বাংলা ফন্ট

হিজল জোবায়েরের কবিতা

14-06-2018

 হিজল জোবায়েরের কবিতা



মেঘের মেশিন

বৃদ্ধ ষাঁড়ের খুর
তৃণভূমি কতদূর
জাইলেম জাইলেম
তৃণভূমি জাইলেম
জিপসাম ফেনা থেকে ভেসে ওঠা মুখ
কহে বাপু, সুরে গাও
ঐ-মুখো ঘুরে গাও
জাইলেম জাইলেম
তৃণভূমি জাইলেম
আর কাঁটা ছিল না
তারকাঁটা ছিল না
বিন্যাস ছিল;
সয়াবিন ফুলের বাগান ছিল নিরঙ্কুশ পাতনযন্ত্রে ঘেরা। শস্যের ভিতর ছিল অভিশাপÑ অব্যাহত মেশিন প্রবাহের মুখে প্রার্থনার চাদর উড়ালো যারা, সেইসব মানুষেরা প্রার্থনার ভঙ্গি থেকে উঠে আসে বিবেচনাহীন-
স্বয়ম্ভূ তারা শৃঙ্খলাহীন
নিরাশ্রিত ঈশ্বরহীন
তাহাদের মর্ম নিরুপণ,
কর্মের মর্ম নিরুপণ
এইসব-সকল-সমূহ গুরুত্বহীন বিবেচনা পর
পরিত্যক্ত তারা
পরিত্যক্ত মানুষেরা তবে রূপক হয়ে ওঠেÑ শব্দ!
শব্দোত্তর তবে ধ্বনি
তথাগত ধূলায় ছড়ানো দিনে, একটি দোলনকালের ভিতর দুলে ওঠা তারকানিচয়- তরঙ্গে ভাসা স্মৃতি- তথাগত
ধূলায় ছড়ানো দিনে আকাশ ফুঁড়ে বেড়ে ওঠে লোহার মিনার- জাহাজের ভার বহে নদী
জাইলেম জাইলেম
তৃণভূমি জাইলেম
এই উপজীব্য-

গড়ে ওঠে লোকালয়- বাতাসে অর্পিত পাখি, পাখিসব চলৎশক্তিহীন- প্রণালীসমূহ, এইসব প্রণালীতে পুঁতে রাখা চোখ, জলে আর্দ্র- এই উপজীব্য
নেপথ্য থেকে উড়ে আসে কফিন
বৃহদন্ত্রময় মৃত এক জন্মপত্রহীন
বিনষ্টিহীন
সস্তা-কফিন
সস্তা-কফিন
তলদেশহীন
মধ্যাহ্ন উগরে আসে নদী- প্র ল ম্বি ত হয়
বাতাসে তখন প্রদাহনাশক
অ্যালোভেরা
উৎকৃষ্ট মধুভরা গাছ
গাছের বাকল
এই উপজীব্য-
অতিক্রান্ত জলরাশির ভিতর
শূন্য হয়ে আসে বিগলিত রৌপ্যে ঠাসা হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া
তথৈবচ
আজবার গুপ্তহত্যার ছুরি
বাতাসে ছড়ানো আজ লোধ্ররেণুর দিন
আজবার আকাশ ক্রমশ ঢেকে ফ্যালে
বজ্রোৎপাদনশীল মেঘের মেশিন



নদীজল আয়নামহল

ধুলাপবনের দেশে নদী-
য-ফলার মতো আঁকাবাঁকা,
তার দিকে কাঁত হয়ে থাকা
পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে গ্রাম
গ্রামের উপরে ছায়া ফেলে-
মেঘের শহর উড়ে যায়
        নদীজলে কুসুমের মতো
        মেঘ-ভাঙা রোদ গ’লে পড়ে
ছায়ার বেষ্টনীতে ঘেরা
সে নদীই আয়নামহল;
জলের উপরিতলে ছায়া
জলের গভীরে আবছায়া
তারও নিচে পেতে রাখা আছে
বিস্মরণের যতো ফাঁদ
ধুলাপবনের দেশ থেকে
প্রতিবিম্বিত হয়ে যা
ভেসে ওঠে নদীজলে, তাই-
প্রকারান্তরে আদিতম
ধুলা ও পবন বলে খ্যাত।
ধুলাপবনের দেশ ছায়া,
বস্তুত উপাদানহীন
মনে হয় চোখে দেখা যায়
আসলে তা যাচ্ছে না দেখা
খালি চোখে যায় না তা দেখা
নদী যদি আয়নামহল
আয়নামহল আয়নাই
আয়নার পিছনে সে দেশ
ধুলা ও পবন যার নাম;
পিত্তপাথুরি রোগে ভোগা
জ্যামিতিপাগল মানুষের
প্রকৃত বসতি সেদিকে
জ্যামিতির ধারণা থেকেই
সবকিছু পেয়েছে আকার,
উপাদানহীন আকারের
জ্যামিতিই জগতের মূল।
এ বাক্য সতত গোপন
এ বাক্য সতত প্রকাশ
সোনার গিলটি করা থালা
রুপার গিলটি করা বাটি
সূর্য-চন্দ্র পাশাপাশি
উঠে এসে ছেয়ছে আকাশ
কাঁটা-গাছে ফুলগুলি যেন
অভিবাদনের হাসি হয়ে
থোকায় থোকায় ফুটে আছে;
ফুল বিকশিত হয় নাকি
চুপচাপ তার রূপ ধরে
সময় নিজেই বিকশিত!
খালি চোখে যায় না তা দেখা



গোরখোদকের গান

(৩ এপ্রিল, ২০১৮ আফগানিস্তানের কুন্দুস প্রদেশে বিমান হামলায় নির্মম হত্যাকা-ের শিকার শতাধিক কোরানে-হাফেজ শিশু। তারা এবং যুদ্ধের বলি জগতের সকল প্রান্তের সকল শিশুর কাছে ক্ষমাপ্রার্থনাপূর্বক।)

পাহাড়ি এতিমখানা থেকে
ভেসে আসে ক্বেরাতের সুর,
এ বিকাল, ম্লান গোধূলি
এতো কেন লাল খুনিয়া!
সাবান-গরমজলে ধোয়া
সমবেত শিশুদের লাশ
ছুঁয়ে গেলো তাপিত বাতাস,
এ মুর্দা রাখবো কোথায়?
নদীতে পাতার ছায়া দোলে
পাতার আড়ালে হুদহুদ,
কার নামে ডাকো মুনিয়া
কার নামে দোয়া ও দরুদ!
আমার লহুর লালে লাল
জগতের রূহানি কোরান
গীতা ত্রিপিটক বাইবেল
মানবের পুঁথি ও পুরাণ
মাটিতে নেবে না, না পানি
এ লাশ কী নেবে এ পাথর?
কোন গোরখোদকের হাতে
দিবো এই শিশুকে কবর!
তোমার কাফন তবে রাত,
ডুবে যাও দিন, বোজো চোখ;
সীসার মতন ঢেলে দেই
দুই চোখে হাবিয়া দোজখ।

সর্বশেষ সংবাদ