বাংলা ফন্ট

মাহফুজ রিপন-এর চারটি কবিতা

25-02-2017

মাহফুজ রিপন-এর চারটি কবিতা

প্রেমের প্রতিভূ
    
কড়া ভোদকার ঝাঁঝ সুন্দরকে কাঁপিয়ে দেয় বার বার। তেলচিটে আকাশটা কেঁদে ওঠে- গুমট ঝাপসা অন্ধকার শুষে নেয় প্রেমিকার রক্তাক্ত রোমাল। সাহসে আন্তরিকতায় প্রেম মেনে নেয় মিথ্যা নির্বাসন। আমি খুন করি নাই!
আমি খুন করি নাই!! আমি নিজেকেই হত্যা করেছি বারবার। শেষ রাতের শিশির গুলো রক্তের মত লেগে থাকে পৃথিবীর পথে। মানুষ গুলো দাঁড়িয়ে থাকে পাথর হয়ে। নিশিথে বিলক্ষণ সে প্রেমিক শিকল পায়ে হেঁটে বেড়ায় অন্ধকার পথে, তাঁর তৈলাক্ত চোখের করুণ দৃষ্টি আজ চরম দুর্দশায়। কায়েমি স্বার্থ আজ যন্ত্রমানব, পুঁজিবাদ মরণকামড় দিয়েছে! সুন্দরকে ওরা দখল করেছে রক্তের নেশায়। সময় এসেছে ট্রয়লাসের ধারালো তলোয়ার হাতে আজ সকল প্রেমিকের লড়াই। দোহাই তোমাদের কেউ কবরে যাবে না। মরার আগেই প্রেমের মৃত্যু হয় না। লড়াই কর, পৃথিবী আজ দেখবে প্রেমের প্রতিভূ- কত সুন্দর, কত পবিত্র ।

সিমানা পিলার

আর কত রক্ত চাই তোমার, হুমায়ুন আজাদ থেকে অভিজিত সবাই কিন্তু বেঁচে আছে। গতকাল বই মেলায় তাদের সাথে দেখা হয়েছে জাগৃতি’র ষ্টলে। কবিরা দাঁড়িয়ে ছিলেন, রকিং চেয়ারে বসেছিল আমাদের হাসি খুশি দীপন। খুনি তোমাকে বলছি। কবিতার পঙক্তিতে পঙক্তিতে আজ নতুনের জোয়ার। তুমি ক্লান্ত! পলাশি থেকে ধানমন্ডি এতটা পথ হেঁটেছো, বৃথা তোমার হাত করেছো লাল। আমি জানি কারো আদর্শকে তুমি হত্যা করতে পারনি। তুমি ভুল করেছো, ভুল শিক্ষা নিয়েছো।কোটি প্রাণ আজ ছড়িয়ে গেছে শাহবাগের রাজপথে। বিচার, জবাব, প্রতিশোধের নেশায় তারা আজ ক্রদ্ধ। খুনি মহাসত্য সবার সামনে, জনকের করোটি ছিন্ন করার শক্তি তোমায় দিয়েছে উগ্রমৌলবাদ। মিথ্যা ভোগ আর ক্ষমতার নেশা তোমাকে ব্যবহার করছে। ক্রন্দন, ক্রন্দন করছে পৃথিবীর শান্তি প্রিয় মানুষ। পিতার বুক ভাঙ্গা চিৎকারে ঘুমতে পারি না গত সাত জনম। শোকে বিহ্বল আদম, পুত্র হত্যার বিচার চায় না সে, খুনিদের শুভ বুদ্ধির প্রত্যাশায়। শোন ভ্রাতা তোমাকে বলছি- খুলে দেখ সিদ্ধার্থের ত্রিপিটক, বাইবেল কিম্বা মহা- কুরাণ। চলে যাও তূর পাহাড় হয়ে মহাস্থবির বনভান্তের কাছে। সবাই বলবে- বাঙলার সিমানা পিলার তুলছো তোমরা। আবার আসতে হবে ম্যাগনেট পিলারের কাছে। সে দিন আকাশটা ঝুলে পড়বে উদার জমিনে।

জল কামান

যে চলে যাবে সে তুমি হবে না, সেটা তোমার শরীর, তুমি নউ। ডিজিটাল যুগে শরীর ও মন এক সাথে দোলেনা। যে চলে যাবে সে তো তুমি নউ, ভাসবে মানগুলা, আসবে নতুন জানগুলা, ফিরে তাকে আসতেই হবে। যমুনার জল শুষে নিয়েছে ক্ষমতার জলকামান, ফুলগাছি থেকে বিলাপ আসে, হায়রে জলজ জীবন। ম্যাকবেথের ডাকিনির মত- অন্ধকারে মিলিয়ে যায় সময়, গাওয়া ঘির গন্ধে পুড়তে থাকে সাধের শরীর, মনপাখি উড়েযায় ধাঁনশালিকের মাঠে। যে চলে যাবে, পুড়ে যাবে, সে তো তুমি নউ, সেটা তোমারই হ্যাঙ্গার, এসো জোড়ের নামতায় পূণ্য হই, একবার জলকীর্তন করি।

মায়ার পুতুল

ভোরের নিরবতা ভেঙ্গে ঘর থেকে বেরিয়ে আসে কৃত্তিবাসের পুতুল। কাঠ, প্লাস্টিক, কাঁদা, চট আর উলে বোনা সব পুতুল। পালাকারের নির্দেশে আসর বসে। প্রাণ ফিরে পায় সব মায়ার পুতুল। কোথায় সে পালাকার? অন্ধকারে দেখা যায় না তাকে, আঙুলে সুতো বাঁধা প্রশস্ত হাত দুটি ছায়ার মত নড়তে থাকে। পুতুলের কাঁন্না দেখে আসরের কচি প্রাণও কাঁদে। দ্বৈত চরিত্রে সেই পুতুল মিথ্যা স্বপ্ন দেখায় আর ভোগের কথা বলে। জীবনের কথা সে বলে না। একে একে উজির, নাজির সবাই আসে ভিন দেশ থেকে যুবরাজও আসে। কাঠের পুতুল-  বাম- ডান, ডান- বাম
 বাম- ডান, ডান- বাম। পালাকার গুনতে থাকে বিদেশি ডলার। রাত গভীর হয়। পুতুলনাচ থেমে যায়। আসর ছেড়ে একে একে বেরিয়ে আসে রক্তমাংসের পুতুল। হতভাগারা ছড়িয়েপড়ে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া, রুপসা থেকে পাথুরিয়া। তাদের পুতুল জীবন চলতেই থাকে। কাঠের পুতুল, নুনের পুতুল, মায়ার পুতুল, মোমের পুতুল, ননির পুতুল! পালাকার- সেভেন ষ্টার বহুতল ভবনের ছাঁদে বসে, পরম আনন্দে ম্যান্ডলিন বাজায়।

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম/এইচএমএল

সর্বশেষ সংবাদ