বাংলা ফন্ট

কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী

19-07-2017
নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম

কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী

ঢাকা: চলচ্চিত্র ও নাটক নির্মাতাদের প্রথম সারির লেখক ও বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১২ সালের এইদিনে জনপ্রিয় এই লেখক যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ইন্তেকাল করেন।

দিবসটি উপলক্ষে কথাশিল্পী হুমায়ূন আহমেদের পরিবারের পক্ষ থেকে নুহাশ পল্লীতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। প্রকাশকরা নুহাশ পল্লীতে কথাশিল্পীকে শ্রদ্ধা জানাবেন এবং হুমায়ূন আহমেদ প্রতিষ্ঠিত ‘শহীদ স্মৃতি বিদ্যালয়ে’ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

এ ছাড়াও প্রতি বছরের মতো এবারো চ্যানেল আই কিংবদন্তি এই শিল্পীকে নিবেদন করে বিশেষ আয়োজন রেখেছে। ১৯ জুলাই সকাল সাড়ে ৭টায় থাকছে সংগীতানুষ্ঠান ‘গানে গানে সকাল শুরু’। বিশেষ এই পর্বে পরিবেশন করা হবে হুমায়ূনের লেখা জনপ্রিয় কিছু গান। দুপুর ১২টায় প্রচার হবে ‘তারকা কথন’। অনুষ্ঠানে হুমায়ূনকে নিয়ে কথা বলবেন তারই কাছের মানুষেরা।

একইদিন দুপুর ২টার সংবাদের পর দর্শক দেখবেন হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস অবলম্বনে মেহের আফরোজ শাওন পরিচালিত ছবি ‘কৃষ্ণপক্ষ’। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় প্রচার হবে হুমায়ূন আহমেদের সৃষ্ট ৫টি আলোচিত চরিত্র নিয়ে বিতর্ক অনুষ্ঠান ‘আমার মাধ্যমেই বেঁচে থাকবেন হুমায়ূন আহমেদ’।

রাত ৭টা ৫০ মিনিটে প্রচার হবে হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাসের ছায়া অবলম্বনে রাজু আলীমের পরিচালনায় নির্মিত টেলিছবি ‘রূপার জন্য ভালোবাসা’।

হুমায়ূন আহমেদ ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকেনা জেলার মোহনগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম ফয়েজুর রহমান। একাত্তরে পাকবাহিনী তাকে হত্যা করে। মা আয়েশা ফয়েজ। স্কুল জীবনে হুমায়ূন আহমেদকে পিতার চাকুরিস্থল কুমিল্লা, সিলেট, বগুড়া ও পঞ্চগড়সহ বিভিন্ন জেলায় বসবাস করতে হয়।

১৯৬৭ সালে বগুড়া জিলা স্কুল থেকে প্রবেশিকা (রাজশাহী বিভাগে মেধাতালিকায় দ্বিতীয়), ১৯৬৯ সালে ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি এবং পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্রজীবনেই তার লেখালেখি শুরু।

তিনি একাধারে ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, গীতিকার, নাট্যকার ও চলচ্চিত্রকার। যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ডাকোটা স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি লাভ করা হুমায়ূন আহমেদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছুদিন অধ্যাপনা করেন, তবে লেখালেখিতে ব্যস্ত হয়ে একসময় তা ছেড়ে দেন।

তার প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা তিন শতাধিক। তার প্রকাশিত অন্যান্য উল্লেখযোগ্য বই হচ্ছে, জ্যোৎস্না ও জননীর গল্প, মধ্যাহ্ন, হিমুর আছে জল, লীলাবতী, হরতন ইস্কাপন, হিমুর বাবার কথামালা, আমিও মিছির আলী, হিমু রিমান্ডে, মিছির আলীর চশমা, দিঘির জলে কার ছায়া গো, আজ হিমুর বিয়ে, লিলুয়া বাতাস, কিছু শৈশব, হুমায়ুন আহমেদের ভৌতিক অমনানিবাস, আগুনের পরশমনি, পাপ ৭১, শ্রাবন মেঘের দিন। তার নির্মিত চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে শংখনীল কারাগার, শ্রাবণ মেঘের দিন, দুই দুয়ারী, চন্দ্রকথা, শ্যামল ছায়া প্রভৃতি।

সাহিত্যে অবদানের জন্য হুমায়ূন আহমেদ একুশে পদক, বাংলা একাডেমী পুরস্কার, লেখক শিবির পুরস্কার, মাইকেল মধুসূদন পদকসহ অসংখ্য পুরস্কার লাভ করেন।

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম/এইচএমএল


সর্বশেষ সংবাদ