বাংলা ফন্ট

অবশেষে

02-05-2017
শেখ রাসেল ফখরুদ্দীন

অবশেষে
আজ পহেলা বৈশাখ। গতকাল রাত থেকেই কনিকার মোবাইল ফোনটি বন্ধ। গভীর অভিমানে শুয়ে আছে জয়। আজ কনিকার বিক্রমপুরে আসার কথা ছিলো। কিন্তু সে এলো না। কেন এলোনা? এই প্রশ্নটাই জয়ের মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। কনিকা ঢাকার মিরপুরে থাকে। রং নাম্বারে পরিচয়, প্রথমে বন্ধুত্ব তারপর আস্তে আস্তে দুজন দুজনাকে ভালবেসে ফেলে তারা। কনিকাকে জয় আদর করে ভালবেসে কনা নামেই ডাকে। জয় একজন লেখক, একজন সংগঠক ও সংবাদ কর্মি। অল্প সময়ে অনেক নাম ডাক তার। পহেলা বৈশাখের দিন অনেক অনুষ্ঠানে দাওয়াত ছিলো তার কিন্তু সে সব গুলো অনুষ্ঠানের দাওয়াত ক্যানসেল করে দেয়। কারণ আজ যে তার ভালবাসার কনা আসবে। ঢাকা থেকে অনেক কষ্ট করে আসবে কনা। তার জন্য কত কিছুর আয়োজন করেছিলো জয়। কিন্তু কনা আসলো না। কনা না আসায় নিজেকে খুব অসহায় লাগছিলো জয়ের। গভীর কষ্টের এক কান্নায় চোখ ফেটে যেতে চাইলো তার। বিছানায় শুয়ে শুয়ে কনার কথা ভাবছিলো জয়। হঠাৎ দেখে বন্ধু সুমন ও রাসেল ঢালী বাসায় এসে হাজির। বন্ধুদের দেখে শত কষ্টের মাঝেও একটু হাসতে চেষ্টা করলো জয়। ওদের সাথে পহেলা বৈশাখের শুভেচ্ছা বিনিময় করলো সে। কিরে সালা বছরের প্রথম দিনেই তোর মন খারাপ, আল্লাহ ই জানে সারাটি বছর কিভাবে কাটে তোর ।একথা বলেই অট্ট হাসিতে ফেটে পড়লো বন্ধু রাসেল ঢালী।
সাথে সুমনও হাসলো। জয় মন মরা হয়ে বসেই রইলো।  ওদের দেখে জয়ের মা পান্তা ভাত, ইলিশ মাছ ভাজা, আলু ভর্তা আরো অনেক রকম খাবার দিলো। জয়ের মা কে দেখে সুমন ও রাসেল সালাম দিয়ে কুশদালি বিনিময় করলো। জয়ের মা বললো দেখে বাবা তোমরা জয়ের বন্ধু,  দেখো তো  জয়ের কি হয়েছে ওর মন খারাপ কেন ? ওর কি হয়েছে দেখো। ওকে নিয়ে বাইরে ঘুরে আসো। দেখো ওর মনটা ভালো করতে পারো কিনা।  জয়, সুমন, রাসেল এক সাথে খাওয়া দাওয়া করে বের হয়ে গোলো। আদাবাড়ি নতুন বাজার বৈশাখের মেলায়। সারাদিন বন্ধুদের সাথে মন খারাপ থাকা স্বত্বেও ঘুরাঘুরি করলো। রাত বারোটা কনার মোবাইলে কল দিলো জয় তখনো ফুনটি বন্ধ। খাটের সামনে টেবিলে  রাখা ফুলের তোড়াটি কেমন যেন শুকিয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার রাতে সদর থেকে কিনে এনেছিলো জয় কনাকে বরণ করবে বলে। কিন্তু কনা তো এলো না।
রাত তিনটা ঘুম আসছে না জয়ের। একটি খুদে বার্তা আসলো জয়ের ফোনে সরি জয় আমি একটি ঝামেলায় পড়ে গিয়েছিলাম। আমি আগামি কাল দুপুরে বিক্রমপুরে আসবো। পরের দিন কনিকা আসলো। কনিকাকে দেখে জয়ের মনটা ভরে গেল। খুশিতে কনিকাকে জরিয়ে ধরলো সে। কনিকা ফিসফিস করে বলতে লাগলো জয় আমাকে সারাটি জীবন এভাবেই তোমার বুকে জরিয়ে রেখো। আমি একেবারে বাড়ি থেকে পালিয়ে চলে এসেছি। তুমি আমাকে ছেড়ে চলে গেলে আমার মরা ছাড়া আর কোন পথ খোলা থাকবে না। না কনিকা না তোমাকে আমি মরতে দিবোনা। আমরা এক সাথেই থাকবো একসাথেই বাঁচবো। চলো তুমি আমাদের বাড়িতে। খুশিতে কনিকার চোঁখের লবনাক্ত পানি ওর নাকে দুপাশ দিয়ে গড়িয়ে গড়িয়ে বুক ভিজে গেল। সে এক অন্য রকম অনুভূতি। দুপুর গড়িয়ে তখন সন্ধ্যা। রিকসা দিয়ে জয় কনিকাকে নিয়ে বাড়িতে যাচ্ছে। কনিকা নিশ্চিন্তে জয়ের কাঁধে মাথা রেখে ঘুমাচ্ছে । রিকসা চলছে রিকসা সো সো করে জয়দের বাড়ির দিকে।

সর্বশেষ সংবাদ