বাংলা ফন্ট

রাজা ভালো থেকো

10-05-2017
শেখ রাসেল ফখরুদ্দীন

রাজা ভালো থেকো


শরতের বিকেল। কালো মেঘে ছেয়ে গেছে আকাশ। চোখ জুড়ানো সোনালী ধানের শীষ মৃদু বাতাসে দুলছে। ধান ক্ষেতের পশ্চিমে কাশবনের বাগানে সাদা সাদা কাশফুলের মিলন মেলা। শত বছরের প্রাচীন কামারখাড়া মঠের নিচে বসে প্রকৃতির অপরূপ লিলা উপভোগ করছিল রাজা। আজ দীর্ঘ তিন মাস পড়ে মেহেজাবিন সাথে দেখা হবে। তাই দুপুর থেকেই মেহেজাবিন এর জন্য এখানে অপেক্ষায় বসে আছে রাজা।  দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়ে গেল কিন্তু তার আসার কোন খবর নেই। মেহেজাবিন এর চিন্তায় উৎগিন্ন হয়ে রাজা। রাজার সাথে মেহেজাবিন এর সম্পর্ক পাঁচ মাস হতে চললো। কিন্তু কোনদিন তো এত দেরি করেনি। এর আগে যতবার দেখা করার কথা ছিলো ততবারই মমেহেজাবিন ঠিক সময় মত চলে আসতো। আজ তাহলে কেন এত দেরি! নানাবিধ চিন্তায় গ্রাস করলো রাজাকে। রাজা শ্রীপুরের একজন সংগঠক, সমাজকর্মী, লেখক ও সাংবাদিক। অল্প বয়সেই অনেক নামডাক তাঁর। সমগ্র এলাকায় রয়েছে ব্যাপক পরিচিত। বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা। পাখিরা কিচিরমিচির শব্দ করে যে যার গৃহে প্রবেশ করছে। মঠের ফোকরে পাখিরা বাসা বানিয়েছে। রাজার মন ভালো নেই। হয়তো রাজার দুখে দুঃখি হয়ে আকাশ ও আজ মুখ গোমড়া করেছে। ফলে সমগ্র আকাশ কালো অন্ধকারে ছেয়ে গেছে। সন্ধ্যা ও আকাশ অন্ধকার কালো। সব মিলিয়ে কালী সন্ধ্যা। এমন সময় মেহেজাবিন আসলো। মেহেজাবিন কে দেখে জড়িয়ে ধরলো রাজা। তুমি এত দেরি করলে কেন। আমি সেই দুপুর  থেকে কত শত বার তোমার মুঠোফোন এ কল দিলাম কিন্তু বন্ধ ছিলো। তোমার বিকালে আসার কথা কিন্তু সন্ধ্যা হয়ে গেছে। কি হয়েছিলো তোমার। এ বলেই কেঁদে ফেললো রাজা। অনেক ভালবাসি তোমাকে বললো রাজা। তখনো নিশ্চুপ মেহেজাবিন। কেন যেন তাঁর মুখখানি শুকনো। চোখের কাজল গুলো ভিজে গেছে ওর। কপালে লাল টিপ, হাতে চুড়ি, নাকে নথ, নাকে দুল, পায়ে মল, শাড়ী পড়া সব কিছু মিলিয়ে আজ ওকে চমৎকার লাগছে। যেন একটি প্রতিমা। রাজা শান্ত হও আমার একটি কথা শোন। এ বলেই কেঁদে ফেললো মেহেজাবিন। আজ আমাকে দেখতে এসেছিলো পাত্র পক্ষ। আমাকে দেখে তাদের পছন্দ হয়। ঘণ্টা খানেকের মধ্য সব কথা বার্তা ঠিক করে ফেলে তাঁরা। আমাকে আংটি পড়িয়ে যায়। আমার পরিবারের সবাই রাজি। আজ দশ তারিখ এ মাসের পঁচিশ তারিখে আমার বিয়ে। প্লিজ তুমি আমাকে ভুলে যাও। মেহেজাবিন এর এ সকল কথা শুনে বাকরুদ্ধ হয়ে যায় রাজা। কিছু বলতে পারেনা তাঁর চোখ দিয়ে ঢলের ন্যায় পানি ঝরছে। হঠাৎ মেহেজাবিন রাজার কপালে একটি চুমো খায়। তুমি আমাকে ক্ষমা করে দিয়ো রাজা। আমি তোমাকে ঠকাতে চাইনি। কিন্তু আমার মা বাবাকে কষ্ট দিতে পারবো না। যদি পারো আমার বিয়েতে এসো।  রাজা ভালো থেকো। রাজা নিশ্চুপ হয়ে রইলো। মৃদু বাতাসে মেহেজাবিন এর নীল শাড়ীর আচল উড়ছে। মেহেজাবিন তাদের বাড়ি দক্ষিণে মূল চরের দিকে হাটা  শুরু করলো। রাজা তাকিয়ে থাকলো। নিশ্চুপ ভাবে কিছু বললো না রাজা কিছুনা। এক সময় সন্ধ্যার কালিমায় হারিয়ে গেল মেহেজাবিন। রাজা ধপাস করে মাটিতে পড়ে গেল।

সর্বশেষ সংবাদ