বাংলা ফন্ট

ওই দেখা যায় পদ্মা সেতু

02-10-2017
নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম

  ওই দেখা যায় পদ্মা সেতু

ঢাকা: বাংলাদেশে পদ্মা সেতু নির্মাণ নিয়ে অনেক বিতর্ক হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই সেতুটির ওপর আজ এর প্রথম স্প্যান বা লম্বা ইস্পাতের কাঠামো বসানো হয়েছে।

সরকার বলছে, ইতিমধ্যেই সেতুর প্রায় অর্ধেক কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

সরকার আশা করছে, ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই শেষ হবে নির্মাণ কাজ। নিজস্ব অর্থায়নে প্রথমবারের মত এতো বড় একটি অবকাঠামো নির্মাণের যে কাজ সরকার শুরু করেছে, আজ তার কাঠামো প্রথমবারের মতো দেখা যাচ্ছে।

২০১৫ সালের ডিসেম্বরে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল। প্রায় পৌনে দুই বছর পর আজ শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে একটা স্প্যান বা লম্বা ইস্পাতের কাঠামো বসিয়ে দেওয়ার পর দৃশ্যমান হয়েছে পদ্মা সেতু। এসব ইস্পাতের স্প্যানের ভেতর দিয়েই চলবে ট্রেন। আর ওপর দিয়ে চলবে যান বাহন। ফলে এখন পদ্মা সেতুর নির্মাণ নিয়ে আর কোন সংশয়ই রইলো না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সকালে পদ্মা সেতুর প্রথম স্প্যান বসানোর সময় তিনি বলেন, সেতুর সাড়ে ৪৭ শতাংশ কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে।

"পদ্মা সেতু এখন আর কোন রঙ্গিন কল্পনা নয়। এটি এখন দৃশ্যমান বাস্তবতা। আমাদের লক্ষ্য সময়সীমার মধ্যেই এর কাজ শেষ করা।"

বলা হচ্ছে, ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই সেতুর উপর আজ যে স্প্যানটি বসানো হয়েছে, এ রকম আরো ৪০ টি স্প্যান বসানো হবে।

এর মধ্যে ১২টি স্প্যান ইতিমধ্যেই চীন থেকে আনা হয়েছে।

তবে এর মধ্যেই সেতুর নির্মাণ ব্যয় বেড়েছে। ২০১৪ সালে যখন মূল সেতু নির্মাণে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি সই করে সরকার, সেসময় খরচ ধরা হয়েছিল ১২ হাজার ১৩৩ কোটি টাকা। এর সঙ্গে নদী শাসনের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছিল ৮ হাজার ৭০৮ কোটি টাকা। কিন্তু এখন পদ্মা সেতু প্রকল্পের ব্যয় দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ৭৯০ কোটি টাকা।

সেতু সচিব আনোয়ারুল ইসলাম বিবিসিকে বলেন, শুরুতে যতো খরচ হবে বলে ধারণা করা হয় তার সাথে বাস্তবের খরচে কিছুটা ফারাক থাকে।

"বড় প্রকল্পগুলোতে সব সময়ই, ডিজাইনের সাথে বাস্তবের খরচ কিছুটা আলাদা হয়। কারণ, শুরুতে খরচ ধরা হয় নকশার ওপর। কিন্তু বাস্তবে যখন কাজ করা হয়, সেটা কিছুটা বেড়ে যাওয়া স্বাভাবিক ঘটনা। ফলে পুরো প্রকল্প শেষ হলে পরে এই হিসাবটা করা যাবে।"

"তাছাড়া পদ্মা সেতু কিন্তু খুবই জটিল একটি প্রকল্প। এর এক পাইল থেকে অন্য পাইলের মধ্যে পানির নিচে মাটির পরিস্থিতি আলাদা।"

পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরুর অনেক আগে থেকেই এর নির্মাণ নিয়ে নানা বিতর্ক এবং আলোচনা ছিল। পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ২০১৩ সালে বিশ্বব্যাংক এই সেতু নির্মাণ প্রকল্প থেকে সরে দাঁড়ায়।

পরে পাঁচ বছরেরও বেশি সময়ের বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে কানাডার একটি আদালত এ সংক্রান্ত মামলাটি খারিজ করে দেয়।

ফলে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ যখন বাংলাদেশের সরকার নিজস্ব অর্থায়নে শুরু করে, তখন এর ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন অনেকেই। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এটিকে এক ধরণের সাফল্য বলেই মনে করেন বিশ্লেষকেরা।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের একজন গবেষক মুস্তাফিজুর রহমানও বলেছেন, "নিজের অর্থে সরকার এই কাজটি করছে। এর অর্থনৈতিক গুরুত্ব অনেক। কারণ ঐ অঞ্চলের মানুষের কর্মসংস্থান, শিল্প উৎপাদন, যোগাযোগ ইত্যাদি নানা ক্ষেত্রে এই সেতুর ইতিবাচক ভূমিকা থাকবে। সেই সঙ্গে জিডিপিতে দুই শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে।"

তবে, রহমান বলেছেন, প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে যাবার কারণে সেটি সামাল দেবার বিষয়টি নিয়ে সরকারকে ভাবতে হবে। এজন্য উদ্বোধনের পর সেতুর টোল ও অন্যান্য খাত থেকে যুক্তিযুক্ত হারে অর্থ সংস্থানের ব্যবস্থা করার কথাও বলেছেন তিনি।

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম/এইচএমএল


সর্বশেষ সংবাদ