বাংলা ফন্ট

চিকিৎসার নামে কি হচ্ছে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ?

20-08-2017
নিজস্ব প্রতিবেদন ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম

 চিকিৎসার নামে কি হচ্ছে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ?

ঢাকা: সেবার ব্রত নিয়ে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হলেও পুরোটাই চলছে বাণিজ্যিক মনোভাবে ও চরম অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে। ১৯৯৭ সালের ১লা নভেম্বর বহির্বিভাগে মহিলা ও শিশুদের শুধুমাত্র সাধারণ চিকিৎসা এবং অন্ত:বিভাগে শুধুমাত্র অপুষ্ট শিশুদের সেবা দানের মাধ্যমে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল ঢাকা শাখার কার্যক্রম শুরু করে। এই হাসপাতালের অবস্থান ঢাকার বড় মগবাজার এলাকায়।

অনেকেই হয়তো জানেন না আশির দশকে এই হাসপাতালটি যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা’’সেভ দি চিলড্রেন” কর্তৃক পরিচালিত ৬০ শয্যা বিশিষ্ট একটি “শিশু পুষ্টি কেন্দ্র” হিসেবে পরিচিত ছিল। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর “সেভ দি চিলড্রেন” কর্তৃপক্ষ এটি পরিচালনার দায়িত্বভার আদ্-দ্বীন এর উপর ন্যস্ত করে।

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল মহিলাদের গর্ভকালীন স্বাস্থ্য সেবা। অল্প খরচে মহিলাদের গর্ভকালীন সময়ে মানসম্মত সেবা ও গর্ভস্থ শিশুর নিয়মিত পরীক্ষাসহ গর্ভাবস্থার অধিকাংশ সমস্যার চিকিৎসা সেবা দেওয়ার কথা বলা হলেও খরচ একেবারে কম নয়। বরং দিন দিন খরচ বাড়ানো হচ্ছে। আর রোগী নিয়ে যারা ভর্তি হচ্ছেন তাদের গুনতে হয় অনেক টাকা।

এ হাসপাতালের বাইরে ব্যাপক চাকচিক্য এবং ইসলামী কথা বার্তা থাকলেও রোগীদের সেবাদানে রয়েছে ব্যাপক গাফিলতি, বিশেষ করে যে সকল রোগী হাসপাতালটিতে ভর্তি হয় তাদের প্রতি আদ দ্বীনে হাসপাতালের অবহেলা এখন খুব সাধারণ ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে এক রোগীর অভিভাবকের ফেসবুক স্ট্যাটাসটি পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে দেয়া হল-
আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার নামে হচ্ছেটা কি ?
দেশের হাসপাতাল গুলো কি মগের মুল্লুকে পরিণীত হয়েছে ?
প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি !
গত ১৪ আগস্ট ২০১৭- বিকেলে সুস্থ সবল আমার ছোট বোনের বাচ্চা হবে
তাই কারো সাহায্য ছাড়াই আদ্-দ্বীন হাসপাতালে যায় চেকআপের জন্য,
তারপর ডাঃ তাকে দেখে বলল কাল সকালে অপারেশন লাগবে,
রাজি হলাম আদ্-দ্বীন এর পূর্বের ভালো সেবার কথা মনে করে।
পরদিন ১৫ আগস্ট সাড়ে ১০টার দিকে তাকে অপারেশনে ঢুকানো হল- এক ঘণ্টা পর থেকে খোঁজ নিলেও- ওখান থেকে কেউ বলছে ও.টি চলছে আবার কেউ বলছে একটু পরে হবে- সিরিয়ালে আছে। ১২টা ১০ এ বাচ্চা আমাদের হাতে দেয়া হল, আমরা বাচ্চার মার কথা জানতে চাইলে বলে ভাল আছে। ২টার দিকে বারবার খোঁজ নেয়ার পর একসময় এসে বলে রোগীর স্বামীকে ঢুকতে বলেন, দুর হতে দেখায়ে দিয়ে বলে রোগী অবজারভেশনে আছে সময় লাগবে। ৪টা ৫টার সময় যখন আমরা অস্থির হয়ে পরি তখন আমাকে একজন বলেন- রোগী এখন একটু ভালো আছে, আমার সন্দেহ হলে দেখতে চাই, কিন্তু দেখতে দেয়া হচ্ছ না। আবার রোগীর অসুবিধা হয় মনে করে বেশি কিছু বলি না। এভাবে বারবার জানতে চাওয়া হলে একজন এসে বলে রোগীর কখন জ্ঞান ফিরবে বলা যাচ্ছেনা, দুই তিন দিনও লাগতে পারে। আমরা অস্থির হই এবং দেখতে চাই কিন্তু বারবার ওই রোমে যাওয়া যাবেনা বলে বাধা দিচ্ছে বাধ্য হয়ে কমপ্লেইনের নাম্বার দিয়ে ফোন করে ঘটনার কথা জানালে ওই ব্যবস্থাপক দৌড়ে এসে আমাদেরকে নিয়ে ভিতরে ঢুকে দেখি রোগীর ৪ হাত-পা সিটের সাথে টাইট করে বাঁধা...

বেঁধে রাখার কথা জানতে চাইলে কেউ সদোত্তর দিতে পারেনি তবে একজন বলল- রোগী বারবার নড়াচড়া করে এজন্য-
আর কোনো ডাক্তার নাই, নার্সেরা যারযার মত করে গল্প করছে রোগীর ব্যবস্থা নেয়া কোনো নজির নাই।
বলার পর বলছে- আমাদের ICU নাই, কিছুই করার নাই, আপনারা নিলে নিজের রিস্কে নিয়ে যান..
আমরা পরে ঢাকা মেডিকেলে নিলে ডিউটি ডাক্তার বলেন- ইমারজেন্সি ICU লাগবে, আমাদের খালি নাই। তারপর হলিফেমিলীতে ভর্তি করাই...

কপি পোস্ট - Kazi Monir Hossain

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম/এইচএমএল


সর্বশেষ সংবাদ