বাংলা ফন্ট

রাজু আহমেদ মামুনের কবিতা

14-06-2018

 রাজু আহমেদ মামুনের কবিতা




মিথের ঘোড়া

দৌড়াচ্ছে মিথের ঘোড়া
নিউরনে নিউরনে খুরের আওয়াজ
নড়ে ওঠে মৃতের হাত পা;
আজন্ম জীবন পায়নি যারা।

কোথায় চলেছে এবে!
মগজে আছে কম্পাস- সে মিথের ঘোড়া।

কোন এক কালে এইসব ঘোড়াগুলি জন্মেছিলো
মৃত্যুর বিপরীতের অন্ধকারে;
কালের তান্ত্রিক এসবেই বানিয়েছে মৃত্যুবাণ।

বইছে বালুঝড় এশিয়ায় আফ্রিকায়
ঝড়ের আগায় দৌড়াচ্ছে মৃতের দেহ
ভেতরে মিথের ঘোড়া।
পুণ্যের নামতা মুখে, যেন- কবর থেকে এসেছে গোলাম।

বাহ! ঘোড়া হয়েছে সওয়ার!
      ঘোড়া হয়েছে সওয়ার!

ও তান্ত্রিক, ওগো বিশেষণ যুক্ত পুঁজির ঈশ্বর
দেখ, মরে যাচ্ছে কত কত মৃত দেহ
মরে যাচ্ছে কত কত কাস্টমার!





সেতু

চঙ্গা মই সেতু! সেতু বুনি- সেতু;
সেতু বুনতে বুনতে মহাকাশে ভেসে চলি
অনন্তের অন্ত- আমি তুমি, ম্যাজিক মাকড়
বুনে চলি, বুনে চলি-এ প্রাণ! এ হলো তুমি-আমি
বুনে চলি ডাবল হেলিক্স;বুনে চলি জেনেটিক বয়ান
বুনে চলি তথ্য স্বয়ং;বুনে চলি বুনে চলা

প্রাচীন সমুদ্রে- অতল গহনে দূর কালে এই সেতু মেলেছিল ডানা
তারপর বুনে চলা; জলে জলে, জলে স্থলে,স্থলে হাওয়ায়
স্বয়ম্ভু এই সেতু- এই প্রাণ স্বয়ং খোদা!
বেড়ে যাচ্ছে- করে যাচ্ছে- সময় রচনা

পিতার শরীর ছেড়ে যেমত জীবন ছুঁতে
এসিড বৃষ্টির রাতে- ফেলপিয়ন টিউব ধরে- দিয়েছিনু দৌড়
জন্মপূর্ব সব সহজাতক হারিয়ে...

তাইতো জীবন এক বিজয় স্মারক-
প্রাণসেতু সুমহান ডাবল হেলিক্স প্রোটিনের ভাষা।

অর্থশূন্য মহাশূন্যে এই সেতু অর্থ স্বয়ং, তাই
বুনে যাই, বুনে যাক, বুনে যা- সেতুবিদ্যার প্রকাশ গাথা।




সঙ্গম মন্ত্র

আস ইলেক্ট্রন মেঘ আস সঙ্গম করি আস এন্টিকোয়ার্ক আস সঙ্গম করি আস নিঃশব্দ প্রলয়ে আস সঙ্গম করি খেলি শূন্যে শূন্য শূন্য আস সঙ্গম করি দৃশ্যে বিলিয়ে দৃশ্য আস সঙ্গম করি ধ্বনিতে গলায়ে ধ্বনি আস সঙ্গম করি শির শির অনুরণনে আস সঙ্গম করি আস প্রবাহিত হই আস সঙ্গম করি নিঃশেষ হয়ে নামি আস সঙ্গম করি নামি অনিঃশেষে আস সঙ্গম করি আস ইলেক্ট্রন মেঘ আস সঙ্গম করি আস এন্টিকোয়ার্ক আস সঙ্গম করি আস সঙ্গম করি আস সঙ্গম করি...



পূর্বরাগ

প্রান্তহীন, কী প্রলয় হয়ে বসেছিলাম

নিউরন সিন্যাপসে মুহুর্মুহু বিজলি চমক
যেন সমস্ত এক্সনগুলো ছিঁড়ে-পুড়ে যাবে যাবে!

মাইটোকন্ড্রিয়াগুলো জ্বলছিলো দ্বিগুণ উত্তাপে
আর আগুনের স্রোত তরল গান হয়ে
নেমে আসছিলো ক্রোমোজোম কারখানা থেকে

পরমাণু বাধনে তখন ইলেক্ট্রন ঝড়!

প্রান্তহীন, কী প্রলয় হয়ে বসে ছিলাম
যখন তোমার ঠোঁট- এগোচ্ছিলো আমার
বেদনার কাছে।



মূক প্রহরের ডায়রি

অনন্তের অন্ত থেকে শুরু হয়েছিল
তোমার গান। সে সব অনুভূতি,
যা অবহেলায়- অভিমান হয়ে ওষ্ঠাগত ছিল
আর তা সব রূপসী ধ্বনিমালা হয়ে
ফুটছিলো ইথারে ইথারে

যেন এক কুহক সিম্ফনি
ভাসিয়ে নিচ্ছিল সমস্ত তারাপুঞ্জ

আর আমি এক স্থির ব্লাকহোল
শুষে নিচ্ছিলাম ইলেকট্রন ঝড়

তুমি কি চাইছিলে আমাকে-
বিস্ফোরণ উজ্জ্বল সুপার নোভার মতো!

যদিও এসব সংবৃত বিষয়, তবু
ক্ষমাকর, সে বধির দীর্ঘ অন্ধকার ছাড়া
আমার বিবৃত হওয়ার কিছুই ছিলনা তখন।



চন্দ্রপ্রভা

শালগাছেদের কাছে শুনেছিলাম তোমার জন্মগল্প

একরাতে চন্দ্রমার প্রভা যখন বিলের জলে
শুভ্রপদ্মে জমে উঠেছিল...

পদ্ম কী তা পারে ধরে রাখতে! হঠাৎ জন্মালে তুমি
বাঙালি ভেনাস, চন্দ্রপ্রভা

শুধু আজ মাঝ রাতে আমার জীবন শয্যায় ছড়িয়ে,
অন্ধকার- খুঁজছি তোমার

চন্দ্রপ্রভা, তোমার তিমিরে রুয়ে যাবো জীবনের বীজ
নবজন্মের শরীর আমার কালের ভায়োলিনে
আগুন ঝরাতে ঝরাতে নিয়ে আসবে উজ্জ্বল দিন

এ মহিমান্বিত রাতের স্মারক সামাজিক শব্দের বাজারে
থাক পরিচয়হীন

চন্দ্রপ্রভা, নাও তবে অমৃত বিষের পেয়ালা।



শেষ নোট

ক্রিয়ার বিভক্তিগুলো খসে যাচ্ছিলো, যেন তা বকুল,
তার নিঃশব্দ পতন যেন বুঝে নিতে হবে,
বুঝে নিতে হবে অনুচ্চারিত শব্দাংশ।

কষ্টে সংযত ঠোঁটের মতন কাঁপছিলো শব্দগুচ্ছ
তবু অদৃশ্য বৃষ্টির মিউজিক নোটে অন্বিত হয় তার অর্থ।

বলতে চাইছিলাম- এতো দূরে
কেন এসেছ, যেখান থেকে ফিরে যেতে কষ্ট হয়!

কিন্তু না! বলেছি অন্য কথা, জানো,
মানুষ আসলে কেউ কারো হতে পারে না
আমরা কেবল হওয়ার ভান করি মাত্র।

কি আশ্চর্য! তার পর সে এক পশলা
বৃষ্টি ভেজা রোদ হয়ে চলে গেলো!