বাংলা ফন্ট

চঞ্চল আশরাফ-এর কবিতা

24-06-2017

 চঞ্চল আশরাফ-এর কবিতা
সুপ্তি সিরিজ

১.
সুপ্তি, তোমার ছায়া দীর্ঘতর হয়ে
আমাকে জড়িয়ে রাখে, দূরে নদী
বয়ে যায় গোধূলি রেখায়, ক্রমে ক্ষয়ে
আসে পথ, আমি তার রিক্ততা অবধি
কোনো এক পৌরাণিক পাথরের মতো
বসে থাকি জলহারা মেঘের তলায়
দেখি, শূন্যতার দিকে মানুষেরা যায়
তাদের গোড়ালি থেকে মৃত্যুর সঙ্কেতে
কেঁপে উঠি হৃৎপি-ময়, যেতে যেতে
তারা তাকায় আমার দিকে, ‘তুমি আছো
বসে, একা?’ বলি, আমার শরীরে দেখো
কার ছায়া কাঁপে, দেখো, নুনের দ্রবণ
থেকে সে এসে আমার বুকে গেছে ঢুকে
আর দূরত্ব খোদাইয়ের পর আমি
তার ছায়ার সঙ্গীত নিয়ে বসে থাকি

২.
রাত্রি নামে বুক জুড়ে, তবু তার ছায়া
আমাকে পাহারা দেয় বহুদূর থেকে,
এ স্থিরতা ভালো; যে-শরীর গেছে বেঁকে
লুটিয়ে পড়ার আগে, তার চেয়ে; যারা
যায় নিদ্রিত নদীর দিকে, বিস্মৃতির
হাওয়ায়, তারাও জেনেছে সিসিফাস
উপত্যকায় লুণ্ঠিত ধূলার কাঠামো
আর আমি অনশ্বর কাকের ডানায়
ভর দিয়ে এসে গেছি অনন্তের বনে
ডুবে গেছি তার ছায়ার ভিতরে। সে কে?
প্রতিধ্বনি বেজে ওঠে রক্তের রোদনে,
রাত্রির স্তব্ধতা জুড়ে; এক দগ্ধ নীল
তারা থেকে আসে আলো, রিক্ততা নির্ভর;
সুপ্তির ছায়ায় থাকি, প্রতীক্ষাকাতর

৩.
কোন কম্পনের নিচে থাকি? ছায়ার গভীরে
মুখ, তাকে হৃৎপিণ্ডে নিই, রক্তে ছড়িয়ে দিলে
দূরে, উৎকন্ঠ তৃষ্ণার স্যানাটোরিয়াম ঘিরে
হাহাকার ওঠে; আর আমি নিজের ফসিলে
এঁকে চলি শেষ চুম্বনের পরের স্তব্ধতা,
হে আমার বেদনাবাহিকা, জেনো, এই ছায়া
ছেড়ে কোথাও যাবো না, যদি রক্ত ওঠে মুখে,
যদি সমুদ্র সরে যায়, যদি আমি ধূলায় জমাট
হয়ে পাথর কুচির জন্ম দিতে থাকি, জেনো
এ শরীর নশ্বর তা থেকে ছুটি পেয়ে একা
তোমার ছায়ার কম্পনে স্থির, প্রবল, গাঢ়;
(তবু কে যেন নিকটে এসে শর্করাার কথা
বলে যায় ) জেনো, বহু অনিদ্রার স্মৃতি আমি
তোমার স্পর্শের কাছে জমিয়ে রেখেছি...

৪.
মৃতদের চলাচল দেখে অনিদ্রা লুণ্ঠিত আমি
চলে যাই মধ্যাহ্নের মেঘের ভিতরে, সেখানেও
আমাকে জড়িয়ে রাখে অনশ্বর সেই ছায়া;
দেখি খুব উঁচু থেকে, প্লাবনের পরের জাহাজগুলি
তটের উপেক্ষা ছেড়ে সরে যাচ্ছে সমুদ্র ঘূর্ণির
দিকে; স্নায়বিক হট্টগোল থেকে যেমন এসেছি
আমি টইটুম্বুর মেঘে, ওহো সুপ্তি, বাষ্পচূর্ণ নিয়ে
তোমার যে আঁচল নিঃসঙ্গ তারার আগুনে
পুড়ে যায়, তাকে আমি পৌরাণিক নীরবতা দিয়ে
বুনে চলি বহু আগে থেকে, একা