বাংলা ফন্ট

কর্ণফুলীর তীর দখল বেড়েই চলছে

03-03-2018
নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম

   কর্ণফুলীর তীর দখল বেড়েই চলছে
ঢাকা: অর্থের সংস্থান না পাওয়ায় কর্ণফুলী নদীর তীরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ আটকা পড়েছে। হাইকোর্ট কর্তৃক প্রায় দেড় বছর পূর্বে কর্ণফুলী নদীর পাড়ে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ প্রদান করা হয়। হাইকোর্ট চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, পরিবেশ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং বিআইডব্লিউটিএ’কে নির্দেশনা মোতাবেক নোটিশ জারি করার নির্দেশ দেন। নোটিশ জারির ৯০ দিনের মধ্যে অবৈধ বিল্ডিং, স্থাপনাসহ অবকাঠামো করতে বলা হয়। হাইকোর্ট কর্তৃক ১৪০ পৃষ্ঠার অবৈধ স্থাপনার তালিকা থেকে গত দেড় বছরে একটি স্থাপনাও উচ্ছদ তো হয়নি বরং ইতোমধ্যে আরো বিপুল সংখ্যক স্থাপনা গড়ে উঠেছে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের দপ্তর থেকে জানা যায়, হাইকোর্টের আদেশ পাওয়ার পর গত বছরের ২ অক্টোবর তা বাস্তবায়নের জন্য সমন্বয় সভা আহ্বান করা হয়। সভা থেকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, সিডিএ, সিটি কর্পোরেশন, পরিবেশ অধিদপ্তর, বিমানবন্দর, নৌবাহিনী এবং বিআইডব্লিউটিএ’র নিকট কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী এলাকার অবৈধ স্থাপনার তালিকা সরবরাহের সিদ্ধান্ত হয়। তাছাড়া আদালতের নির্দেশ মোতাবেক জনস্বার্থে নদীর তীরবর্তী এলাকায় গড়ে ওঠা স্থাপনাসমূহের তালিকা জেলা প্রশাসনের নিকট প্রেরণের জন্য চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, নৌবাহিনীর চট্টগ্রাম অঞ্চলের কমান্ডার ও চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে পত্র দেয়া হয়। নৌবাহিনী ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের তালিকা জেলা প্রশাসকের নিকট প্রেরণ করে। তবে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ থেকে জানানো হয়, ১৪০ পৃষ্ঠার তালিকায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কোনো স্থাপনার নাম উল্লেখ নেই।

এদিকে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে বলা হয়, কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী এলাকায় এ বিশাল অবৈধ স্থাপনাসমূহ উচ্ছেদের জন্য তাদের নিকট কোনো অর্থ নেই। অবৈধ স্থাপনাসমূহের ব্যাপারে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং উচ্ছেদ কার্যক্রম চালানোর জন্য আপাততঃ ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকার প্রয়োজন। উক্ত অর্থ বরাদ্দ প্রদানের জন্য জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে দুই দফায় ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিবকে পত্র দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়। গত বছরের ২৫ অক্টোবর এবং গত ৮ জানুয়ারি উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা ও পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা প্রদানের তাগাদা দেয়া হয়।

জেলা প্রশাসকের দপ্তরের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, শুধু টাকা না পাওয়ায় অবৈধ উচ্ছেদ কার্যক্রম আটকে আছে। তাছাড়া এ মৌসুমে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা না গেলে আরো এক বছর অপেক্ষা করতে হবে।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের এডিসি (রেভিনিউ) দেলোয়ার হোসেন জানান, বরাদ্দ পেলে দ্রুত উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করা হবে।


ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম/এইএমএল


সর্বশেষ সংবাদ