বাংলা ফন্ট

চন্দ্রকেশির কবিতা

14-06-2018

 চন্দ্রকেশির কবিতা


কামাখ্যা পর্ব

এভাবে পূর্ণ জাগ্রত হল সময়। যেনবা আমার সাপ বের হয়ে এল ওর মুখ দিয়ে। ও অন্তর্দশা হয়ে আছে... আমি তো চন্দ্র... মানে দেহ। কালগুরুর কাছে একটা হেস্তনেস্ত ভেবে সেই ফল খেয়ে ফুলে উঠেছে দুই ঠোঁট। আঃ সভ্যতা! ওঃ সভ্যতা!

গুরুপূর্ণিমায় ওগো
নিপাতন ছায়ায়, ওগো
ঝুলছে চাঁদালে...
শেষনাগ এসে বসে শিয়রের পাশে।
শুয়ে পড়ে। তুমি বিসর্জন দিলে
হায়! আমি জেগে থাকি।
ব্রক্ষ্মপুত্র নদ
হাওয়ায় সামিল হয়ে
সাদা, দাগা, অতীতের পাথরের মত
কাছে আসে।
কাছে আসে নাগ-
দ্বৈত, জটা ধরা চুল, সিলিংফ্যান,
ফিতে, যেন,
ঐ বসে আছে শেষ নাগ।
গুরু পূর্ণিমায় ওগো
ঢেউ চলে গেছে
বালুভাঁজ রেখে গেছে তোমার মেখলা চাদরে।


কামাখ্যা ২

এসব লুকোনো সেই চুমুর অন্তরে।
ঠোঁট নয়, পাথরের কথা বলা জিভ
মন্দির মসজিদ আর
ভালা হো
ভালা হো রব
যা কিছু সূক্ষ লাগে
তা তত সূক্ষ নয়, চুলকানি কেবল।
শীতে ছুঁয়ে দেখ
রাঙ্গা ঠোঁট ফেটে ফেটে আছে
বুঝবে জ্বালা কত আছে বামে...
এভাবেই লিঙ্গ হল
নাহলে কিভাবে উমা নন্দ হল
তুমি না হলে
কিভাবে আমি-
মানে কৌ কিভাবে চন্দ্র হল।
কামাখ্যা ৩

বরফের পাশ থেকে গলা বরফের পাশে এলাম।
মাধুরী মা
তুমি পাশাপাশি ছবি তুলে নিলে;
তামরুলে কিছু মেদ গলে গেল
কালোয় দ্রাঘিমা উর্জা
সব হারানোর পরচুলা
ওহো, এইবার ডিসটিল ওয়াটার
দেখো ঝরণা হয়ে
জড়িবুটি হয়ে
দিলো সেই গুপ্ত রূপ।
বলো
ডালিম
পেয়ারা
পাতা
দাঁত দিয়ে রক্ত পড়েছে
আতা আর ফিটকিরি
ফুটিয়েছি
সকল গোলাপ জলে।
এসব কি জানে
যারা
পশু হয়ে মানুষ সেজে আছে?
কাঠচাঁপা গাছ জুড়ে
বয়সের গুঁড়ি সেজে আছে?
শিকড় জেনেছে শুধু
রোমকূপ থেকে
ত্রিশূল উঠেছে কত!

কামাখ্যা ৪

এসব হোল অতনু পরশে।
অতনু জানে কি এসব?
যার তনু জুড়ে মান্ত্রিক ঘোর
মন হয়ে আছে অমর অঘোর
থাবাময় সুতলির সিংহ হয়ে আছে।
কিভাবে পেলে বল
এমন কুমড়া, যার চালময় চাউল ফলেছে!
কোথাও পাইনি আজও
সন্ধ্যার চাল-পানি
মৎস্য পেয়েছি মাংস পেয়েছি
কারণ পেয়েছি, তবু সে ফল ফলেনি।
মাতৃপিতৃবস্তু
যেন কোনো তিল, ধনি, তোমার ঠোঁটের উপর
আহা বমি থুড়ি বিয়ের সিঁদুর কেটে যায়;
কেটে যায় পায়ের মধ্যমায়
কামের আঙট।
কামাখ্যা ৫

দুটো মালা জেগে আছে
দুটো কবি জেগে আছে
আহা, দুই কবি, লেখো একা দুইজনা
এই মৌলবাদের
এই সন্ত্রাসবাদের
এই বাদানুবাদের
হাঁটুতে হরিদাস;
একা জেগে আছে আহা হরিগুরু...

আমি নেই মানে চান্দ্রেয়ী নেই
আমি নেই মানে কৌশিক নেই
হ্যাঁ সে কত নাম নিয়ে তাও সে ও নেই
সেই বহুরূপী নেই।
অস্তরাগের লিকলিকে নাগ
অলংকারের ঝলমলে নাগ
সেই জেগে আছে-
তামার সুতোর মত পাথরের শিবতায়।

সর্বশেষ সংবাদ