বাংলা ফন্ট

খালেদ হামিদী-এর কবিতা

24-06-2017

  খালেদ হামিদী-এর কবিতা
আমার আবেগ জুড়ে

জুঁই, বেলি কিংবা হাসনাহেনার সুরভি
দূর কাল থেকে কখনো এলেও ভেসে
পক্ষী শিকারে ব্যর্থতা সত্ত্বেও অদম্য
ফিঙে অথবা চড়ুই মুঠোয় নেয়ার
স্পৃহার কোন্ সে বিন্দু হতে আজো ওড়ে,
হঠাৎ বাগান ছেড়ে, পাখি, প্রজাপতি?

সখীর মারফত চিঠি পাঠিয়ে আমারই
অদ্ভুত কঠিন উত্তরহীনতায়ও মুচকি
হাসে নির্বাক সাক্ষাতে যে-কিশোরী দিব্যি
আঙুলে এখনো তার পরানো হয়নি
পতনের উল্কা ছেনে আগুনের আংটি
কিংবা ওরই যথাযথ তারকালংকার।

লিপস্টিকময় কারো আশ্চর্য কমলা ঠোঁট,
কাছে ঘন কৃষ্ণ প্রায় বাটারফ্লাই গোঁফ,
এসব কি ছবি শুধু, চোখ মেলে দেখা?
আমার আবেগ জুড়ে লেলিহান শিখা।

কারো কবরের পাশ ঘেঁষে

কারো কবরের পাশ ঘেঁষে যেন আনমনে আজো চলি!
এক জানাজায় শরিক হইনি, বাবার বকুনি খুব
গিলেও ছুটেছি পরদিন ফের আড্ডার মোহে ঠিকই।
আর্টস্ ফ্যাকাল্টি, থিয়েটার সেরে সন্ধ্যায় আলাপন;
অবকাশে পাঠ, কবিতাকপাট তবু সর্বদা খোলা;
নির্বিরোধের সঙ্গী সবারই শত্রু তখন এক।

সেসব গল্প জোনাকিপ্রতিম না হলেও আজ হাঁটা,
সখার শত্রু ভিন্ন ব’লে কি, চিতা-সমাধির কাছে!
সঙ্গিনী কিবা সহকর্মীর চোখের অন্তরালে
কোন্ তৃষ্ণায় আমার এমন উদাস পরিব্রাজন!
শারাব এখন বিষ, সিগারেট তালাকপ্রাপ্ত শিশ্ন;
সাত্ত্বিক নই, হেঁটে চাই ডুবি তবে কোন্ মদিরায়!

পানীয় ব্যতীত যদিও পু®প ছড়ায় সুরভি, আহা!
গোরের গাছেও পাখিরা গাহে না অপূর্ণতার গান।