বাংলা ফন্ট

তুষার গায়েন-এর কবিতা

24-06-2017

তুষার গায়েন-এর কবিতা


রক্তলিখন

আবারও কী পশ্চাৎযাত্রা?
আবারও কী গুহাভিমুখ?
যেখানে ত্রাসিত নিশ্চুপ
জিজ্ঞাসা বিদীর্ণ মন,
একুশের রক্তলেখা ধরে
যতদূর এসেছিল বাঙালি মানুষ
তাকে মুছে ফেলে ক্রমাগত
আত্মবিস্মৃতির সুখ-
অন্ধকারের সাথে সহবাসে
জন্ম নেয়া ক্ষমতার অদ্ভুত অসুখ
মরণ যাত্রার পথে নিয়ে চলে
ভাষাগর্বী জাতির সমুহ স্বরূপ!

সংশপ্তক

নাজিমুদ্দীনের হত্যাকা-ের খবর শুনে আমি কিছু লিখি না। আমি দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে নিজের ভিতরে নিঃশ্চুপ হয়ে থাকি, কারণ পৃথিবীর নৃশংসতম হত্যাকা- যাদের উপর দিয়ে ঘটে যায়, তাদের ব্যথার একটি রেখাও প্রকাশ করতে আমাদের শব্দগুলো বরাবর ব্যর্থ হয়ে থাকে। নিজের ভেতরের পাথর সরিয়ে একটি তীক্ষ্ণ শব্দ, একটি চিৎকার অথবা একদানা দ্রোহের প্রকাশ হতে যতটা সময়, তার ভেতরেই মানুষের শোক ও ক্রোধ স্তিমিত হয়ে যায়। নাজিমুদ্দীন অকুতোভয়, রাস্তায় লুটানো তার মৃতদেহ সে মৃত্যুর আগেই দেখতে পায়: মাথা থেকে ছিটকে পড়া মিল্কিওয়ে ধূসরাভ-সাদা এবং সেখান থেকে লাভা উজ্জ্বল লাল তারা, সে গুনতে পারে না আর, অগণন তারা...মহাশূন্য থেকে আসা তীব্র বাতাসের শ্লেষে সে বিদ্ধ করে যায় সতীর্থদের যারা সংসারীদের মত সাবধানী, যারা গিরগিটির মত ক্ষণে ক্ষণে রঙ পাল্টানো নেতাদের পা ধুয়ে চলে। বাঘ এবং কুমীরের অশ্লীল সহবাসের কালে মৃত্যুকে শিরোপা জেনে নাজিমুদ্দীন সদর্পে তা গ্রহন করে, কারণ সে জানে মৃত্যু কখনও কখনও জরুরী জীবনের চেয়ে!

যে তুমি রোহিঙ্গা আমি সেই মালাউন

সমুদ্রের জলে ভেসে আসে তারা কান্নায় নিঃশেষ হতে হতে   
যখন ডুবল তারাগুলো ভোরের আকাশে, করজোড়ে রোহিঙ্গা পুরুষ  
কাতর প্রার্থনা করে, “আমাদের স্থান দাও তোমাদের দেশে!”
“আমাদের ছোট দেশ, অনেক নিয়েছি আগে!
অতিথি সশস্ত্র হয়ে দেখি আমাদের মারে, কত নেব আর?
বিষন্ন বাঙালি এক থুতনিতে হাত রেখে বলে।

“আমরা শান্তিতে চাই থেকে যেতে তোমাদের সাথে”
রোহিঙ্গা রমণী পড়ে লুটিয়ে পায়ের কাছে।

দূরে সোরগোল, লক লকে আগুনের শিখা  
বাতাসে প্রবিষ্ট তেজ ধোঁয়া-গন্ধ নাকে লাগে...
প্রাণভয়ে জটলা মানুষ ত্রস্ত ছুটে আসে, হাঁপাতে হাঁপাতে
বলে অধীর মন্ডল, “আমার মেয়েকে গতরাতে তুলে নিয়ে গেছে!
চেয়ারম্যানের লোক ভাগ মালাউন বলে সকালে আগুন দিল ঘরে!!”

সমুদ্র গর্জন করে, তার জল নিরন্তর ধুয়ে যায়
সীমানা চিহ্নিত দেশ; যে হবে উচ্ছেদ তার একপ্রান্ত থেকে
অন্যপ্রান্ত থেকে এসে যে চায় আশ্রয়-তারা সহোদর ভাই,

শুধু বিমাতার প্রাণে রূপকথা কোনো দয়া লেখে নাই !