বাংলা ফন্ট

তুষার যুগের ম্যামথ ফিরে আসছে আবার!

19-02-2017
ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম

তুষার যুগের ম্যামথ ফিরে আসছে আবার! নিউজ ডেস্ক: উলো ঝুলো লোমে ঢাকা বিশালাকার শরীর নিয়ে থপথপ করে হাঁটত ম্যানি। বড় বড় দাঁত, শরীরের তুলনায় পুঁচকে দু’টো কান আর সরল চোখ নিয়ে ‘আইস এজ’ লাভারদের মনে জায়গা করে নিয়েছিল মিষ্টি এই ম্যামথ। কিন্তু সে তো শুধুই অ্যানিমেশন। শিল্পীর হাতে সিনেমার পর্দায় জন্ম হয়েছিল ‘আইস এজ’-এর ম্যানির।

এ বার আর অ্যানিমেশনে নায়, বাস্তবেও জন্ম নেবে ম্যামথ। অন্তত এমনটাই দাবি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের। সম্প্রতি বস্টনে আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য অ্যাডভান্সমেন্ট অব সায়েন্স (এএএএস)-এর আলোচনা সভায় এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞানীরা। কী ভাবে সম্ভব হবে এই অত্যাশ্চর্য ঘটনা?

ম্যামথ ও হাতির হাইব্রিড এই প্রাণীর জন্ম দিতে জিন এডিটিং টেকনোলজির দ্বারস্থ হয়েছেন বিজ্ঞানীরা। বিশেষজ্ঞ দলের দাবি, বিলুপ্ত প্রাগৈতিহাসিক এই প্রাণীকে ফিরিয়ে আনার কাজও প্রায় শেষ। এই মুহূর্তে গবেষণাগারে হাইব্রি়ড ভ্রূণ তৈরির কাজও চলছে জোর কদমে। বিজ্ঞানীদের আশা, আগামী ২ বছরের মধ্যেই ফের জন্ম নেবে তুষার যুগে হারিয়ে যাওয়া এই প্রাণী।

‘আইস এজ’-এর ম্যানি
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, আজ থেকে পাঁচ হাজার বছর আগে ইউরোপ, এশিয়া, উত্তর আমেরিকার বিস্তির্ণ অঞ্চলে ঘুরে বেড়াত ম্যামথরা। বিশ্ব উষ্ণায়নের জন্য ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যায় এই প্রজাতি। সাইবেরিয়ায় বরফের মধ্যে থেকে পাওয়া গিয়েছিল ম্যামথের ‘ফ্রোজেন’ ডিএনএ-র নমুনা। নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়া সেই প্রাণীর জন্ম দিতে সেই ডিএনএ-র নমুনাই ব্যবহার করা হচ্ছে। সাহায্য নেওয়া হচ্ছে জিন এডিটিং প্রক্রিয়ারও।

৩৯,০০০ বছর আগেকার এই স্ত্রী ম্যামথের দেহটি সাইবেরিয়া থেকে পাওয়া গিয়েছিল।

কিন্তু কীভাবে তৈরি হচ্ছে নতুন ধরনের এই হাইব্রিড প্রাণী?
পৃথিবীর অন্যতম সেরা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, ম্যামথের জিনের মধ্যে ক্লাস্টার্ড রেগুলারলি ইন্টারস্পেসড শর্ট প্যালিন্ড্রমিক রিপিটস (ক্রিসপার/ক্যাস৯) নামক জিনটিতে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। পরিবর্তিত এই জিন নতুন কোষ তৈরি করতে পারবে। এই নতুন কোষ ম্যামথের মতো লোমশ ও চর্বিযুক্ত ত্বক, প্রবল ঠাণ্ডা সহ্য করার ক্ষমতাযুক্ত রক্ত, শরীরের তুলনায় ছোট কান এবং অন্যান্য শারীরিক বৈশিষ্ট্য তৈরি করতে পারবে।

লুবা, এটিই সবচেয়ে ভাল অবস্থায় পাওয়া ম্যামথের দেহাবশেষ।
এই মুহূর্তে বিলুপ্ত ম্যামথের গোত্রের কাছাকাছি একমাত্র জীবিত প্রজাতি এশিয়ান হাতি। তাই হাইব্রিডের জন্য বিজ্ঞানীরা বেছে নিয়েছেন এই হাতির প্রজাতিকেই। এশিয়ান হাতির ত্বক থেকে নমুনাও সংগ্রহ করেছেন বিজ্ঞানীরা। হাতির জিন ও বরফের মধ্যে থেকে উদ্ধার হওয়া বিলুপ্ত ম্যামথের জিন থেকেই এ বার জন্ম নেবে হাইব্রিড ম্যামথ। গবেষক দলের এক সদস্য অধ্যাপক জর্জ জানাচ্ছেন, এই দুই জিন মেলানোর পর তা রি-প্রোগ্রাম করা হয়েছে। এতেই তৈরি হয়েছে একটি বিশেষ ধরনের এমব্রায়োনিক স্টেম সেল। যা যে কোনও ধরনের টিস্যু তৈরিতে সক্ষম। এরপর নতুন তৈরি হওয়া এই স্টেম সেলের নিউক্লিয়াই ব্যবহার করা হয়েছে এশিয়ান হাতির ডিমের মধ্যে। এই ডিমটিকে স্টিমুলেটেড অবস্থায় রাখার পরই তার মধ্যে শুরু হয়েছে কোষ বিভাজন।

এই গবেষণার কাজ শুরু হয়েছিল ২০১৫ সালে। অধ্যাপক চার্চ জানাচ্ছেন, এই প্রাণী তৈরি করতে বেশ কিছু পরিবর্তন করা হয়েছে এশিয়ান হাতির জিনোমেও। হাতির ১৫ থেকে ৪৫ নম্বর জিনোমের সংযুক্তিকরণও করা হয়েছে এই প্রক্রিয়ায়। চার্চের দাবি, ‘হাইব্রিড এই প্রাণী তৈরি করতে গবেষণাগারে এমব্রায়োজেনেসিস পদ্ধতির দ্বারস্থ হতে হয়েছে। এক্স-ভিভো অর্থাৎ দেহের বাইরে ভ্রূণ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।’

কিন্তু হঠাৎ কেন ম্যামথকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা শুরু করলেন বিজ্ঞানীরা? জানা গিয়েছে, প্রকৃতিকে বাঁচাতেই এমন যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছেন তাঁরা। গবেষক দলের দাবি, তুন্দ্রা অঞ্চলের পরিবেশকে রক্ষা করবে এই প্রাণী। গ্রিন হাউজ গ্যাসের ক্ষতিকর প্রভাবও কমাবে। সম্প্রতি একটি সমীক্ষায় জানা গিয়েছে, সাইবেরিয়া অঞ্চলের তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড পর্যন্ত কমাতে পারবে পৃথিবীর নতুন এই সদস্য।

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম/এইচএমএল

সর্বশেষ সংবাদ