বাংলা ফন্ট

সাধারণ উকিল থেকে যেভাবে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা

21-08-2017
নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম

 সাধারণ উকিল থেকে যেভাবে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা
ঢাকা: সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়কে ঘিরে আলোচিত বিচারকে পরিণত হয়েছেন সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। সবার মুখে মুখে বিচারপতি সিনহার নাম। দেশে বিদেশেও আলোচিত হচ্ছেন তিনি। নিকট অতীতে নির্বাহী বিভাগকে চ্যালেঞ্জ করে তার মতো এতো সাহসী রায় কোনো বিচারক দেননি।

তিনিই দেশের ইতিহাসে অমুসলিম ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী থেকে প্রথম প্রধান বিচারপতি। এস কে সিনহার বাড়ি মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জের আলীনগর ইউনিয়নের তিলকপুর গ্রামে। জন্ম ১৯৫১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি।

জানা যায়, ১৯৭৪ সালে সিলেট বারে তিনি সাধারণ আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর ১৯৭৮ সালে হাইকোর্টে এবং ১৯৯০ সালে আপিল বিভাগে তালিকাভুক্ত হন সুরেন্দ্র কুমার সিনহা।

পরে সিনহা হাইকোর্টে বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ১৯৯৯ সালের ২৪ অক্টোবর। আপিল বিভাগে যোগদান করেন বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০০৯ সালের ১৬ জুলাই। প্রধান বিচারপতি হন বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারি।

অবশ্য খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেছেন, বর্তমান প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা ৯৯ সালে রাজনৈতিক বিবেচনায় বিচারপতি হয়েছিলেন।

অবসরের বয়স অনুযায়ী ২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারি অবসরে যাবেন বর্তমান এই প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা।

তবে এর আগেই ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কের মুখে তার পদত্যাগের গুঞ্জন রয়েছে। সব বিতর্ক ছাপিয়ে এ গুঞ্জনই এখন আকাশে-বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে। এই গুঞ্জনে নতুন মাত্রা পেয়েছে প্রধান বিচারপতির নতুন একটি মন্তব্যে। অধ:স্তন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা বিধি নিয়ে আদালতে অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম আবার সময় প্রার্থনা করেন। তখন সময় প্রার্থনার সঙ্গে ষোড়শ সংশোধনী নিয়েও কথা বলেন বিচারপতি সিনহা। প্রধান বিচারপতি এ সময় মন্তব্য করেন, ‘ আমরা বিচার বিভাগ ধৈর্য ধরছি। আজকে একজনের কলামিস্টের লেখা পড়েছি… সেখানে ধৈর্য ধরার কথাই বলা হলো। পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট প্রধামন্ত্রীকে ইয়ে… করল। সেখানে কিছুই (আলোচনা-সমালোচনা) হয়নি। আমাদের আরও পরিপক্কতা দরকার।’

প্রধান বিচারপতির এই বক্তব্যে তার বিরুদ্ধে চলমান সমালোচনা আরো তীব্র হয়েছে সরকারি মহলে। এদিকে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় ও রায়ের পর্যবেক্ষণ নিয়ে সরকার ও বিচার বিভাগের মধ্যে মুখোমুখি অবস্থানের পর ‘মেঘ কেটে গেছে, হাসি দিবে সূর্য’ বলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের মন্তব্য করলেও পরিস্থিতি এখনো অপরিবর্তিত। প্রধান বিচারপতির বাসভবন থেকে বঙ্গভবন পর্যন্ত টানা দৌড়-ঝাপ করা হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি বলে জানা গেছে। সমঝোতার চেষ্টায়ও সফলতা আসেনি।

প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের বৈঠক, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ওবায়দুল কাদেরের বৈঠক ও পরে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও প্রধান আইন কর্মকর্তা মাহবুবে আলম- এর বৈঠক হয়। কিন্তু তাতেও আশানুরূপ ফল আসেনি। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের পর সরকারের কঠোর অবস্থানেও অনড় প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা। তাছাড়া রবিবার প্রধান বিচারপতি যে বক্তব্য দিয়েছেন তাতে তার অনড় অবস্থান আরো স্পষ্ট হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম/এইচএমএল



সর্বশেষ সংবাদ