বাংলা ফন্ট

শিবলী মোকতাদিরের কবিতা

14-06-2018

 শিবলী মোকতাদিরের কবিতা


আটাশে এপ্রিল

উদার প্রবাহে ছুটে যাচ্ছে লোকটি, গজিয়ে-ওঠা নানা শূন্যতার মধ্য দিয়ে।
এঁকেবেঁকে বিবিধ দৃষ্টান্ত ও দৃশ্যবাহিত রূপে।
কিছুটা স্থূলোদর। ভোজনবিহারী। যাচ্ছে উদীচ্য দিক বরাবর।

ভোরের পর ঘটেছে সকালের সঞ্চার। নানান কা- ও কাকের কলরবে
মাঝেমাঝেই উধাও হয়ে যাচ্ছে লোকটি।
অনেকটা বিকারগ্রস্ত ঋণাত্মক আর বিয়োগান্ত মানুষের মতো।
মনে হচ্ছে জ্ঞানলুপ্ত, বিপথগামী। তবু স্বতন্ত্র স্পর্ধায়
জোরকদমে এগিয়ে যাচ্ছে শুধুই দীর্ঘ আখ্যায়িকার মূল চরিত্রবলে।

এভাবে তুলনার বিনাশ শেষে দেখা গেল নতুন ত্বকের মতো
শান্ত আর স্নিগ্ধ এক বহেড়া গাছের ছায়ায় খানিকটা জিরিয়ে নিচ্ছে সে।
ব্যাস আর ব্যাসার্ধের বাহিরে এসে নিশুতির মতো নিরানন্দে।
ঘামের ঘনিষ্টতাকে অনেকটা আপন মনে করে পড়েছে ঢলে অগভীর ঘুমে।

দেখিÑ উপরাজ্যের এতকিছু ফেলে
শিশুতোষ ব্যাকরণে আচ্ছামতো জড়িয়ে আছে সে।
এক হাতে কচি লাউ, অন্য হাতে গ্যাসবিল। তাকে কেন্দ্র ক’রে
দূরত্বের দুরবিনে দেখা যায় এপাশে বাজার। ওপাশে ব্যাংক-বাড়ি।

হেমন্তের পর এসেছে বসন্ত।
সব কেমন শান্ত আর শুকনো পাতার মতো অহেতুক এলোমেলো।
তবু জগৎযাচিত হয়ে কে যেন তীব্র এক চিৎকারে জাগিয়ে দিলো তাকে।
আর অমনি কতো জারুল আর জামরুল
ঝুরঝুর করে খসে পড়লো বৃত্ত কষে তাকে।
যেন পিঠে পড়লো হাজারো কিল।
ওদিকে আগন্তুক চিলচিৎকারে ডাকে আর হাসে- এই যে নকুল-দা,
বাড়ি যাবেন না? আজ তো আটাশে এপ্রিল!



জাম্পকাট

অনেকগুলো ভুল
তাকে ঘিরেই ঘূর্ণায়মান বিচিত্র সব ফুল।
জেগেও শব্দহীন
কাঞ্চা বাঁশে ঘুণ ধরেছে সুরের কাছে ঋণ।
নদীর মধ্যে যদি
পাল ছিঁড়ে যায়, হাল ভাঙে তো জলেই সমাধি।
ঘুঙুর বাজে পায়ে
অর্থ কেবল ডাইনে চলে মাতাল চলে বায়ে।
মাটির তৈরি বাটি
ধরলে পুরুষ ফাটল ধরে নারীর কাছে খাঁটি।
ক্ষমার কাছে এসে
গোলাপ দিয়ে জমাও আলাপ সামান্য হোক কেশে।
আলোকদীপ্ত পথ
কবির কাছে কাব্য ফোটে পাঠক তোলে মত।



ধানের লজ্জায় মুখরিত

প্রতিভার চাপে যে-মুখ একদা উদ্ভাসিত
তথ্যে ছিলো ভরপুর- নির্বাচিত তরঙ্গে বাহিত।

শুধু বর্ণদোষে দুঃস্থ বালিকার ধানে
কেন তবে লুকিয়েছো তুমি?

দেখি শ্রেণির সরলে প্রকাশিত হতে চাও;
ঘটনাবিহীন অকারণে,
বিচিত্র বিতর্কে ভূমিকার বিনিময়ে।

ধরা পড়ো কেন্দ্রীয় লজ্জায়, যেন পাতাবাহারের মতো;
মাধ্যমিকে ফেল করা তুমুল ছাত্রীর চোখে
ঝরে পড়ো বিরল বৃষ্টিতে
গোপনে, স্বপনে, পাতার প্রথমে।

বহুদিন হলো অহেতুক লিখে যাওয়া
আমাদের ইতিহাস কালিহীন কার্বণে;
হিজিবিজি- ঠিক যেন তার মতো।

সর্বশেষ সংবাদ