরকম একটি প্রতিষ্ঠান ইলেকট্রনিক ফ্রন্টিয়ার ফাউন্ডেশন বলছে, এসব কুইজ থেকে কিভাবে তথ্য সংগ্রহ করা হয় সেটা নির্ভর করে সেসময় ফেসবুকের টার্মস এন্ড কন্ডিশন কী ছিলো সেসবের উপর।

তৃতীয় কোন পক্ষ যাতে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করতে না পারে সেজন্যে ফেসবুক তার টার্মস এন্ড কন্ডিশনে কিছু পরিবর্তন এনেছে। ব্যবহারকারীর বন্ধুর কাছ থেকেও যাতে তারা তার সম্পর্কে তথ্য নিতে পারেন সেই ব্যবস্থাও আছে।

ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা কি ধরনের তথ্য পেয়েছিলো সেটা এখনও পরিস্কার নয়। ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ এখন সেটা অনুসন্ধান করে দেখছে।

একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী তার ব্যক্তিগত তথ্য নিরাপদ রাখতে কী করতে পারেন?

ফেসবুকে লগ ইন করুন। তারপর অ্যাপ সেটিং পেজে যান।
অ্যাপসে ক্লিক করুন
তারপর অ্যাপস, ওয়েবসাইটস এন্ড প্লাগিন্স-এর এডিট বাটনে ক্লিক করুন
এবং প্ল্যাটফর্মটিকে ডিজেবল করে দিন

এটা করার অর্থ হচ্ছে, আপনি ফেসবুক থেকে তৃতীয় কোন পার্টির সাইট ব্যবহার করতে পারবেন না। কিন্তু আপনি যদি মনে করেন যে এটা খুব বেশি হয়ে যাচ্ছে তখন আপনি অন্য কোন পক্ষ যাতে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য সীমিত পরিসরে ব্যবহার করতে পারে এবং আপনিও তৃতীয় পার্টির সাইট ব্যবহার করতে পারেন, তারও উপায় আছে।

ফেসবুকে লগ ইন করুন। তারপর অ্যাপ সেটিং পেজে যান।
অ্যাপসে ক্লিক করুন

তারপর ‘অ্যাপস আদার্স হউজে’ গিয়ে আপনার যেসব তথ্য অন্য কোন অ্যাপস দেখুক সেটা না চান তাহলে সেগুলো আনক্লিক করুন। এর মধ্যে যেমন আছে জন্মতারিখ, পরিবার, ধর্মীয় পরিচয়, আপনি অনলাইন কিনা, আপনার টাইমলাইনের পোস্ট, আপনার আগ্রহ ইত্যাদি বিষয়।

ব্যক্তিগত তথ্য নিরাপদ রাখতে হলে আরো কিছু বিষয় বিবেচনা করতে হবে:

‘আপনি যদি কোন খেলা খেলতে চান বা কোন কুইজে অংশ নিতে চান তাহলে সেটা ফেসবুকের মাধ্যমে না করে সরাসরি ওই ওয়েবসাইটে গিয়ে করবেন,’ বলেছেন ইস্ট এংলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য প্রযুক্তি বিভাগের শিক্ষক পল বের্নাল।

‘ফেসবুক লগ ইনের মাধ্যমে এসব করা খুব সহজ কিন্তু এটা করার অর্থ হলো যারা এসব অ্যাপ তৈরি করেছে তারা তখন আপনার প্রোফাইল থেকে ব্যক্তিগত তথ্য পেয়ে যাবেন।’

আর কীভাবে আপনি ফেসবুকের তথ্য রক্ষা করতে পারেন?

আপনি যদি চান আপনার এসব ব্যক্তিগত তথ্য পুরোটাই গোপন থাকুক, তাহলে এর জন্যে একটাই উপায় আর সেটা হলো ড. বের্নালের মতে ‘ফেসবুক ছেড়ে চলে যাওয়া।’

লোকজন যদি সেটা করতে শুরু করে তখনই ফেসবুক এব্যাপারে আরো বেশি সচেতন ও সক্রিয় হতে বাধ্য হবে।

ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা কেলেঙ্কারির পর অনেকেই টুইটারে প্রচারণা চালাচ্ছেন হ্যাশট্যাগ দিয়ে। তারা বলছেন ডিলিট ফেসবুক কিম্বা বয়কট ফেসবুক।

কিন্তু ড. বের্নাল মনে করেন বহু মানুষ যে ফেসবুক ছেড়ে চলে যাবে সেরকমটা হওয়ার সম্ভাবনা কম। ‘বিশেষ করে যারা মনে করেন ফেসবুক তাদের জীবনেরই অংশ, তারা ফেসবুকে থেকেই যাবেন,’ বলেন তিনি।

এসব তথ্য কতোদিন রাখা হয়?

ইউরোপে তথ্য সুরক্ষা আইন অনুসারে প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবহারকারীর তথ্য ‘যতো দিন দরকার তারা ততোদিনই’ সংরক্ষণে রাখতে পারবে। কিন্তু এই ‘রাখতে পারবে’ কথাটির অর্থ নানা রকম হতে পারে।

ফেসবুকের ক্ষেত্রে এটা এরকম- যতোক্ষণ পর্যন্ত আপনি সেটা ডিলিট না করবেন ততক্ষণ সেটা ফেসবুকে থাকবে। এবং অনির্দিষ্টকালের জন্য।

ব্যবহাকারী চাইলে তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ডিলিট করে দিতে পারেন। যার অর্থ ‘কিল’ করা। কিন্তু ফেসবুক সবসময় চায় আপনি অ্যাকাউন্ট একেবারে বন্ধ না করে দিয়ে যেনো কিছু সময়ের জন্যে সোশাল নেটওয়ার্ক থেকে ব্রেক বা বিরতি নেন। তারা আপনাকে ফেসবুক ডিঅ্যাক্টিভেট করার পরামর্শ দেন যাতে আপনি আবার চাইলে ফেসবুকে ফিরে আসতে পারেন।

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম/এইএমএল








সর্বশেষ সংবাদ